advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মাস্টারমাইন্ডের ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা
বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান হোক

১১ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২১ ০০:১২
advertisement

রাজধানীর কলাবাগানে বন্ধুর বাসায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেলের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা গত শনিবার মোমবাতি প্রজ্বালন ও মানববন্ধন করেন। বাংলাদেশে ধর্ষণ কার্যত এক অপ্রতিরোধ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অত্যন্ত কঠোর আইন, নারী অধিকার সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ, সংবাদমাধ্যমের লেখালেখি- কোনো কিছুতেই ধর্ষণকারীদের দৌরাত্ম্য কমছে না। দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবকিছুর মূলে আছে মূল্যবোধের অভাব। অবাধ পর্নোগ্রাফির বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বল্প পরিচয়ের পর ওই ছেলের সঙ্গে বাছবিচার না করে মেলামেশা, ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেটে কোন সাইট দেখছে, তা-ও অভিভাবকরা কখনো নজরে আনছেন না।

পরিবার, সমাজে অন্যের ‘অনুমতি বা সম্মতি’ নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, পৌরুষত্বের সনাতনী ধারণায় পরিবর্তন আনতে হবে, ধর্ষণকে প্রেম-বন্ধুত্বের নামে একে ‘বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না, চোখের সামনে ধর্ষণ হচ্ছে অথচ নির্বিকার, নিষ্ক্রিয় থাকার কাপুরুষতা পরিহার করতে হবে, সামাজিক বা আইনগত হয়রানি, অসম্মানের ভয়ে ধর্ষণের ঘটনা লুকিয়ে রাখা যাবে না। আর ধর্ষণ প্রতিরোধে শুধু নারীকে সতর্ক থাকতে বললে হবে না, পুরুষকেও ‘ধর্ষণ করবে না’ এই বার্তা বারবার দিতে হবে।

একটা বিষয় স্পষ্ট যে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য কঠোর আইন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের খবর যত বেশি পাওয়া যায়, এসব অপরাধের দায়ে অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তার চেয়ে অনেক কম। অপরাধ করে পার পাওয়া যায়- এ ধরনের বিশ্বাস থেকে অপরাধীরা অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়। এটা শুধু পেশাদার অপরাধীদের ক্ষেত্রে নয়, যে কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংস অপরাধের রাস টেনে ধরার জন্য প্রথম কর্তব্য এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে গতি সঞ্চার করা। তবে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে নারীর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু আইনের শাসনই যথেষ্ট নয়, সামাজিক শক্তিরও প্রবল সমর্থন প্রয়োজন। নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে নারীর মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য সামাজিক শক্তিগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement