advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বসুরহাট নির্বাচন আওয়ামী ভণ্ডামীর নতুন মডেল : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৫:১২ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ১৫:৩১
বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পুরোনো ছবি
advertisement

আওয়ামী লীগের সকল কাজই প্রকৃতপক্ষে এক ছলনা ছাড়া কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গত শনিবার দ্বিতীয় ধাপের ৬০টি পৌরসভায় আগের মতোই ব্যাপক সহিংসতা, রক্তপাত ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন করেছে ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচন নিয়ে অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশের কোনো পরিবর্তনই হয়নি। নোয়াখালীর বসুরহাট পৌর নির্বাচনকে আওয়ামী ভন্ডামীর নতুন মডেল বলেও মন্তব্য করেন।

আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীরের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অথচ সিইসি নুরুল হুদার নেতৃত্বে যে কমিশন সেই কমিশনের অধীনে আজ পর্যন্ত একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। সবকিছু ধ্বংস করে শুধু শেখ হাসিনার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য নৌকাকে বিজয়ী করাকে তিনি তার আদর্শিক কাজ বলে মনে করেন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকায় বসুরহাট পৌরসভায় তার আপন ছোট ভাই বহুল আলোচিত আব্দুল কাদের মির্জার বিজয়ে অতি আনন্দিত হয়েছেন। খুশিতে গদগদ হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, “বসুরহাটে যে নির্বাচন হয়েছে সেটা নাকি স্বচ্ছতার মডেল’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি ‘বসুর হাট' মডেল নির্বাচন চান।” প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার বেহুদা নির্বাচনে নিজের ছোটভাই আব্দুল কাদের মির্জার জয় লাভের আনন্দে ছোট ভাইয়ের মতোই ওবায়দুল কাদেরের এই মন্তব্যে একটি প্রবাদের কথা মনে পড়ে গেলো, ’পাগলের সুখ মনে মনে, পাতা টোকায় আর টেকা গোনে’।

রিজভী বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব এবং নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রীর 'বসুরহাট মডেল' এর মর্মার্থ হলো 'সবই আমরা আমরা'। এই মডেলে তারা নিজেরাই নিজেদের প্রশংসায় ভাসিয়ে দেবে আবার নিজেরাই নিজেদের বিরোধিতায় মেতে উঠবে। এমন বিরোধিতা যাতে একদিকে গণমাধমকে ব্যস্ত রাখা যায় আবার অপরদিকে নির্বাচন নামের প্রহসনকে আলোচনায় রাখা যায়। এটাই হলো 'বসুর হাট' মডেল। এই মডেলে, সব প্রশংসা নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য আর সমালোচনা সব আওয়ামী লীগের অন্য সব নেতাদের। আওয়ামী লীগের সকল কাজই প্রকৃতপক্ষে এক ছলনা ছাড়া কিছুই নয়।’

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘ফেনী জেলার পরশুরাম পৌর সভা নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন নাসিমের চাচাতো ভাই সাজেল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী। বিএনপির প্রাথী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ কারার পর থেকে শত শত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসহ তার বাড়ী এবং পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এমনকি তার পরিবারকে ২ দিন যাবৎ খাবার সংগ্রহ করতে দেয়া হয়নি। সেখানে পুলিশের সাহায্য চাওয়ার পর সেখানে পুলিশ গেলেও তাদেরকে কোনো সহযোগিতা করেনি। যারা যারা প্রার্থীর সাথে ছিল তাদের পরিবারকেও অবরুদ্ধ করে এবং মারধর করে পুরো পরশুরামকে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বিএনপি নেতা রোকন্জ্জুামান লিটন, আলম, শ্রমিক দল নেতা আলমগীর এবং সাকে ছাত্রনেতা জহিরুল এর উপর হামলা করে আহত করে এবং তার যাতে বাড়ীথেকে বের হতে না পারে এবং ঢুকতে না পারে তাদের বাড়ীর রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ করো হয়।

সর্বশেষ দলীয় প্রার্থী যদি নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ায় তাহলে তার মেয়েকে অপহরণ করার হুমকি দেয়া হয়। যার কারণে গতকাল রোববার দুপুর ২ টায় ফেনী জেলা বিএনপি ও পরশুরাম বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি’র প্রার্থী কাজী ইউসুফ মাহফুজ নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মানোনয়ন পত্র দখিল করে নাই। এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

advertisement
Evaly
advertisement