advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দলীয় কোন্দলেই হার নৌকা-ধানের শীষের

প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া ও জিল্লুর রহমান, আদমদীঘি
১৮ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৫
advertisement

দ্বিতীয় ধাপে বগুড়ার তিন পৌরসভার নির্বাচনে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। দলীয় কোন্দল, প্রার্থী নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত ও সর্বপরি স্থানীয় নেতাকর্মীদের অসহযোগিতায় দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় নেতাদের একাংশ গোপনে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই শেরপুর পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এ সবই দুই পৌরসভায় নৌকা ও ধানের শীষের ভরাডুবির মূল কারণ বলে মনে করছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। যার কারণে শেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থী, সারিয়াকান্দিতে বিএনপি প্রার্থী এবং সান্তাহার পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।

১৩৬ বছরের প্রাচীন পৌরসভা শেরপুর। এখানে গত শনিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জানে আলম খোকা। গত নির্বাচনে এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুস সাত্তার জয়লাভ করেন। এবারও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় হন। বিএনপি প্রার্থী হন তৃতীয়।

পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে প্রার্থী আবদুস সাত্তার বলেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে দুদিন পর এ বিষয়ে জানাবেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব আম্বিয়া বলেন, দলে কোনো সমন্বয় ছিল না। যার কারণে হারতে হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

ভরাডুবি প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী স্বাধীন কুমার কু-ু বলেন, জনগণ আমাকে চায়নি বলেই ভোট দেয়নি। অযথা মানুষকে দোষ দিয়ে কী লাভ।

সারিয়াকান্দি পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মতিউর রহমান মতি। এ পৌরসভায় বিএনপি

মনোনীত প্রার্থী ছাবিনা ইয়াছমিনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। মূলত বিএনপি নেতাকর্মীদের অসহযোগিতায় তিনি পরাজয় বরণ করেন। দলীয় কোন্দলের কারণে কেউ তার প্রচারে অংশ নেননি। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় সাধারণ মানুষও অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

তবে প্রার্থী ছাবিনা ইয়াছমিন পরাজয়ের কারণ হিসেবে বলেন, ইভিএমে ভোট কারচুপি করে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দল প্রভাব খাটিয়ে কেন্দ্র থেকে তার এজেন্ট বের করে দিয়েছে। তবে ব্যালট পেপারে ভোট হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন।

সান্তাহার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মীর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও দলীয় প্রার্থীকে অসহযোগিতা করা। শুধু তাই নয়, স্থানীয় নেতাদের একাংশ গোপনে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করেন। এ জন্য নৌকার পরাজয়ই হয়েছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম মন্টু।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও নবনির্বাচিত কাউন্সিলর জার্জিস আলম রতন বলেন, কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে প্রার্থী হওয়ায় নৌকার কাজ তেমন একটি করতে পারিনি। তবে মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম নৌকা জিতে যাক।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম মন্টু বলেন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, সেভাবে স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতা পাইনি। বরং নেতাকর্মীদের অসহযোগিতা আর অন্তর্কোন্দলের কারণে ভোট বঞ্চিত হয়েছি। সামনে নৌকার পক্ষে কাজ করার কথা বললেও পেছনে অনেকেই তা করেননি।

সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, মাত্র ৩৮৬ ভোটে নৌকা প্রার্থী হেরে যান। যদি পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা জার্জিস আলম রতন নৌকার বিপক্ষে না যেতেন, তা হলে নৌকা এখানে জিতত। নিজে কাউন্সিলর পদে জিততে বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থীকে বসিয়ে দেন জার্জিস। আর এর বিনিময়ে নৌকার ভোটগুলো তিনি ধানের শীষের সঙ্গে বিনিময় করেন। এ কারণে নৌকা প্রায় ৬০০ ভোটে হেরে যায়। শুধু তাই নয়, অন্য আরও যে দুজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তারাও নৌকার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেননি। এ বেইমানি শুধু আশরাফুল ইসলাম মন্টুর সঙ্গে করা হয়নি, এটি নৌকা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও করা হয়েছে।

advertisement