advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অবৈধ গ্যাসে ছিপি আঁটা মহাকঠিন
কার্যকর ব্যবস্থা নিন

১৪ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:২৯
advertisement

মজুদ স্বল্পতার কারণে কয়েক বছর ধরেই আবাসিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশ অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে। বৈধভাবে সংযোগ না পেয়ে অনেক গ্রাহকই অবৈধ পন্থায় গ্যাসের সংযোগ নিচ্ছেন। তাদের এ অনৈতিককা-ে নেপথ্য মদদ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনীতিকদের। এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরও যোগসাজশ রয়েছে। তাদের করা অবৈধ গ্যাস সংযোগের এলাকাভিত্তিক চক্র বা সিন্ডিকেট খুবই প্রভাবশালী ও দাপুটে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযানিক দল অফিসে পৌঁছানোর আগেই তারা ফের সংযোগ দিয়ে ফেলেন। দেশব্যাপী এমন অবৈধ গ্যাস সংযোগের মচ্ছব চলছে। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার গ্যাস পুড়ছে অবৈধ সংযোগের কারণে।

তিতাস গ্যাস থেকে যারা ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটার পেয়েছেন, তারা নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। কিন্তু ৩৮ লাখের মধ্যে মাত্র দুই লাখ গ্রাহক এ সুবিধা পাচ্ছেন। বাকিরা মিটারের সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। আবাসিকে দুই চুলার একজন গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ ৭৭ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করতে পারেন বলে ধরে নেওয়া হয়। এই হিসাবে দাম ধরা হয়েছে ৯৭৫ টাকা। অথচ একজন গ্রাহক মাসে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। এর দাম ৫৭০ থেকে ৬৩০ টাকা। গ্রাহক যদি মাসে গড়ে ৩৩ ঘনমিটার গ্যাস কম ব্যবহার করেন, তা হলে তার বাড়তি বিল দিতে হয় ৪১৬ টাকা। ওই হিসাবে ছয়টি কোম্পানির ৩৬ লাখ গ্রাহককে বছরে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ যে গ্রাহকদের কম গ্যাস দিয়ে বেশি বিল নিয়ে যাচ্ছে, সেটি কোথায় যাচ্ছে? রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাচ্ছে না। এই গ্যাস বাসাবাড়ি বা কারখানায় অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন তিতাসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার দিলে সেটি সম্ভব হবে না। এ কারণেই তাদের প্রিপেইড মিটার প্রকল্প চলছে শম্বুকগতিতে। ঢাকা ও এর আশপাশের চার জেলায় গ্যাসের প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার অবৈধ পাইপলাইন রয়েছে। যখন লেখালেখি হয়, তখন তারা কিছু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। কিছুদিন পর সেগুলো অলৌকিকভাবে পুনর্সংযুক্ত হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, এলপিজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দিতেই সরকার বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে। অভিযোগটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কম। সরকার চাইলে আমদানি করা গ্যাসও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে সরবরাহ করতে পারে। ভারতে আগে কেবল বাসাবাড়িতে এলপিজি ব্যবহার করা হতো। সম্প্রতি তারাও পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছেন। সবার ওপরে গ্রাহকের স্বার্থ দেখতে হবে। নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক নৈরাজ্য। তা জ্বালানি গ্যাসের সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থাকে অকার্যকর করে ফেলছে। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ধ্বংস করার এই দৃষ্টান্তের প্রভাব নিঃসন্দেহে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী হবে। অবিলম্বে এসব বন্ধ করা দরকার।

advertisement
Evaly
advertisement