advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দিহান উত্তেজক নিয়েছিলেন কিনা পরীক্ষার অনুমতি

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২২:৩৫
advertisement

রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি ইফতেখার ফারদিন দিহান ঘটনার দিন কোনো মাদক বা উত্তেজক ওষুধ সেবন করেছিলেন কিনা, তা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আ ফ ম আসাদুজ্জামান গতকাল বুধবার এ বিষয়ে আবেদন জানালে শুনানি শেষে অনুমতি দেন ঢাকার মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা। নারী ও শিশু আদালতে কলাবাগান থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা স্বপন কুমার এ তথ্য জানান।

এদিকে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয় বলে দাবি তার মায়ের। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার নিষ্পাপ মেয়েকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে- চরিত্রহনন করা হচ্ছে।’ এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ‘মিথ্যা প্রচারণাকারীদের’ সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানান তিনি। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত স্কুলছাত্রীর মা এ দাবি জানান।

দিহানের রক্ত পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আবেদনে বলা হয়, ‘আসামি দিহান সেদিন কোনো মাদক সেবন করেছিলেন কিনা, তা জানার জন্য ডোপ টেস্ট প্রয়োজন। এ ছাড়া যৌন উত্তেজক কোনো ওষুধ তিনি সেবন করেছিলেন কিনা, করে থাকলে সেটি কোন ধরনের ওষুধ, দিহানের

রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন।’ এর আগে গত ১০ জানুয়ারি ডিএনএ টেস্ট এবং জব্দ করা আলামত পরীক্ষার আবেদন করলে একই আদালত তা মঞ্জুর করেন বলে জানান আদালতের নিবন্ধন কর্মকর্তা স্বপন কুমার।

গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানে নিজেদের বাসা থেকে ‘ও’ লেভেলের ওই ছাত্রীকে মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বন্ধু দিহান। তবে তার আগেই মেয়েটির মৃত্যু হয়। পর দিন ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘স্কুলছাত্রীর শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে দিহানের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। পরে তিনি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দেন। বর্তমানে আসামি কারাগারেই আছেন।

অপহরণ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে : নিহত স্কুলছাত্রীর মা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দিহান ও তার সঙ্গীরা গত ৭ জানুয়ারি আমার মেয়েকে নিয়ে যায়। বাসায় নিয়ে ধর্ষণ শেষে তাকে হত্যা করা হয়। আমার মেয়ে ফাঁকা বাসায় একা যাওয়ার কথা না। মেয়েকে হত্যার পর দিহান ফোন দিয়ে জানায়। এর পর হাসপাতালে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বলে- আন্টি আমাকে বাঁচান। তখন দিহান আরও বলে- আমরা চারজনই (তিন বন্ধুসহ) তাকে বাসায় নিয়ে যাই।’ ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, ‘মামলায় আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমরা অপহরণ মামলা করতে চাইলেও পুলিশ সেটি করতে দেয়নি। উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার মেয়ের চরিত্রকে হনন করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে- দিহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ তথ্য মোটেও সঠিক নয়। দিহানের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয়ই ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চার দফা দাবি জানাচ্ছি। দ্রুত বিচার আইনে দিহান ও তার সঙ্গীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সরকার যেন তদন্তে আমাদের সহযোগিতা করে। স্বচ্ছ ও সঠিক ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। আমার নিষ্পাপ মেয়েকে বিকৃতভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে হত্যার স্বচ্ছ ও ন্যায়বিচার চাই।’

ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘আমাদের অনুমতি ছাড়া কিছুই করত না মেয়ে। আমরা সেভাবেই মেয়েকে গড়ে তুলেছি। যেদিন ঘটনা ঘটে, ওই দিন মেয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিল, কিন্তু জরুরি সভা থাকায় আমি সেটি ধরতে পারিনি।’

advertisement
Evaly
advertisement