advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভ্যাকসিন নিয়ে গুজব ঠেকাবে ৪ কমিটি

শাহজাহান আকন্দ শুভ
১৭ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ০৮:৪২
পুরোনো ছবি
advertisement

করোনা ভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম আগামী মাসে শুরু করতে সব প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ জন্য কাজ করছে তিন স্তরের কমিটি। যদিও এই কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে দেশে দেশে নানা ধরনের গুজবের ডালপালা ছড়াচ্ছে। ফলে বাংলাদেশেও টিকা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে আগাম সতর্ক করেছে। সে অনুযায়ী সরকারও এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

এরই মধ্যে গুজব প্রতিরোধসহ টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করতে সরকার গঠিত ৪ কমিটিকে সক্রিয় করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ ব্যাপারে জাতীয় কমিটি, জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটি এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় কমিটি গঠন করে। শিগগিরই টিকা নিয়ে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর খবর এবং গুজব প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি কোভিড ১৯-এর টিকাদানের সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেন নেতাকর্মীদের। শেখ হাসিনা টিকা নিয়ে নেতাকর্মীদের সংবেদনশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এ সময়টাতে কিছু মানুষ সুযোগ নিতে চাইবে। কেউ কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে গতকাল শনিবার থেকে করোনা ভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারি দেশটি থেকে বাংলাদেশে করোনার টিকার প্রথম চালান আসার কথা রয়েছে। এর পর ফেব্রুয়ারিতেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বাংলাদেশে।

জানা গেছে, একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে সতর্ক করে বলেছে, টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই এ নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু হতে পারে। এই অপপ্রচার ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিদিন মিডিয়া ব্রিফ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনার টিকা ব্যবস্থাপনা ও গুজব ঠেকাতে গঠিত জাতীয় কমিটি, জেলা কমিটি, উপজেলা কমিটি এবং সিটি করপোরেশন এলাকার কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আবু জামিল ফয়সাল আমাদের সময়কে বলেন, টিকা নিয়ে কিছু মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। অনেক মানুষ টিকা গ্রহণ করতে চাইবে না। অনেক মানুষ যদি টিকা গ্রহণ না করে, তা হলে আমাদের অর্থের ক্ষতি হবে। তাই মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের ভ্রান্ত ধারণা যেন না বাড়ে, সে জন্য সরকারের কমিউনিকেশন খুবই শক্তিশালী হওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় কত কিছু হয়ে যাচ্ছে। এখনো সময় আছে টিকা নিয়ে যেন ভ্রান্ত ধারণা তৈরি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। এটি হাল্কাভাবে নিলে চলবে না।

জানা গেছে, গুজব প্রতিরোধসহ টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করতে গঠিত ৪ কমিটির মধ্যে জাতীয় কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসকে। সদস্য সচিব হলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব। ১৮ সদস্যের এই কমিটিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের আইজি, এনএসআই মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ আরও বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের প্রধানদের রাখা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন এলাকার কমিটির প্রধান করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মেয়রকে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে করা হয়েছে সদস্য সচিব। ১৩ সদস্যের কমিটিতে বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনারকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। জেলা কমিটির সভাপতি হলেন সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসক। ১৪ সদস্যের এই কমিটিতে জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, সদর পৌরসভার মেয়র, জেলা শিক্ষা অফিসার, তথ্য অফিসার এবং এনজিও প্রতিনিধি থাকবেন। কমিটিতে সদর আসনের সংসদ সদস্যকেও রাখা হয়েছে উপদেষ্টা হিসেবে। অন্যদিকে উপজেলা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ইউএনওকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, টিকা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সরকারের পক্ষ থেকে ‘সুরক্ষা’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। টিকা গ্রহীতাকে এই অ্যাপে নিজেদের তথ্য দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে সরকার টিকাগ্রহীতা সম্পর্কে যেমন তথ্য পাবে, তেমনি যারা টিকা নেবেন, তারাও পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে অবগত হবেন। এরইমধ্যে এই অ্যাপ তৈরির ব্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা উঠে এসেছে। প্রচার করা হয়েছে, এই অ্যাপ তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে ৯০ কোটি টাকা; কিন্তু অ্যাপ তৈরির সঙ্গে যুক্ত সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এ ধরনের প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর ও গুজব বলে সতর্ক করে দিয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, সুরক্ষা অ্যাপ তৈরিতে সরকারের কোনো ব্যয় হচ্ছে না। নিজেদের জনবল, অফিস, সোর্স ব্যবহার করে কাজটি করার কারণে ব্যয় হবে না কোনো টাকাই। অ্যাপ তৈরিতে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি গুজব।

টিকা নিয়ে বেশকিছু দেশে গুজব ছড়িয়েছে। টিকার মাধ্যমে শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেওয়া, ডিএনএ পরিবর্তন ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে ছড়িয়েছে নানা তথ্য। বিবিসি এসব তথ্য অনুসন্ধান করে দেখেছে, তথ্যগুলোর অধিকাংশই গুজব। ফেসবুকে আরও কিছু পোস্টে করোনার টিকা ডিএনএতে পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে বিবিসি তিন আলাদা বিজ্ঞানীকে জিজ্ঞাসা করেছিল। তারা বলেছেন, করোনার টিকা মানবদেহের ডিএনএতে কোনো পরিবর্তন করবে না।

advertisement
Evaly
advertisement