advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ইউজিসিকে অকার্যকর রাখা যায় না
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে এর পুনর্গঠন জরুরি

১১ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২১ ০০:১২
advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে এর একজন সাবেক চেয়ারম্যান ঠুঁটো জগন্নাথ আখ্যা দিয়েছেন। গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কার্যত ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার’- এই প্রবচনের সঠিক দৃষ্টান্ত। কিন্তু কথা হলো শিক্ষা যদি দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর একটি হয়ে থাকে তা হলে সর্বোচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকে কেন কেবল তদন্ত ও সুপারিশ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে। এ প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছিল স্বাধীনতার পর পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত আগ্রহেই। তখন দেশে মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬টি- সবই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আর আজ ৪৭ বছর পরে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয় চালু রয়েছে। যে কেউই বুঝতে পারবেন এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এত পুরনো একটি কাঠামোর ওপর চলতে পারে না। বর্তমানে তাই উচ্চশিক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা নিশ্চিত করা ইউজিসির জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমরা জানি গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হতে শুরু করেছে। কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগই আইনি বিধান মানার তোয়াক্কা করছে না। ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, সিন্ডিকেট-সিনেট গঠন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়োগদান, গ্রন্থাগার ও গবেষণার উপযুক্ত পরিসর ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নিজস্ব যোগ্য অভিজ্ঞ ফ্যাকাল্টি নিয়োগদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে এদের সবারই কমবেশি দুর্বলতা রয়েছে। নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের বাধ্যবাধকতাও মানা হচ্ছে না। বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও মামলা রয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়োগ এবং উন্নয়ন কাজ নিয়ে দুর্নীতির প্রচুর খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। এগুলোর তদন্ত হলেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় না। ইউজিসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ পাঠালে মাঝে মাঝে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অধিকাংশ সময়ই সংস্কারের বেশি কিছু পাই না। ফলে উচ্চশিক্ষার মান এবং পরিবেশের অধোগতি ঠেকানো যাচ্ছে না।

২০১২ সালে ক্ষমতা বাড়িয়ে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ নামে ইউজিসিকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ থেকে এটি একবার ফিরে এলেও প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অথচ এভাবে আইনটি মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে ৮ বছর ধরে আর দেশের উচ্চশিক্ষার অবনতি দিন দিন লজ্জাজনক পর্যায়ে নামছে। দেশে এ ধরনের বেশকিছু স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা আছে যেগুলো নিজস্ব আইনের ভিত্তিতে নিজের লোকবল নিয়ে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এর বড় দৃষ্টান্ত। এগুলোর যেমন ক্ষমতায়ন ও স্বাধীন ভূমিকা কাম্য, তেমনি যে নামেই হোক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা পালন জরুরি। আমরা আশা করছি সরকার এদিকে দ্রুত দৃষ্টি দেবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

advertisement
Evaly
advertisement