advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আইএলও সনদ-১৩৮ অনুসমর্থনের উদ্যোগ

ইউসুফ আরেফিন
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:২৩
advertisement

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য চাকরিতে নিয়োগের ন্যূনতম বয়স সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) অন্যতম মৌলিক সনদ-১৩৮ অনুসমর্থন করতে চায় বাংলাদেশ। আইএলও সনদে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে কর্মে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের আইনে শিশুর বয়সসীমা ১৪ বছর, যা আইএলও কনভেনশন সমর্থন করে না। তাই ইউরোপের বাজারে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে ১৩৮ নম্বর সনদটি অনুসমর্থনের পক্ষে-বিপক্ষে মত চেয়ে ১২ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দুই দফা চিঠি দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদ্যমান শ্রম আইনও ফের সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইইউর রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশ ২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ১৬.৩ বিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ মোট রপ্তানির অর্ধেকই ইইউ বাজারে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ বিলিয়নই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, খাদ্যসামগ্রী, মাছ, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য হস্তশিল্পের পণ্য থেকে এসেছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে ইইউর শর্ত এবং আইএলও কনভেনশনের বিষয়ে সরকার আরও বেশি আন্তরিক হচ্ছে।

আইএলও সনদ নম্বর ১৩৮ অনুসমর্থন করার বিষয়ে মতামত চেয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর ১২টি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, কৃষি, শিল্প, সমাজকল্যাণ,

নৌ পরিবহন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (আন্তর্জাতিক সংস্থা-৪ শাখা) সুহানা ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ১৪ জানুয়ারির (আজ বৃহস্পতিবার) মধ্যে মতামত পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়। তবে দুই দফা চিঠির পরও সাড়া মিলছে না। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ২/৩টি মন্ত্রণালয় মতামত জানিয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে সুহানা ইসলাম বলেন, সবাই এখনো তাদের মতামত পাঠাননি। সময়সীমার মধ্যে মতামত পাওয়া না গেলে হয়তো আবার সময় দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কী ধরনের মতামত পাওয়া গেছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আন্তর্জাতিক সংস্থা) মো. হুমায়ুন কবীরকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমরা মাত্র কাজ শুরু করেছি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।

আইএলওর ৮টি মৌলিক সনদের মধ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৭টি অনুসমর্থন করেছে। কিন্তু কর্মে নিয়োগের ন্যূনতম বয়স সম্পর্কিত সনদ-১৩৮ এখনো অনুসমর্থন করেনি। এ সনদ অনুসমর্থনকারী সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের দেশে চাকরি বা কর্মে নিযুক্ত হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স নির্দিষ্ট করবে। এটি ইতোমধ্যে ১৭০টিরও বেশি দেশ অনুসমর্থন করেছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম একেবারেই শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য শ্রম আইন-২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) ফের সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটিও করেছে সরকার। এই কমিটি মালিকপক্ষ, শ্রমিকনেতা ও সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনে সংশোধন আনবে।

শ্রম আইন-২০০৬ অনুসারে কাজে যোগদানের ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১৪ বছর আর ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে তা ১৮ বছর। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে হালকা কাজ করলে সেটাকে ঝুঁকিমুক্ত কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। কিন্তু আইএলও সনদ ১৩৮-এ ১৫ বছরের নিচে কোনো শিশুকে চাকরি বা কর্মে নিয়োজিত করা যাবে না উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক শ্রম আদালতে মামলা করলেও সহজে তা নিষ্পত্তি হয় না। কোনো কোনো মামলা নিষ্পত্তিতে ৫-৬ বছরও লেগে যায়। আমাদের সময়ের হাতে এ রকম বেশ কয়েকটি মামলার বিবরণ রয়েছে। অথচ আইনে বলা আছে, মামলা করার ৬০ দিনের মধ্যে রায় দিতে হবে। না হলে আরও ৬০ দিন আদালত ব্যয় করতে পারবেন। তাতেও না হলে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে ৬০-৯০ দিন সময় নিতে পারবেন আদালত। এর মধ্যে মামলার রায় দিতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক করার জন্য আইনে সংশোধন আনা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

advertisement
Evaly
advertisement