advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সাঘাটায় বন্যায় ভেঙেছে ব্রিজ-কালভার্ট বাঁশ-কাঠের সাঁকোও নড়বড়ে

মিজানুর রহমান রাঙ্গা সাঘাটা (গাইবান্ধা)
৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:১৬
advertisement

পর পর চার দফা বন্যায় ভেঙে গেছে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক-ব্রিজ-কালভার্ট। ভেঙে যাওয়া সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্টগুলোয় স্থানীয়ভাবে তৈরি করা বাঁশ-কাঠের সাঁকোগুলোও নড়বড়ে হয়ে গেছে। মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এগুলো। ২০১৯ সালের পর ১৬ মাস অতিবাহিত হলেও ভেঙে যাওয়া স্থানগুলোতে ব্রিজ নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই।

এবারের বন্যায় উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের গুজিয়া সড়কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ রাস্তা প্রকল্পের আওতায় ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালভার্টটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। এপার-ওপারে দুটি গ্রামের প্রায় ৬শ পরিবারের চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ এলাকা ইউনিয়নের পশ্চিমে ভেতরে হওয়ায় কষ্টের খবর কেউ নেয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

একইভাবে ২০১৯ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া বোনারপাড়া-ত্রিমোহনী সড়কে ৩টি স্থানে, বাজিদনগরে একটি স্থানে, হলদিয়ায় ২টি স্থানে, পদুমশহরে ২টি স্থানে স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করা কাঠ-বাঁশের সাঁকো। যানবাহনের চাপে নড়বড়ে হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে সাঁকোগুলো। উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দাখিল মাদ্রাসা রাস্তার ৫০ ফুট, নলছিয়া থেকে জুমারবাড়ী পাকা রাস্তায় ২০ ফুট, ম-লপাড়া হতে আমদিরপাড়া ওয়াপদা বাঁধ পর্যন্ত দুটি স্থানে ৩০ ফুট ও কামালেরপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলি নামক স্থানে প্রায় ২৫ ফুট পাকা সড়ক এবং হলদিয়া থেকে গোবিন্দপুর স্কুল পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে সড়ক ভেঙে গেছে। এ ছাড়াও বোনারপাড়ার পশ্চিমবাটি-দুর্গাপুর সড়কটির প্রায় ২০টি স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। দুই পাশে ধসে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখন সড়কটির এমনই অবস্থা যে রিকশাভ্যানও চলতে পারে না। এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। তারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পশ্চিম বাটি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় বিভিন্ন সবজি বাজারে নিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। অধিক টাকা ব্যয় করে অনেক পথ ঘুরে বাজারে ধান নিয়ে যেতে হয় বলে জানালেন একই এলাকার কৃষক ফারুকুল ইসলাম।

একই অবস্থা উপজেলার জুমারবাড়ি-সাঘাটা সড়কের। ৬ কিলোমিটার সড়কে অন্তত ৫০টি স্থানে পিচ উঠে বড় গর্ত ও দুপাশের মাটি ধসে গেছে। অতি ব্যস্ততম এ সড়কটি দিয়ে চলতে প্রতিদিন ছোট-বড় দুঘটনার শিকার হচ্ছে লোকজন। এ ছাড়া উপজেলার ১০ ইউনিয়নে প্রায় ২০ কাঁচা গ্রামীণ সড়কও ভেঙেচুরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

হলদিয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল বাতেন জানান, ভালো রাস্তাগুলো বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত করা খুব কষ্ট হচ্ছে লোকজনের। এদিকে বিগত বছর উপজেলার বোনারপাড়া-গোবিন্দগঞ্জ সড়কটির ওপর নির্মিত তিনটি ও বোনারপাড়া-ভূতমারা সড়কের রেলগেট এলাকায় একটি সেতু ভেঙে ভেসে যায়। এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলাম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এলাকা সার্ভে করা হয়েছে। এখন বরাদ্দের অপেক্ষায় আছি।

advertisement
Evaly
advertisement