advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভ্রমণ খাতে ৫১ কোটি টাকা আয় কমেছে

আজিজুল হক বেনাপোল
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:২৩
advertisement

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশ-ভারতে যাতায়াতে শর্ত আরোপ থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে আগের বছরের চেয়ে গেল বছর যাত্রী কমেছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ জন। আর ভ্রমণ খাতে সরকারের রাজস্ব কমেছে ৫১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫০ টাকা। বন্দরের সহকারী পরিচালক হিমেল জাহান ও বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আকতার ফারুক আমাদের সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দর দিয়ে গেল বছর ৩ লাখ সাড়ে ৪ হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতে প্রবেশ করে। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় হয় ১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অথচ তার আগের বছর ২০১৯ সালে এ পথে ভারতে যায় ১২ লাখ ৫৫ লাখ ৯০০ যাত্রী। তখন ভ্রমণ কর বাবদ ৬৮ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। নানান প্রতিবন্ধকতায় ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে যাত্রী কমেছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ জন। স্বাভাবিকভাবে আয় কমেছে ৫১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫০ টাকা।

জানা যায়, বৈধভাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে যাতায়াত শুরু হয় ১৯৭২ সাল থেকে। ওই বন্দর থেকে কলকাতা শহরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। ট্রেন ও বাসযোগে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রথম থেকেই এ পথে চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর আদায় করে থাকে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যাত্রীপ্রতি ৫০০ এবং বন্দরের ৪৮ টাকা ভ্রমণ কর নেওয়া হয়। কিন্তু গেল বছর করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকার ১৩ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের স্থল ও রেলপথে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বন্ধ হয় আকাশপথও। এতে

আশঙ্কাজনক হারে ভ্রমণ খাতে সরকারের আয় কমে যায়। পরে চার মাস পর গত ১৫ আগস্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে কূটনীতিক, অফিসিয়াল, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসাধারীদের যাতায়াতে সুযোগ হয়। তবে এখনো বন্ধ রয়েছে ভ্রমণ ভিসায় যাতায়াত।

ভারতগামী যাত্রী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘অনেক কষ্টে তিনি মেডিক্যাল ভিসা পেয়েছেন। তবে ছয় মাসের ভিসা দিলেও মাত্র একবার ভ্রমণের সুযোগ। চিকিৎসা শেষ করতে এতদিন একাধারে ভারতে অবস্থান করাও অনেক ব্যয়বহুল। এ ক্ষেত্রে যদি পূর্বের মতো তিনবার যাতায়াতের সুযোগ থাকত অনেক উপকৃত হতেন চিকিৎসাগ্রহণকারীরা।’

যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে বেনাপোল বন্দর নিয়েও। প্রতিবছর এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হলেও বাড়েনি যাত্রীসেবা। অবকাঠামো উন্নয়নে দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া সেবার নামে বন্দরের ট্যাক্স আদায় করা হলেও বন্দরে তেমন কোনো সেবাই দেওয়া হয় না। ইমিগ্রেশনে যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

সার্বিক বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক হিমেল জাহান বলেন, ‘করোনার প্রভাবে যাত্রী যাতায়াত কমেছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের আয়েও প্রভাব পড়েছে বেশ।’ তা ছাড়া যাত্রী যাতায়াত সুবিধার্থে নতুন জায়গা অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আহসান হাবিব জানান, বর্তমানে ভারতগামী যাত্রীদের ৯০ শতাংশ চিকিৎসা ভিসায় এবং ১০ শতাংশ যাচ্ছে ব্যবসা ও সরকারি কাজে। ট্যুরিস্ট ভিসা এখনো চালু হয়নি। বর্তমানে ভারত যাওয়া ও ফেরার পথে যাত্রীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ প্রয়োজন হচ্ছে।

advertisement
Evaly
advertisement