advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

টিকার দ্বিতীয় ডোজ ২৮ নয়, ২ মাস পর দেওয়াই ভালো

দুলাল হোসেন
১৮ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ০৯:২১
advertisement

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড টিকার তিন কোটি ডোজ কিনছে বাংলাদেশ সরকার। প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ করে ছয় মাসে বাংলাদেশ এই টিকা পাবে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুষ্ঠুভাবে টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গড়া জোট কোভ্যাক্স থেকেও ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ টিকা পাবে বাংলাদেশ।

তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা বা অন্যান্য অপপ্রচারের কারণে দেশের মানুষ টিকা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হলেও অজ্ঞতা ও নানামুখী অন্ধবিশ্বাসের কারণে হয়তো অনেকেই এই টিকা গ্রহণ করবে না। তাই এই বিভ্রান্তি দূর করতে এখনই সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে জনসচেতনতা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরিবর্তে দুই মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া বিজ্ঞানসম্মত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান এবং বাংলাদেশ ফার্মাকোলজিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান খসরু বলেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা। কিন্তু এর পরিবর্তে দুই মাস পর দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মত একটি পদ্ধতি। শুধু ভ্যাকসিন নয়, পৃথিবীর সব ওষুধের ক্ষেত্রে কিছু পাশর্^প্রতিক্রিয়া থাকবে। তবে বিশ^ব্যাপী একটি ভ্যাকসিনবিরোধী গ্রুপ থাকে, তাদের কিছু প্রচারণাও থাকে সব সময়।

এই ভ্যাকসিন নিয়ে যে কথা প্রচারণা করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা প্রমাণ নেই। আজ অবধি এই ভ্যাকসিন গ্রহণের ফলে প্রজননক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কোনো ঘটনা হয়নি। এটি এখন পর্যন্ত ১১-১২ লাখ মানুষকে দেওয়া হয়ে গেছে। এমন তো নয় যে, আমরাই প্রথম নিচ্ছি। আমেরিকায় এখন দিনে ১০ লাখ, ইউকেতে চার লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাকসিন নিয়ে যে ধরনের কথা বলা হচ্ছে তার কোনো প্রমাণ নেই।

গত ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনা : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, পশ্চিমা বিশে^ একেক মাস বা সপ্তাহে টার্গেটের ৪৪ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিন নিচ্ছে না। যদি বাংলাদেশে এটি ঘটে, তা হলে কী ঘটবে? আমাদের টার্গেট ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া। যদি মানুষ ভ্যাকসিন রিফিউজ করে তা হলে বাসাবাড়ি, পরিবহনে অনেকে আনভ্যাকসিনেটেড থেকে যাবে; যা ভ্যাকসিনেশনের সুবিধা কমিয়ে দেবে। একজন ২২ বছরের যুবক হয়তো ভ্যাকসিন না নিতে চাইতে পারে, এতে তার হয়তো তেমন কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু তিনি লক্ষণ-উপসর্গ ছাড়া ভাইরাস বহন করে বেড়াতে পারেন, এতে তার পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হতে পারেন। ২০২১ সালে বিজ্ঞানের এই অগ্রগতিতেও মানুষ যদি ভ্যাকসিন না নেয়, সেটি হবে এই শতাব্দীর বড় অন্যায়।

করোনা টিকা আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ নিয়ে গতকাল সোমবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, এর আগে আমাদের জানানো হয়েছিল প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ডোজ দেওয়ার দুই মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে। নতুন নিয়ম জানার পর আমরা টিকা প্রদান পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছি। আগে পরিকল্পনা ছিল ৫০ লাখ টিকা প্রথম মাসে ২৫ লাখ মানুষকে দিয়ে বাকিটা দ্বিতীয় ডোজের জন্য রেখে দেওয়া হবে। কিন্তু পরিকল্পনার পরিবর্তনের কারণে প্রথম মাসেই একসঙ্গে ৫০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। তাই প্রথম যে ৫০ লাখ টিকা আসবে তা দিয়ে দেওয়া হবে। দুই মাসের মধ্যে আরও টিকা চলে আসবে। একসঙ্গে বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে টিকাসংক্রান্ত মূল পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন টিকা বিতরণ কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ডা. শামসুল হক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে টিকা গ্রহণের কিছু পাশর্^প্রতিক্রিয়া থাকে, সেটি সামান্য। যারা টিকা নেবে তাদের কাছ থেকে একটি সম্মতিপত্র নেওয়া হবে। কারণ যাকে আমরা টিকা দিচ্ছি, তার একটা অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। আমরা একটি সম্মতিপত্র তৈরি করেছি। সেখানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, তারিখ, পরিচয়পত্র এবং নাম থাকবে। সম্মতিপত্রে লেখা থাকবেÑ করোনার টিকা সম্পর্কে আমাকে অনলাইনে এবং সামনাসামনি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই টিকা গ্রহণের সময় অথবা পরে যে কোনো অসুস্থতা, আঘাত বা ক্ষতি হলে তার দায়ভার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বা সরকারের নয়। আমি সম্মতি দিচ্ছি, টিকা গ্রহণ ও এর প্রভাব সম্পর্কিত তথ্যের প্রয়োজন হলে আমি তা প্রদান করব। জানামতে, আমার ওষুধজনিত কোনো অ্যালার্জি নেই। টিকাদান-পরবর্তী প্রতিবেদন/গবেষণাপত্র তৈরির বিষয়ে অনুমতি দিলাম। আমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে এই টিকার উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হয়ে টিকা গ্রহণে সম্মত আছি। সম্মতিপত্রের বিষয়ে ডা. শামসুল হক বলেন, এটা খুবই ইমপর্টেন্ট। কারণ এ বিষয়টি যদি তিনি না জানান, তা হলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে, তখন আমরাও বুঝতে পারব না। এই সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে এবং এটা আমাদের কাছে থাকবে।

advertisement