advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ওয়াসা এমডির ভূমিকায় ফের উষ্মা প্রকাশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২২:৩৫
advertisement

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ রোধে দেওয়া রায় ও আদেশ বাস্তবায়ন না করায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের ভূমিকা নিয়ে ফের উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, রায় বাস্তবায়নে ওয়াসার এমডির পদক্ষেপ খুবই ধীরগতিসম্পন্ন। এভাবে চলতে থাকলে বুড়িগঙ্গার দূষণ কোনোদিন বন্ধ হবে না, বরং রায় অকার্যকর হয়ে যাবে। আদালত আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে তাকসিম খানকে রায় বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ-পরিকল্পনা হলফনামা করে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধের দাবিতে করা রিটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিবেদনের ওপর শুনানির পর গতকাল বুধবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ভার্চুয়ালি এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঢাকা ওয়াসার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী উম্মে সালমা। ওয়াসার আইনজীবী রায় বাস্তবায়নের ওপর ওয়াসার গত ১১ জানুয়ারি দাখিল করা প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রায়ে থাকলেও বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের জন্য দায়ী শিল্পকারখানার বর্জ্য ও গৃহস্থালির বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ বন্ধে ওয়াসার এমডি কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি যে হলফনামা দাখিল করেছেন, তার সাথে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। রায় বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলে কোনোদিন বুড়িগঙ্গার

দূষণ বন্ধ হবে না।’

শুনানির একপর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ঢাকা ওয়াসার এমডিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘উনি তো পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। নিশ্চয়ই উনি সরকারের কাছে খুব যোগ্যতাসম্পন্ন লোক। নইলে তো পুনর্নিয়োগ হওয়ার কথা না। কিন্তু সরকারের কাছে যোগ্যতাসম্পন্ন হলেও রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উনার যোগ্যতা দেখতে পাচ্ছি না। এটা কেন? রায় বাস্তবায়নে ওয়াসার এমডির পদক্ষেপ অত্যন্ত স্লো। এভাবে চলতে থাকলে বুড়িগঙ্গার দূষণ কোনোদিন বন্ধ হবে না বরং রায় অকার্যকর হয়ে যাবে।’

ওয়াসার আইনজীবী উম্মে সালমা সাংবাদিকদের বলেন, গত এক বছর তিনি রায় পালনের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন দিয়েছেন। সর্বশেষ প্রতিবেদনটি দেন গত ১১ জানুয়ারি। প্রতিবেদন দেখার পর আদালত বলেছেন, এটার একটা শেষ হওয়া দরকার। এভাবে আর কতদিন চলবে? অনেক সময় পার করে ফেলা হয়েছে। আপনি ওয়াসার এমডির সাথে কথা বলেন। আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে উনি (ওয়াসার এমডি) কমপ্লাইনস অ্যাফিডেভিট করে (হলফনামা) বলবেন, এতদিনের মধ্যে যদি কানেকশন থাকে বা যে কানেকশনগুলো আছে, সেগুলো আমি ডিসকানেক্ট করে আমার কাজ আমি শেষ করে দিব।’

পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) বুড়িগঙ্গা নদীর পানিদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে একটি রিট করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১ জুন তিন দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং বুড়িগঙ্গা নদীতে সংযুক্ত সব পয়ঃপ্রণালির লাইন (সুয়ারেজ) ও শিল্পকারখানার বর্র্জ্য নিঃসরণের লাইন ছয় মাসের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা ছিল। ওইসব নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল সম্পূরক আবেদন করে এইচআরপিবি। ওই আবেদনের ওপর শুনানির একপর্যায়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম খানকে তলব করেন হাইকোর্ট। সেদিন আদালত বলেছিল, বারবার সময় নিয়ে রায় বাস্তবায়ন না করে তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। ওয়াসার এমডি ইচ্ছাকৃতভাবে রায় প্রতিপালন করছেন না এবং বারবার এভিডেভিড দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন। আদালত তাকসিম খানকে সতর্ক করে দিয়ে ওইদিন আগামী এক মাসের মধ্যে রায় এবং আদেশের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। পরে গত বছরের ৪ মার্চ তাকসিম এম খান আদালতে হাজির হয়ে রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

পরে ১৮ আগস্ট ও ৭ সেপ্টেম্বর ওয়াসার পক্ষ থেকে আরও দুটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলেও রায় ও আদেশ বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি না থাকায় তা গ্রহণ করেনি আদালত। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ওয়াসার এমডির পক্ষে আরও একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হলে আদালত সেটিও গ্রহণ করেনি। সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করা হলে সেটির ওপর শুনানি শেষে গতকাল ওয়াসার এমডিকে ফের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

advertisement
Evaly
advertisement