advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

টানা তিন দিন উত্থানের পর শেয়ারবাজারে বড় পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২২:৩৫
advertisement

টানা তিন দিন উত্থানের পর কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে শেয়ারবাজারে। গতকাল বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৯১ পয়েন্ট। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৪৯ পয়েন্ট। যদিও বিশেষজ্ঞরা একে মূল্য সংশোধন হিসেবে বলেছেন। এখন থেকে শেয়ারবাজারে এক মাসের মধ্যে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশ বাড়বে বা কমবে, সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত মঙ্গলবার স্টক এক্সচেঞ্জ দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই সিদ্ধান্তের কিছুটা প্রভাব দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। বিএসইসির এ-সংক্রান্ত চিঠিতে এক মাসে যেসব কোম্পানির গড় লেনদেনের পরিমাণ আগের ছয় মাসের গড় লেনদেনের চেয়ে পাঁচগুণের বেশি বেড়েছে, যেসব কোম্পানির বার্ষিক বা প্রান্তিক শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশের বেশি উত্থান-পতন ঘটেছে, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশের আগের ১০ কার্যদিবসে যেসব কোম্পানির দাম ও লেনদেন ৩০ শতাংশের কম-বেশি হয়েছে, সেসব কোম্পানির বিষয়েও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন নির্দেশ

আসার পর গতকাল বুধবার লেনদেন শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। প্রি-ওপেনিং চালু থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী লেনদেন শুরুর আগেই শেয়ারের দাম কমিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন। এতে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪০ পয়েন্ট পড়ে যায়।

লেনদেনের শেষদিকে পতনের মাত্রা আরও বাড়ে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ৯১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে উঠে নেমে গেছে। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সূচকের এমন পতনের সঙ্গে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। এতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়। সেই সঙ্গে দরপতনের তালিকায় নাম লেখায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। ডিএসইতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৮টির। আর ৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন ১ শতাংশের ওপরে দাম কমেছে ২০৮টির। এর মধ্যে ১৬২টির দাম কমেছে ২ শতাংশের ওপরে। ৪ শতাংশের ওপরে দাম কমার তালিকায় রয়েছে ৮২টি। ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে ৬ শতাংশের ওপরে।

মূল্যসূচক ও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১০৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। যা আগের দিন ছিল ১ হাজার ৯৮২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১২৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে রবির শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৩৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর ২২৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৩৬ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

এ ছাড়া লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইতে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বেক্সিমকো ফার্মা, লাফার্জহোলসিম, আইএফআইসি ব্যাংক, সামিট পাওয়ার, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৪৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৪১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৮টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement