advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মায়ের অপেক্ষায় ছিলেন সন্তানরা, লাশ হয়ে ফিরলেন মা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
১৪ জানুয়ারি ২০২১ ১৭:৪৫ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২১ ১৭:৫৮
প্রতীকী ছবি
advertisement

দিনমজুরের কাজ করে যা আয় হতো তা দিয়ে প্রতিদিন বাজার করে বাড়ি ফিরতেন ফাতেমা (৩৫)। আর ঘরে থাকা তিন শিশু সন্তান থাকত মায়ের অপেক্ষায়। গত মঙ্গলবার সকালেও প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়েছিলেন ফাতেমা। কিন্তু সন্ধ্যা পেরোনোর পরও তিনি ঘরে না ফেরায় ওই রাতে খাওয়া হয়নি তার সন্তানদের। সন্তানরা জানতে পারেনি তাদের মায়ের সন্ধানও। পরদিন গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীদের মাধ্যমে ফাতেমার সন্তানরা বাড়ির অদূরে একটি ফসলের মাঠে মায়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার রাতে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।ফাতেমা নাজিরপুর উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের নাজিরপুর খাঁ কান্দা গ্রামের হাসমত মাতুব্বরের মেয়ে এবং একই গ্রামের আহম্মদ আলী মাতুব্বরের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমার মা-বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। স্বামীও দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। এ পরিস্থিতিতে তিন সন্তানের ভরনপোষণের জন্য তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। গত মঙ্গলবার সকালে ফাতেমা প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

পরদিন বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার সময় ফসলের মাঠের আশেপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ পান। একপর্যায়ে কচুরি ও লতাপাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ফাতেমার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে রাতেই থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পিযুষ কান্তী। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফাতেমাকে কেউ হত্যা করে লাশ ফসলের মাঠের মধ্যে কচুরি ও লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়েছে। নিহতের দেহে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

advertisement
Evaly
advertisement