advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সোহরাওয়ার্দী-উত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণ

ড. আতিউর রহমান
১৩ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৬
advertisement

১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর বৈরুতে মারা গেলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু। সেই ১৯৩৮ সাল থেকে সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে রাজনীতির মাঠে হেঁটেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এমন সময়ে প্রিয় নেতাকে হারালেন বঙ্গবন্ধু যখন দেশের অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। সামরিক শাসনের আড়ালে আইয়ুব খান চালু করেছেন তথাকথিত মৌলিক গণতন্ত্র। আগের বছরই ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি জননিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। আর ওই বছরই ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। উদ্দেশ্য একটাই- ক্ষমতাসীনদের শঙ্কা ছিল যে তারা বাইরে থাকলে আইয়ুব খান নির্বাচনে একক কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারবেন না। মৌলিক গণতন্ত্রীদের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করেই আইয়ুব খান এক অধ্যাদেশবলে সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন। ১৯৬২ সালের ৮ জুন শেখ মুজিবকে মুক্তি দেওয়া হলেও সোহরাওয়ার্দীকে মুক্তি দেওয়া হয় ওই বছরেরই ১৯ আগস্ট। (দেখুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, পৃষ্ঠা ১৫৮-১৫৯)।

সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে ১৯৬২ সালের ৪ অক্টোবর পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করা হয়। উদ্দেশ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। আইয়ুব খান তখন মুসলিম লীগকে জনপ্রিয় করার পেছনে লেগেছেন। এনডিএফের প্রথম জনসভা ঢাকায় করার উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দী ৬ অক্টোবর ঢাকায় আসেন। ৭ অক্টোবর আনুমানিক ৫ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এনডিএফের প্রথম জনসভা। ৬ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী ঢাকায় ছিলেন। ১৩ অক্টোবর থেকে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পূর্ববাংলার বিভিন্ন জেলায় সফর করেন। ১৯৬২ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী পূর্ববাংলায় ছিলেন। করাচি ফিরে যাওয়ার পর ৩১ ডিসেম্বর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ১৯৬৩ সালের ১ জানুয়ারি তাকে করাচিতেই জিন্নাহ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৯৬৩ সালের ১৯ মার্চ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লেবাননের রাজধানী বৈরুত। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি লন্ডন আসেন একমাত্র পুত্র রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বসবাস করতে। ৬ মাস সেখানেই ছিলেন। সিরাজ উদ্দীন আহমেদ সে সময় ছাত্র রাজনীতিতে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন, পরে তিনি যুক্ত হন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছয় দফা আন্দোলনে। তিনি তার বইয়ে লিখেছেন, “হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুপস্থিতি ও মওলানা ভাসানীর বিরোধিতার ফলে এনডিএফের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক শূন্যস্থান পুনরুজ্জীবিত দলগুলোর অধীনে চলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অবস্থা অনুধাবন করে শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রিয় নেতার নির্দেশের জন্য লন্ডন গমনের সিদ্ধান্ত নেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৩ সালের ৮ আগস্ট রাতে ঢাকা থেকে লন্ডনের পথে করাচি যাত্রা করেন। তিনি লন্ডনে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অবস্থান করেন। সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবের কাছ থেকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। উভয় নেতার আলোচনাকালে রাশেদ সোহরাওয়ার্দী উপস্থিত ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব করলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী তা প্রত্যাাখ্যান করেন এবং তাকে বলেন যে, তিনি অন্যান্য দলের নেতাদের কথা দিয়েছেন যে, গণতন্ত্র উদ্ধার না করা পর্যন্ত রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবিত করা হবে না। তিনি শেখ মুজিবকে এনডিএফের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ আগস্ট করাচি পৌঁছেন। ঢাকা পৌঁছে তিনি আবুল মনসুর আহমেদের বাসায় বৈঠকে মিলিত হন। তিনি সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে আলোচনার পূর্ণ বিবরণ দেন। দলীয় নেতারা এনডিএফকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।” (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-১৬৮)

দুুর্ভাগ্য এই, তার তিন মাস পরই সোহরাওয়ার্দী মারা গেলেন নিঃসঙ্গ অবস্থায়। কথা ছিল বৈরুতে হারনিয়া অপারেশন করে ১৯৬৪ সালের ৩ কিংবা ৪ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসবেন। ঢাকা ও করাচিতে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য জনগণ অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ৫ ডিসেম্বর রাতে হোটেল কক্ষে হঠাৎ তার বুকে ব্যথা ওঠে। তিনি ডাক্তারকে খবর দেওয়ার জন্য লেবাননি বন্ধু ফ্রান্স কয়েস জিবরেসকে ফোন করার জন্য ফোন হাতে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু টেলিফোনটি পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনলেন টেলিফোন অপারেটর নারী। তিনি কক্ষে গিয়ে দেখেন সোহরাওয়ার্দী মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। যখন ডাক্তার এলেন তখন সব শেষ।

৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সোহরাওয়ার্দীর মরদেহ নিয়ে পিআইএ বিমান ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জানাজা পড়ানো শেষে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর পল্টন ময়দানে এক বিশাল শোকসভার আয়োজন করা হয় সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে। নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত এক শোকসভায় শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতা-পূর্ব ও স্বাধীনতা-উত্তরকালে বহুবার জনাব সোহরাওর্দীকে হত্যা করার চেষ্টা করা হইয়াছে, কিন্তু কোনোবারই সেই ষড়যন্ত্র সফল হয় নাই। অবশেষে জেলে আটক করিয়া তাহার স্বাস্থ্য ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইয়াছে এবং উহাই তাহার মৃত্যুর কারণ। তিনি বলেন যে, জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম করিয়া মরহুমের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে।” (সংবাদ, ২১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৩, সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু, দ্বিতীয় খ-, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট, প্রথম প্রকাশ আগস্ট ২০১৫, পৃষ্ঠা-২৭৭)

মোনায়েম সরকার তার আলোচিত গ্রন্থ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবন ও রাজনীতি’র দ্বিতীয় খ-ে লিখেছেন, “হোসেন শহীদ সোহরাওর্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিবুর রহমান অনুভব করলেন এবং আগেও করতেন, এনডিএফের প্রয়োজনীয়তা নেই। এনডিএফ-কে টিকিয়ে রাখার জন্য কোনো নেতা সোহরাওয়ার্দীর পর আর ছিলেন না। ইতোমধ্যে ন্যাপ, মুসলিম লীগ, জামায়াত পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু করা জরুরি বিষয় হয়ে ওঠে। তাই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতেই শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।” (পৃষ্ঠা-৩০৭)

এর মধ্যে ১৯৬৪ সালের জানুয়ারি মাসেই সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। মানবতাবিরোধী এই হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় কাশ্মীরে ‘হযরতবাল মসজিদ’ থেকে হযরত মুহম্মদ (স)-এর চুল হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে এই দুর্ঘটনাকে প্রকাশ্যে ‘হিন্দু কাফের’দের কীর্তি বলে অভিযোগ আনে। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের জীবন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে, তারা সম্পত্তি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হন। খুলনা অঞ্চলে দাঙ্গার সূচনা ঘটলে খুব দ্রুত তা গোটা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৭ জানুয়ারি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

‘... নারায়ণগঞ্জে ১৪ জানুয়ারি দাঙ্গা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে শেখ মুজিবুর রহমান উন্মুক্ত জনতাকে নিবৃত্ত করতে ছুটে যান এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আহত শত শত হিন্দু শ্রমিককে দেখতে যান। ১৫ জানুয়ারি ঢাকার ওয়ারীতে হিন্দুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সময় তিনি দাঙ্গাবাজদের আক্রমণের মুখে পড়েন।’ (প্রাগুক্ত-৩০৯)

১৬ জানুয়ারি শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ‘দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠিত হয়। ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ শীর্ষক একটি আহ্বানে জনগণের উদ্দেশে লিফলেট প্রচার করা হয়। বঙ্গবন্ধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেই লিফলেট প্রচার করেছিলেন। প্রচারপত্রে লেখা হয়েছিল :

“সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তের ঘৃণ্য ছুরি আজ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য স্থানের শান্তি ও পবিত্র পরিবেশ কলুষিত করিয়া তুলিয়াছে। ঘাতকের ছুরি হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে পূর্ববাংলার মানুষের রক্তে লাল হইয়া উঠিয়াছে। দুর্বৃত্তের হামলায় ঢাকার প্রতিটি পরিবারের শান্তি ও নিরাপত্তা আজ বিঘিœত। হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি পোড়ানো হইতেছে, সম্পত্তি বিনষ্ট করা হইতেছে। এমনকি জনাব আমীর হোসেন চৌধুরীর মতো শান্তিকামী মানুষদের দুর্বৃত্তের হাতে জীবন দিতে হইতেছে। তাহাদের অপরাধ কি ছিল একবার চিন্তা করিয়া দেখুন। গু-ারা মুসলমান ছাত্রীনিবাসে হামলা করিয়াছে এবং হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম আজ মুষ্টিমেয় গু-ার কলুষ স্পর্শে লাঞ্ছিত হইতে চলিয়াছে।

এই সর্বনাশা জাতীয় দুর্দিনে আমরা মানবতার নামে, পূর্ব পাকিস্তানের সম্মান ও মর্যাদার নামে দেশবাসীর কাছে আকুল আবেদন জানাইতেছি: আসুন সর্বশক্তি লইয়া গু-াদের বিরুদ্ধে রুখিয়া দাঁড়াই। শহরে শান্তি ও পবিত্র পরিবেশ ফিরাইয়া আনি।

মনে রাখিবেন, আজ ঢাকা ও অন্যান্য শহরে যে জীবন ও সম্পত্তি বিনষ্ট হইতেছে উহা আমাদের নিজেদের সম্পত্তি, নিজেদের ভাই-বোনদের জীবন। এই গুরুতর ক্ষতি পূর্ববঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর গুরুতর আঘাত হানিবে। আরও মনে রাখিবেন, সীমান্তের অপর পারে যাহা ঘটিয়া গিয়াছে উহাকে মূলধন করিয়া দুর্বৃত্তরা লুণ্ঠন ও অন্যান্য উপায়ে স্বার্থসিদ্ধি করার চক্রান্তে মাতিয়াছে। ইহাদের প্রতি একটি বিশেষ কায়েমি স্বার্থবাদী মহল হইতে প্ররোচনা ও সাহায্য দেওয়া হইতেছে। সর্বশক্তি দ্বারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুশমনদের আজ রুখিতে না পারিলে ভবিষ্যতে এই ঘাতকশ্রেণির ছুরি আমাদের সকলের জীবন ও সম্পত্তির ওপর উদ্যত হইবে। আমাদের চোখের সামনে আমাদের মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হইবে, পূর্ববঙ্গের মানুষ নিজগৃহে পরবাসী হইবে।

পূর্ববাংলার জীবনের ওপর এই পরিকল্পিত হামলার বিরুদ্ধে রুখিয়া দাঁড়াইতে আমরা পূর্ববাংলার সকল মানুষকে আহ্বান জানাইতেছি।

প্রতি মহল্লায় দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করুন।

গু-াদের শায়েস্তা করুন, নির্মূল করুন। পূর্ব পাকিস্তানের মা-বোনদের ইজ্জত ও নিজেদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করুন।” (প্রাগুক্ত-৩০৯)

এখানে একটি বিষয় গভীরভাগে লক্ষণীয়। দেশভাগের আগে শেখ মুজিব ছিলেন মুসলিম লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। বিভাগ-পূর্ব ব্রিটিশ-ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বর্ণহিন্দুদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার দেখে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ালেন। এখানেই এই মহান নেতার মানবিক হৃদয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে মানুষকেই তিনি সবার ওপরে ঠাঁই দিয়েছেন। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রয়োজনীয়তা তিনি জীবন দিয়েই অনুভব করেছিলেন। তিনি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন রাজনীতিতে ধর্মের ব্যাপার থাকলে শুধু হিন্দু-মুসলমান নয়, অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং ধর্মাবলম্বী মানুষরাও নিগৃহীত হবে, বঞ্চিত হবে। এই চেতনা তার মনে দিনে দিনে আরও পোক্ত হয়েছিল। তাই স্বাধীন বাংলাদেশ তিনি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে। আজ যখন বাংলাদেশে আবার এক ধরনের ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে তখন বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। (চলবে)

ড. আতিউর রহমান : ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

advertisement
Evaly
advertisement