advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

একজন দেশপ্রেমিক ও মানবিক রাজনীতিক

মোহাম্মদ নুরখান
১২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:২৬
advertisement

রাজনীতি। মানুষের জন্য করার, মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম। এ রাজনীতিকে আমরা কেউ কেউ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য আবার কেউ কেউ উপরে ওঠার একমাত্র সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। আবার অনেকেই রাজনীতির মায়াজালে পড়ে মানুষের সেবায়, দেশের কল্যাণে নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিই। মানুষের সেবায় নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া প্রচারবিমুখ এ রকম একজন মানবিক রাজনীতিক চট্টগ্রামের অভিভাবক হিসেবে খ্যাত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। এর আগে তিনি অনেক সময় ধরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান লাহোর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ৬ দফা আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তানে অধ্যয়নরত ছাত্রদের সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তার বাবা মরহুম এস রহমান ছিলেন তৎকালীন স্বতন্ত্র এমপিএ। পারিবারিক সূত্রে ছাত্রাবস্থা থেকেই তার মনে রাজনীতি আর সেবার যে বীজ বপন হয়েছিল ক্ষণিকের জন্যও তা থেকে কখনো বিচ্যুত হননি তিনি। লেখাপড়া শেষ করে স্বধামে ফিরেই জড়িয়ে গেলেন রাজনীতিতে। ১৯৭০-এ বঙ্গবন্ধু কক্সবাজার সফরে এলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সম্মানে তার হোটেল সাইমনে নৈশভোজের আয়োজন করলেন। পাশে বসেই বঙ্গবন্ধুকে খাওয়ালেন সেদিন তিনি। ’৭০-এর নির্বাচনে তিনি এমপিএ নির্বাচিত হন। ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুক্তিযুদ্ধে।

স্বাধীনতার পর তিনি নেমে পড়েন দেশ গড়ার কাজে। হলেন রেলওয়ের প্রশাসক। ’৭৫-র ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তিনি তৎকালীন মোশতাক সরকারের প্রতিমন্ত্রী পটিয়ার নুরুল ইসলাম চৌধুরীর বাসায় গিয়ে মোশতাকের মন্ত্রিসভা থেকে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানান এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে বলেন। পরে চট্টগ্রাম এসে নন্দনকাননের বাসায় বঙ্গবন্ধুর জন্য মিলাদের আয়োজন করেন। জিয়াউর রহমান যখন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক তখনকার একটি ঘটনা। উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে জিয়াউর রহমান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সভা ডাকলেন। সাবেক এমপিদেরও সভায় থাকতে বলা হলো। সাবেক অন্য এমপিদের সঙ্গে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে বক্তব্য দিতে বলা হলো। তিনি বক্তব্যের শুরুতেই জিয়াউর রহমানকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘মেজর জিয়া? যুদ্ধে আমি আর আপনি একসঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম। যুদ্ধের সময় আমরা অস্ত্র দিয়ে ভেতরে লোক পাঠিয়েছিলাম দশজন রাজাকারকে হত্যা করার জন্য। ভাগ্যক্রমে সেদিন অনেকে বেঁচে যায়। দুর্ভাগ্যজনক যে, তাদের পাঁচজন আজ সামনের সারিতে বসা। তখন উপস্থিত সবাই ফিসফিস করছিল মোশাররফ সাহেব কী বলে এসব! সেদিন তিনি বলেছিলেন, আগে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতে হবে, তার পর অন্য কাজ।’ অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি সে রাতেই গ্রেপ্তার হবেন। এভাবেই তিনি সত্য উচ্চারণ করেছেন অকপটে মৃত্যু কিংবা জেল নিশ্চিত জেনেও। জিয়াউর রহমান কয়েক দফায় তাকে তার মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন। অনুরূপ অনুরোধ এরশাদ সাহেবেরও ছিল। তিনি দৃঢ়ভাবে দুজনের অনুরোধই প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৮২ সালে নেত্রীর দেশে ফেরার পর নেত্রীর নির্দেশে নতুন উদ্যমে তিনি দলকে সংগঠিত করার কাজে নেমে পড়েন। নেত্রীর সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। জিয়াউর রহমান যখন ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি দিলেন তখন তার নন্দনকাননের বাসাটি ছিল সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। ’৭০ থেকে এ পর্যন্ত তিনি ৭ বার এমপি হয়েছেন। ২ দফায় মন্ত্রী হয়েছেন। ’৮৬-র সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ ছিলেন ’৭৫-পরবর্তী এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ দেশ এবং দলের সব সংকটময় মুহূর্তে তিনি কখনো মাথা নোয়াননি অসত্যের কাছে। বিশেষ করে নেত্রীর অনুগত ছিলেন সব সময়। নেত্রীর প্রশ্নে সদাসর্বদা ছিলেন আপসহীন। এ দেশপ্রেমিক রাজনীতিকের আজ ৭৮তম জন্মদিন। এ শুভদিনে এ সুন্দর মানুষটির জন্য অফুরান শুভকামনা।

মোহাম্মদ নুরখান : দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ (প্রস্তাবিত কমিটি)

advertisement
Evaly
advertisement