advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ক্ষেত ঘিরে ব্যস্ততা মৌ-চাষিদের

আমিনুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ
১৫ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২১ ২১:৫৬
advertisement

এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সিরাজগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষী ও কৃষি বিভাগ। দিগন্ত জুড়ে হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলা। বাদ নেই বৃহত্তর চলনবিল এলাকা। আর হলুদের সমারোহে মৌ মৌ করা গন্ধ, মৌমাছির গুঞ্জন ও পাখির কিচিরমিচির ডাকে অপরূপ সরিষার ক্ষেত। যত দূর চোখ যায় হলুদ আর হলুদের সমারোহে প্রতিটি ফুলে দুলছে সরিষা চাষীদের রঙিন স্বপ্ন। সরিষা ক্ষেতের পাশে বসানো হয়েছে সারি সারি মৌ-বক্স। এসব বক্সে থাকা মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখর চারদিক। মৌ-চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে মধু সংগ্রহে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৬৮০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৫০ হেক্টরে। আর এ থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ১১৮ টন।

সরিষার ভালো ফলন হবে এমনটাই আশা করে চাষিরা জানান, কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক আমাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যদি কৃষকদের ঠিক মতো এভাবে দেখাশোনা করে তাহলে আরও বেশি সরিষা চাষ করা সম্ভব।

এদিকে মৌ-চাষিরা জানান, জেলায় এ বছর প্রায় ২০ হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার মধু সংগ্রহ বেশি হবে। এই মধু শিল্পের উন্নয়নের জন্য আর্থিক ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান তারা। সরিষা ক্ষেত্র থেকে সংগ্রহ করা উন্নতমানের মধু পাইকারী প্রতি কেজি ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৌ-চাষীরা। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের কারণে তাদের লাভ কম হচ্ছে।

তাড়াশের চলনবিল এলাকার কুন্দইল গ্রামে মৌ-বক্স নিয়ে রাজশাহী থেকে আসা মৌ-চাষি শুভ জানান, তিনি প্রায় ২০০ বাক্স নিয়ে এবার মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন। প্রচুর মধু উৎপাদন হচ্ছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া ৪ হাজার টাকা মণে লাভ হচ্ছে না। প্রাণ, ডাবর, এপিসহ বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কাছ থেকে সরকারি দামে কিনে নিয়ে প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ করলেও তাদের তেমন একটা লাভ হচ্ছে না। তার মতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে চলনবিল এলাকা উৎকৃষ্ট মানের মধু সংগ্রহের স্থান। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মৌ-চাষিসহ বিভিন্ন গবেষকরা এই অঞ্চলে আসছেন মধু চাষ ও সংগ্রহের নমুনা দেখতে। আর পর্যটকরা আসছে হলুদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তার মতে এক কথায় চলনবিল এলাকা এখন মধুর খনি।

অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলার এরানদহ গ্রামের আদর্শ মৌ-খামারের মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, ৩০০টি মৌ-বক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ মণ মধু সংগ্রহ করা যায়। সরিষার ক্ষেতে মৌ-বক্স স্থাপনের কারণে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পায়। খাঁটি মধু ক্রয় করতে অনেকেই চলে আসেন মাঠে।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, সরিষা বীজ ও সার সরকারের প্রণোদনা থাকায় কৃষকরা আগ্রহী হয়েছেন সরিষা চাষে। কিন্তু তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলায় বন্যার পানি দেরিতে নামায় ও বৃষ্টির কারণে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে। এই মৌ-বাক্সের মধু থেকে কৃষকরা বাড়তি আয় করেন। ক্ষেতে মৌ-বাক্স স্থাপনে মৌমাছির পরাগায়ণের মাধ্যমে ১০ শতাংশ ফসলের ফলন বেশি হয় বলে তিনি জানান।

advertisement
Evaly
advertisement