advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢাকার আহ্বান
রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে ভুলভাবে ব্যাখ্যা নয়

৫ ডিসেম্বর ২০২০ ১২:০৭
আপডেট: ৫ ডিসেম্বর ২০২০ ১২:০৭
advertisement

ভাসানচর আশ্রায়ণ প্রকল্পে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর নিয়ে সরকারের প্রকৃত প্রচেষ্টাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়। খবর ইউএনবির।
বিবৃতিতে বলা হয়, কক্সবাজারের জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং
ভূমিধসসহ যে কোনো ঝুঁকি এড়াতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। বাংলাদেশ সরকার অস্থায়ীভাবে আশ্রয়প্রাপ্ত মিয়ানমার নাগরিকদের আশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের অধিকার, দ্রুত নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন শুরু করার কাজে জড়িত, যা এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। কক্সবাজার ক্যাম্পগুলোতে নানা ঝুঁকি এড়াতে সরকার পর্যায়ক্রমে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি আগ্রহী রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু জন্ম নেওয়ায় রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের এই হতাশাগ্রস্ত লোকদের দীর্ঘাদিন থাকার কারণে তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য সরকার জরুরিভাবে ভাসানচরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়। সূত্র অনুযায়ী দ্বীপটির উন্নয়নে সরকার ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১৩ হাজার একরের ভাসানচর দ্বীপে বছরব্যাপী মিঠা পানি, চমৎকার হ্রদ ও যথাযথ অবকাঠামো ও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, কৃষিজমি, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, দুটি হাসপাতাল, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, গুদাম, টেলিযোগাযোগ পরিসেবা, থানা, বিনোদন ও শিক্ষাকেন্দ্র, খেলার মাঠ ইত্যাদি রয়েছে।
এটি কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোর অস্থায়ী কাঠামোগুলোর মতো নয়, ভাসানচরের আবাসনটি কংক্রিট দিয়ে নির্মাণ করা, যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও অক্ষত থাকবে। সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্পানেও ভাসানচর দ্বীপটি সুরক্ষিত ছিল। জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা সত্ত্বেও দ্বীপের এক হাজার ৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি। দ্বীপটি নৌপথ দিয়ে মূল ভূখ-ের সঙ্গে সংযুক্ত। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য উপযুক্ত স্যানিটেশন এবং চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। এতে হাসপাতাল, পর্যাপ্ত কোভিড-১৯ টেস্টিং এবং চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। সরকারি সংস্থা ছাড়াও স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য সব সহায়তার জন্য প্রায় ২২টি এনজিও রয়েছে। নারী পুলিশসহ পুলিশ সদস্য মোতায়েনের সঙ্গে দ্বীপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এলাকাটি পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরার আওয়তায় রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা প্রতিনিধি ভাসানচরের সুবিধাগুলো দেখতে গিয়েছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরাও দ্বীপটি পরিদর্শন করেছেন। তাদের স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রথম থেকেই খুব স্পষ্ট ও স্বচ্ছ। যারা আগ্রহী তাদেরই সেখানে স্থানান্তর করা হবে। সবাই ভাসানচরের সুবিধাগুলো নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সিনিয়র সাংবাদিকদের একটি দল ইতোমধ্যে ভাসানচরে রয়েছে। এ ছাড়াও স্থানান্তরের আগে বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়। আশা করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ খুব শিগগিরই এই প্রক্রিয়াতে যুক্ত হবে।

advertisement
Evaly
advertisement