advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনাকাল শ্রমিক বানাচ্ছে শিশুদের

রংপুর প্রতিনিধি
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:১৬
advertisement

করোনা সংক্রমণের ঝাঁপটায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে রংপুর জেলার চার লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা। আট মাসেরও বেশি স্কুল বন্ধ থাকায় পাঠক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুরা। টেলিভিশন-অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে জড়িয়ে পড়ছে শিশুশ্রমে। দেখা দিয়েছে বাল্যবিয়ে বৃদ্ধির শঙ্কা।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও অনলাইনে দূরশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। কিন্তু গ্রামে এমন অনেক পরিবার আছে যাদের বাড়িতে টেলিভিশন নেই, নেই অ্যান্ড্রয়েট ফোন। এ দুষ্প্রাপ্যতা বা পরিবারের সঙ্গতি না থাকায় সরকারের বিকল্প এ উদ্যোগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না প্রান্তিক শিশুরা।

রংপুর শহরতলির নাচনিয়ার ফরিদুল চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। এবার পঞ্চম শ্রেণিতে উঠবে, তা নিয়ে কত স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু করোনা তাকে মুখোমুখি করেছে অন্য এক বাস্তবতার সঙ্গে। কাজের জন্য বাবার সঙ্গে এখন সহযোগী সে।

শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। কয়েকজন জানালেন, স্কুল নেই, পড়ালেখা নেই বেকার ঘুরে বেড়িয়ে বখে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন ছেলেমেয়ে নিয়ে কাজে যান তারা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএম শাহজাহান সিদ্দিক জানালেন, বড় সংখ্যায় ঝরে পড়ার শঙ্কা থেকে স্কুল ফিডিং, উপবৃত্তিসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালু রেখে মনিটরিং বৃদ্ধির মাধ্যমে ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, টেলিভিশন ও অনলাইন ক্লাসের সুযোগ বা সঙ্গতি অনেকের নেই। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মিজানুর রহমান বলছেন, প্রতিটি পরিবারে অ্যান্ড্রয়েট ফোনের ব্যবস্থা করা জরুরি। প্রত্যন্ত অনেক গ্রামে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক নেই। তাই ইন্টারনেট অফলাইনে কোর্স ম্যাটেরিয়াল রাখা হলে সময় সুযোগ করে দেখে নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

রংপুর জেলার এক হাজার ৪৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার।

advertisement
Evaly
advertisement