advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

তাওহীদুল ইসলাম
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২২:৪৯
advertisement

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে বা আসতে বর্তমানে সড়ক বা রেলপথে ব্যয় হয় প্রায় ছয় ঘণ্টা। রাজধানীর সঙ্গে বাণিজ্যিক রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নততর করার পাশাপাশি যাতায়াতে স্বল্পতম সময় ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতগতির ট্রেন বা বুলেট ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে মাত্র ৫৫ মিনিটেই গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। ইতোমধ্যে হাইস্পিড ট্রেনের সমীক্ষা ও বিশদ নকশায় সরকারের ১১০ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের এ প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে। বিপুল অঙ্কের এ অর্থ ব্যয় করাটা কতটা বাস্তবসম্মত হবে- এমন প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আয়োজিত আলোচনায়।

জানা গেছে, রেলের অন্য একটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠককালে প্রসঙ্গ আসে বুলেট ট্রেনবিষয়ক প্রকল্পেরও। তখন কথা হয় হাইস্পিড ট্রেন চলাচলে রেলের সক্ষমতার পাশাপাশি বিনিয়োগের অর্থনেতিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্যতা নিয়ে। সূত্রমতে, সার্বিক বিবেচনায় এ মুহূর্তে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্ব আদৌ আছে কিনা, এমন কথাও বলা হয়েছে বৈঠকে। অথচ এর আগের দিনও হাইস্পিড ট্রেনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন সভায় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বুলেট ট্রেনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটটি কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত করার ঘোষণাও দেন। রেলমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন হলে রেলপথটির দৈর্ঘ্য ২২৭ কিলোমিটার থেকে

বেড়ে ৩০০ কিলোমিটারে দাঁড়াবে এবং ব্যয়ও ৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দ্রুতগতির রেলপথ চালু করতে নতুন করে সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন করতে হবে। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পথের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের খসড়া প্রতিবেদন ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর বিশদ ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর জোগাড় করতে হবে অর্থায়নের উৎস। পাশাপাশি চলবে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ (ডিপিপি)। এর পর দরপত্র আহ্বান করা হবে। অর্থায়নসহ দরপত্র প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে কতটা সময় লাগবে, তা বলা কঠিন। তবে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর অন্তত সাড়ে চার বছর লাগবে নির্মাণকাজে।

হাইস্পিড ট্রেনে যাতায়াতে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা ভাড়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই হিসাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে লাগবে প্রায় ৩ হাজার টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়। ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে বুলেট ট্রেন। বিরতিহীনভাবে চললে এ ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় নেবে ৫৫ মিনিট। আর স্টপেজ ধরলে সময় লাগবে ৭৩ মিনিট। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের অধিকাংশই উড়ালপথ। পিক আওয়ারে ১৬টি কোচে ১২০০ আসন আর অফপিক আওয়ারে ৮টি কোচে ৬০০ আসনে যাত্রী পরিবহন হবে বুলেট ট্রেনে।

বাংলাদেশ রেলওয়েতে এই প্রথম ইলেকট্রিক ট্যাকশনের মাধ্যমে হাইস্পিড ট্রেন চলবে। ফলে জ্বালানির সাশ্রয় হতে পারে। বিদ্যমান সড়কপথ থেকে পৃথকভাবে থাকবে হাইস্পিড ট্রেনের রুট। ডাবল লাইনের এ রেলপথ সময় কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয় সমীক্ষা প্রতিবেদনে। তবে ডিটেইল ডিজাইন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী মার্চে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। চূড়ান্ত সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে কেবল ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে দ্রুতগতির করতে। এ জন্য ৬২৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

২০১৭ সাল থেকে শুরু হাইস্পিড ট্রেনের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম দ্রুতগতির রেলপথটির জন্য সমীক্ষা প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। কাজটি করছে চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন এবং মজুমদার এন্টারপ্রাইজ। পরামর্শক নিয়োগে রেলওয়ের সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩১ মে চুক্তি হয়। এর পর ওই বছরের ৪ জুলাই থেকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অংশ হিসেবে প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ৪টি অ্যালাইনমেন্ট চিহ্নিত করে : এক. ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম অ্যালাইনমেন্ট দৈর্ঘ্যে ২২৭.৩ কিলোমিটার; দুই. ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-লাকসাম-ফেনী-চট্টগ্রাম, ২৩২.৯ কিলোমিটার; তিন. ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-বাঘমারা (কুমিল্লা)-ফেনী-চট্টগ্রাম, ২২২.৮ কিলোমিটার এবং চার. ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-লাকসাম-ফেনী-চট্টগ্রাম, ২২০.৪ কিলোমিটার। ২০১৯ সালের ১৫ মে প্রথমটি অর্থাৎ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম অ্যালাইনমেন্ট অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

advertisement
Evaly
advertisement