advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলে যাত্রা
স্থির প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে

১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:২৯
advertisement

২০১৮ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে বিবেচিত হওয়ার মানদ- অর্জন করেছিল। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বিশেষেজ্ঞ দলের সঙ্গে এ নিয়ে বাংলাদেশ দলের ভার্চুয়াল সভা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে পরবর্তী ধাপে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য পর পর তিন বছরের ধারাবাহিক উন্নয়নের মূল্যায়ন করা হবে। এ রকম পর পর দুইবার মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হলেই পরবর্তী ধাপে উত্তরণ সম্ভব। মঙ্গলবারের বৈঠক ছিল প্রস্তুতিমূলক সভা। প্রথম মূল মূল্যায়ন সভা হবে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

দুই তরফের ওই উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ তার সাম্প্রতিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে। বিশেষভাবে করোনার এই দুঃসময়ে যখন উন্নত বিশ্ব তাদের প্রবৃদ্ধিসূচকে নিম্নগামিতা রোধ করতে পারেনি, তখন বাংলাদেশ এ দুঃসময়েও ৫ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। বিভিন্ন আর্থসামাজিক সূচকেও এর প্রতিফলন রয়েছে। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তাও রয়েছে। বাংলাদেশ তার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের জন্য যেসব দেশের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। অর্থনীতির এই চাপ আরও কিছুদিন চলবে এবং অচিরেই এর নেতিবাচক প্রতিফলন বৃদ্ধি পাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও। ফলে আগামী দিনের জন্য বাংলাদেশকে যথেষ্ট প্রস্তুতিমূলক কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।

এ কথাও আমরা জানি, অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশের ক্ষেত্রে বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলো থেকে নানা বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়া যায়। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গণ্য হলে সাধারণত এসব সুবিধা কমে আসে। তবে আশার কথা- ২০২৬ সালে যখন উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসবে, তখন পর্যন্ত শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ অবশ্য সঙ্গতভাবে চাইছে- যেন গ্র্যাজুয়েশন যথাসময়ে হয়ে যায় এবং তার পরও অন্তত তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের সুবিধা অব্যাহত থাকে। আমরা এ ব্যাপারে আশাবাদী থাকব। আপাতত লক্ষ্য হবে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকালকে ঠিকমতো ব্যবহার করা।

আগামী দিনগুলোয় করোনা ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাপ্রাপ্তি এবং এর ভিত্তিতে দক্ষতার সঙ্গে লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্টগুলো যথাসময়ে অর্জনের জন্য উন্নয়ন খাতে অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তার আশানুরূপ প্রাপ্তি। এ জন্য অবশ্যই করোনার বর্তমান সংকট থেকে বিশ্বের মুক্তি পাওয়া জরুরি। পরিস্থিতি যা-ই হোক, বাংলাদেশকে তার লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement