advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভিকটিম মা-মেয়ের ‘উল্টো সুরে’ জামিন পেলেন সেই তুফান

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
১৮ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৫
advertisement

বগুড়ায় ছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের বহুল আলোচিত মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকার জামিন পেয়েছেন। গতকাল রবিবার বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত ১-এর বিচারক একেএম ফজলুল হক শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত এই আহ্বায়কের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তুফান প্রায় চার বছর ধরে জেলে আছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ভিকটিম ও তার নির্যাতিতা মা মামলার বাদী এদিন আসামি তুফান সরকারের পক্ষেই কথা বলেন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি নরেশ মুখার্জি জানান, রবিবার আলোচিত ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল। তবে ভিকটিম ও তার মা (বাদী) আদালতে এসে ধর্ষণ এবং নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন। তুফানের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই বলেও আদালতকে জানান। মূলত ভুল বোঝাবুঝি থেকে মামলাটি হয়। তাদের

কাছ থেকে এজাহারে জোরপূর্বক সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবদুল মোন্নাফ, নুরুস সালাম ও রবিউল ইসলাম। আদালত থেকে বেরিয়ে তারা তুফানের জামিনের বিষয়ে জানালেও বাদী যে আসামিদের পক্ষে কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে তারা কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি চুল কেটে দেওয়া ও মা-মেয়েকে নির্যাতনের অপর মামলায় তুফান জামিনে রয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে আইনজীবী আবদুল মোন্নাফ সে বিষয়েও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপর এক আইনজীবী অবশ্য জানান, বহুল আলোচিত ওই মামলাটি মীমাংসা হয়েছে। তাই ভিকটিম ও বাদী আদালতে তুফান সরকারের পক্ষে কথা বলেছেন। ফলে শুনানি শেষে আসামিকে জামিন দিয়েছেন বিচারক।

তুফান সরকার ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা অবশ্য আগে থেকেই জামিনে রয়েছেন। তারা হলেনÑ তুফানের স্ত্রী তাছমিন রহমান ওরফে আশা, আশার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান ওরফে রুমকি, তাদের মা লাভলী রহমান ওরফে রুমি, তুফানের সহযোগী আতিকুর রহমান ওরফে আতিক, মুন্না, আলী আযম, মেহেদী হাসান ওরফে রুপম, সামিউল হক ওরফে শিমুল ও এমারত আলম খান ওরফে জিতু।

ধর্ষণের শিকার কলেজ ভর্তিচ্ছু ওই ছাত্রীর মা গত ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ভালো কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার নামে তুফান সরকার তার মেয়েকে শহরের চকসূত্রাপুরের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তুফানের স্ত্রী, বোন, মা ও অন্যরা ভিকটিম এবং তার মাকেও নির্যাতন করেন। নাপিত ডেকে এনে তাদের মাথাও ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে এলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ পর্যায়ক্রমে তুফান সরকারসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

এমনকি গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এই মামলার ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত ১-এর বিচারক একেএম ফজলুল হক। ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আসামিপক্ষ আবেদন করলে ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই আদেশ খারিজ করে আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ বহাল রাখেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ আলোচিত এই ধর্ষণ মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে মা-মেয়েকে নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় করা আরেকটি মামলায় গত বছরের ৭ নভেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালত ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জগঠন) করেন।

এদিকে ঘটনার পর পরই তুফান সরকারকে শ্রমিক লীগ থেকে এবং তার ভাই মতিন সরকারকে বহিষ্কার করা হয় যুবলীগ থেকে। গ্রেপ্তারের পর অন্যরা জামিনে ছাড়া পেলেও তুফান সরকার জেলেই আছেন।

advertisement