advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

স্কুলছাত্রের ‘মৃত্যুর’ ৩ মাস পর মায়ের মামলা দায়ের, বাবা ও দাদা গ্রেপ্তার

১৪ জানুয়ারি ২০২১ ২০:৫৯
আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২১ ২০:৫৯
প্রতীকী ছবি
advertisement

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নে জাহিদ হাসান (৯) নামের এক স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর তিন মাস পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তার মা। নিহত শিশু জাহিদ ওই ইউনিয়নের পাহাড়বাড়ি এলাকার আল-আমিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

জাহিদের মৃত্যুর তিন মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত সোমবার শিশুটির মা লভলী বেগম পঞ্চগড় সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার দায়েরের পর পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। গ্রেপ্তারকৃত হলেন- নিহত জাহিদের বাবা আল-আমিন (৩৬) এবং আল-আমিনের বাবা অর্থাৎ শিশুটির দাদা আমিরুল ইসলাম (৫৫)। পলাতক রয়েছেন মামলার আরেক আসামি আল-আমিনের ছোট ভাই, শিশুটির চাচা আব্দুস সামাদ (৩০)।

জানা যায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জাহিদ হাসানের। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে জাহিদের চিৎকার শুনে তার দাদা আমিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে সুতার সঙ্গে গলা ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুঁলতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তিনি দ্রুত জাহিদকে নামানোর পর তার মৃত্যু হয়।

 ওই দিন রাতেই সদর থানার পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সে সময় শিশুটির বাবা একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, ঘটনার প্রায় তিন মাস পর গত ৬ জানুয়ারি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা, সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন জাহিদ মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি আসে। এমন সময় তার বাবা তাকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের আলোকে প্রশ্ন করতে থাকেন। প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় জাহিদকে মারধর করেন বাবা আল-আমিন। একপর্যায়ে হাত-পায়ে ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান তিনি।

মামলার বাদী লাভলী বেগম বলেন, জাহিদকে মারপিট করলে সে কান্না করে। কান্না থামাতে আমি তাকে ভাত খেতে দেই এবং বাড়ির পূর্ব দিকে গরুকে ঘাস দিতে যাই। প্রায় ঘণ্টা খানেক পরে এসে দেখি ছোট ছেলে জিহাদ (৪) ছাড়া বাড়িতে আর কেউ নেই। জিহাদের কাছে জানতে পারি জাহিদকে তার বাবা মারপিট করে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে গেছে। পরে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে দেখি বাড়ির পূর্ব দিকে পানের বরজের কাছে একটি মেহগনি গাছের ওপর থেকে জাহিদের বাবা আল-আমিন নিচে নামতেছে। আর গাছের ডালে রশির সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুঁলতেছে জাহিদ। নিচে দাঁড়িয়ে ছিলো জাহিদের চাচা আব্দুস সামাদ এবং দাদা আমিরুল ইসলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ছিলাম। এছাড়া সব সময় আতঙ্কে থাকতাম। জাহিদের স্মৃতিচারণ করে বিলাপ করলে তার বাবা আমাকে এসব ভুলে যেতে বলতেন। আর বলতেন- সংসার করার ইচ্ছা থাকলে যেন এসব কাউকে না বলি।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা সরকার বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছি শিশুটিকে কেউ মেরে ফেলেছে। প্রাথমিকভাবে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এখনো তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

 

advertisement
Evaly
advertisement