advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে প্রাণহানি
বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ১১ জন তিন দিন করে রিমান্ডে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২২:৩৫
advertisement

নগরীর পাঠানটুলি এলাকায় মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী কাউন্সিলরপ্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। নিহত আজগর আলী বাবুলের ছেলে সিজান মোহাম্মদ সেতু এ মামলা করেন। মামলায় সদ্য সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জনকে আটক করে। পরে ১১ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার আদালত তাদের প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিবি পশ্চিম) মো. মনজুর মোরশেদ আমাদের সময়কে বলেন, হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ চলছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায়। তখন ঘটনাস্থলে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ভাঙা পাওয়া যায়। আমাদের ধারণা, হত্যাকা-ে জড়িতদের আড়াল করতেই

এ কাজ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডের মগ পুকুরপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কাউন্সিলরপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল নামে এক ব্যক্তি মারা যান। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মাহবুব নামের একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সংঘর্ষের পর নজরুল ইসলাম বাহাদুরের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা আবদুল কাদের ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দিলে তারা আজিম ম্যানশন নামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। মধ্যরাতে পুলিশ এসে আবদুল কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে যাচাই-বাছাই করে তাদের মধ্য থেকে ১১ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ বলেন, এদের মধ্যে ৬ জন এজাহারভুক্ত এবং ৫ জন সন্দিগ্ধ। মামলায় ৩০-৪০ অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আসামিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আবদুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এমকে কবির হেলাল উদ্দিন ওরফে কমার্স কলেজ হেলাল, ওবায়দুল কবির মিন্টু, আসাদুজ্জামান নূর রায়হান, ইমরান হোসেন ডলার, দিদার উল্লাহ দিদু, মিনহাজ হোসেন ফরহাদ, শহীদুল আলম সাহেদ, জাহিদুল আলম জাহিদ, শহিদুল ইসলাম ও আবদুর রহমান।

আজগর আলী বাবুলের মৃত্যুর জন্য এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ী করেছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলরপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর দাবি করেছেন, আবদুল কাদের নিজেই আজগর আলীকে গুলি করেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি ও তার সহযোগীরা এলাকায় সহিংসতা ছড়ান।

তবে আবদুল কাদেরের একাধিক সমর্থক বলেন, পরিস্থিতি ঘোলাটে করতেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তা না হলে নির্বাচনী প্রচার চলাকালে পিস্তল আসে কোত্থেকে।

আবদুল কাদের নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী আর নজরুল ইসলাম বাহাদুর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। ২০১৫ সালের নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বাহাদুরকে পরাজিত করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আবদুল কাদের। এর আগে ২০০৫ ও ২০১০ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম বাহাদুর। এবারের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বাহাদুর এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন আবদুল কাদের।

advertisement
Evaly
advertisement