advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ‘গায়েবি ভোট’

নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া
১৮ জানুয়ারি ২০২১ ২০:২৪ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ২০:৫১
প্রতীকী ছবি
advertisement

ভোট দিয়েছেন ১৬৫৩ জন। কিন্তু গণনার সময় ব্যালট পাওয়া গেছে ১৬৭৩ জনের। প্রাপ্ত ভোটের অতিরিক্ত ২০ জনের ‘গায়েবি ভোট’ ও ভোটার সম্পর্কে কিছুই জানেন না সংশ্লিষ্টরা। দ্বিতীয় ধাপে গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্রে এমনটি ঘটেছে।

আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে হেরে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই ব্যালট সরবরাহ করেছেন। সেইসঙ্গে তার ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখান করে ওই ওয়ার্ডে পুনরায় নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আজ সোমবার বেলা ১০টায় শহরের স্থানীয় শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দেন, পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুণ্ডু। এসময় কাউন্সিলর প্রার্থী তাপস মালাকার, নাজমুল হক লুলুসহ তাদের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ কুণ্ডু বলেন, ‘১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই ওয়ার্ডে মোট নারী-পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ১১৫ জন। এরমধ্যে নির্বাচনের দিন শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫৩ জন ভোটার ভোট দেন। খাতা-কলমে সেটিই লিপিবদ্ধ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যাম পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৮৬ ভোট, বিদ্যুৎ কুণ্ডু উটপাখি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৮১ ভোট, তাপস মালাকার পাঞ্জাবি প্রতীক নিয়ে ৪২৯ ভোট ও নাজমুল লুলু ডালিম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২১৫ ভোট। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪২টি। মোট প্রদত্ত ভোট ১৬৫৩টি।’ কিন্তু ঘোষিত ভোটের ফলাফল ও ব্যালটের সঙ্গে কোনো মিল নেই বলে জানান বিদ্যুৎ কুণ্ডু।

বিদ্যুৎ কুণ্ডু বলেন, ‘গণনায় প্রাপ্ত ভোটের ব্যালট পাওয়া যায় ১৬৭৩টি। অর্থাৎ অতিরিক্ত থাকে আরও ২০ ব্যালট। বিষয়টি জানতে চাইলে এই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস কোনো সদুত্তর দেননি। বরং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের কোনো অভিযোগ ও কথা না শুনে ফলাফল নয়ছয় করে মাত্র ৫ ভোট বেশি দেখিয়ে কাউন্সিলর পদে সোমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যামকে জয়ী ঘোষণার পর তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই তরিঘরি করে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেন। এরপর আমি ও বাকি দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনের দিনগত রাতেই এই ফলাফল জালিয়াতির বিষয়টি জানিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। পরবর্তী সময়ে রাতভর দুইদফা ভোট গণনা করে একই ফল দাঁড়ায়।’

কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুণ্ডু অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সোমেন্দ্র নাথকে জেতানোর দায়িত্ব নেন। শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় এই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, ‘আমরাও বুঝতে পারছি না অতিরিক্ত ব্যালট কীভাবে এলো। তবে একাধিকবার ভোট গণনা করে দেখা যায় কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুণ্ডুর উটপাখি মার্কার বান্ডিলে বেশকিছু জাল ব্যালট পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে সেসব বাতিল করা হয়। এতে করে একটু গরমিল হতে পারে।’ এ ছাড়া তিনি কোনো অনিয়মের মধ্যে নেই বলে দাবি করেন।

সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আছিয়া খাতুন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অতিরিক্ত ব্যালটগুলো সম্ভবত অন্য কোনো কেন্দ্রের। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ওইসব ব্যালট এনে বাইরে সিল মেরে ভোট দিতে গিয়ে বাক্সে ফেলেছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর একাধিকবার ভোট গণনাসহ ভুয়া ব্যালটগুলো চিহ্নিত করে তা বাতিল করা হয়।’ সেইসঙ্গে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী সৌমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

advertisement
Evaly
advertisement