advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কার্যকর উপজেলা প্রয়োজন
স্থবিরতা নয়, গতিশীল প্রশাসন চাই

১২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:২৬
advertisement

দেশের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে ব্রিটিশ আমলের পরে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে এরশাদের সময়। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি তার নৃশংস হত্যাকা-ের কারণে। এর দুই দশক পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১৯৯৮ সালে উপজেলা পরিষদ আইন প্রবর্তন করে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তরটিকে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু নানা কারণে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদেরই বারবার ক্ষমতায়ন হয়েছে। যার ফলে এ স্তরে চেয়ারম্যান পদে কেউ নির্বাচিত হলেও তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তার কারণে ক্ষমতা ভোগ বা প্রয়োগ করতে পারেন না।

সম্প্রতি আমাদের সময়ের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সরকার বরাবরই একই পথে হেঁটে বহু বছরের পুরনো জট ছাড়াতে পারছে না। ফলে উপজেলা পরিষদের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘায়িত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে গত ডিসেম্বরে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন পেশ করেছে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ, যেটি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের সমিতি। এই রিটে উপজেলা পরিষদ আইনের যে ধারাটি মূলত চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে তা উপজেলার ১৭টি দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ বাস্তবায়নে ও ব্যয়ের নির্দেশনা আসছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে। এদিকে মাঠ পর্যায়ে তাদের কাজের সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ফলে উপজেলা চেয়ারম্যানরা জনপ্রতিনিধি হলেও তারা বাস্তবে ক্ষমতা বা দায়িত্ব কোনোটাই পাচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন দপ্তরের নথি ও কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে উপস্থাপনের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রজ্ঞাপন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে না এলে তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর বাধ্যতামূলক হবে না। অতীতেও বারবার এ ধরনের নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আবারও সে রকম একটি নির্দেশনা দিয়েছে। এখন নিরুপায় উপজেলা চেয়ারম্যানদের মামলার দিকে যেতে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে উচ্চ আদালত সরকারের ১৬ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করে কারণ দর্শাও নোটিশ জারি করেছেন। আশা করা যায় এবার হয়তো সরকার সঠিক পথে এগিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সক্ষম হবে।

একই সঙ্গে বলা দরকার, একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতেই স্থানীয় সরকারের মূল ক্ষমতা থাকা দরকার। কিন্তু আমাদের আমলাতান্ত্রিক ঐতিহ্য এত শক্ত যে, তাদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেও এগোনো যাচ্ছে না। এটাও ঠিক, সব জায়গায় উপজেলা চেয়ারম্যানরা কাজের উপযোগী দক্ষতা দেখাতে পারেন না। তারা ইউএনওদের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং অনেকেই নিজেরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে দুদিক থেকেই প্রস্তুতি, সদিচ্ছা ও সহযোগিতার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি।

advertisement
Evaly
advertisement