advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

উচ্চ আদালতে আটকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু

কবির হোসেন
১৯ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ০৯:১১
advertisement

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় অর্ধডজন মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আটকে আছে সর্বোচ্চ আদালতে। এগুলোর মধ্যে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদমর্যাদাসংক্রান্ত রিটের বিষয়টি আটকে আছে রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদনে। আর বিতর্কিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল; পার্বত্য শান্তিচুক্তির কয়েকটি ধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা; ওয়ান-ইলেভেনের সময় বড় বড় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অবৈধভাবে নেওয়া টাকা ফেরত প্রদান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিল বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আইনি বিতর্ক বছরের পর বছর আটকে আছে। এগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনেক সময় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আছে কিনা, আইনাজ্ঞনে তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক হতে দেখা গেছে। পদমর্যাদার রায়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে বিচার বিভাগে। এমনকি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত

পরিচালনা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এসব ইস্যু দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

জানতে চাওয়া হলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, মামলাগুলো আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যতালিকায় এলে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এ ব্যাপারে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এসব মামলা দেশবাসী ও রাষ্ট্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ব্যাপারে সবাই দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মামলাগুলোর শুনানি হচ্ছে না। মূল কারণ হচ্ছে সরকারপক্ষ থেকে যারা দায়িত্বে আছেন, তারা অদৃশ্য কারণে বিলম্ব করছেন। এ ছাড়া আদালতও এগুলোর দিকে দৃষ্টি দিচ্ছেন না। আমি মনে করি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। কারণ জনমনে এসব ইস্যুতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

ষোড়শ সংশোধনী

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেওয়া পুরো রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই আবেদন দায়েরের পর কেটে গেছে তিন বছরেরও বেশি সময়। রিভিউ আবেদনটি এখনো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়। অসামর্থ্যতা ও অযোগ্যতার কারণে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিয়ে সংশোধনীটি করা হয় ২০১৪ সালে। এর আগে এ ক্ষমতা ছিল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। এর পর সংশোধনীটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন নয় আইনজীবী। পরে হাইকোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংশোধনীটি বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। আপিল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে দেওয়া রায় ২০১৭ সালে বহাল রেখে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করেন। আপিল বিভাগের রায়ে দেওয়া কিছু পর্যবেক্ষণ তখন দেশের রাজনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। সে সময় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগের দাবিও তোলে একটি পক্ষ।

এমনই এক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করে। ৯০৮ পৃষ্ঠার এই রিভিউ আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৯৪টি যুক্তি তুলে ধরে। রায়ে দেওয়া কিছু আপত্তিকর পর্যবেক্ষণকে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানায়। বিশেষ করে ‘ফাউন্ডিং ফাদার অব দ্য ন্যাশনের স্থলে ফাউন্ডিং ফাদার’স অব দ্য কান্ট্রি’, ‘আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সংসদ শিশু অবস্থায় রয়ে গেছে, জনগণ এ দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা অর্পণ করতে পারছে না’, “সংসদীয় গণতন্ত্র অপরিপক্ব। যদি সংসদের হাতে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে তা হবে আত্মঘাতী’; ‘আমাদের অবশ্যই এই নোংরা ‘আমাদের লোক’ মতবাদ পরিহার করতে হবে। পরিত্যাগ করতে হবে এই আত্মঘাতী ‘আমি একাই সব’ দৃষ্টিভঙ্গি”- রায়ের এসব পর্যবেক্ষণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনে পুরো রায়টি পুনর্বিবেচনা চাওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও আবেদনটির শুনানি আর হয়নি। সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলে। বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনারদের অপসারণের বিধান একই হওয়ায় তাদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মুখোমুখি করার আবেদন জানায়। কিন্তু দেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আছে কিনা সেটা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। এ ধরনের আইনি বিতর্ক এড়াতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে করা রিভিউ আবেদনটি দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেন।

জজদের পদমর্যাদা

বিচারকদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম সংশোধনের নির্দেশনা দিয়ে ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি রায় দেন আপিল বিভাগ। ওই রায়ে তিন দফা উল্লেখ করে বলা হয়- এক. সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, সেহেতু রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতেই সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্ব অনুসারে রাখতে হবে; দুই. জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৬ নম্বরে সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন এবং তিন. অতিরিক্ত জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অবস্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৭ নম্বরে। এ তিন দফার আলোকে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) সংশোধন করতে বলা হয় ওই রায়ে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সরকারের সব কাজ ও উৎসবে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলোয় রাষ্ট্রের সব কাজে এটির ব্যবহার হয় না। এ কারণে হাইকোর্ট বিভাগ যথার্থই বলেছেন, জনগণের চোখে একজনের তুলনামূলক মর্যাদা পরিমাপের ক্ষেত্রে এ ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ই সরকারের একমাত্র পদ্ধতি। সাংবিধানিক পদধারীরা ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের সঠিক স্থানে নেই উল্লেখ করে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং কিছু জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সাংবিধানিক পদধারীদের ওপরে ১২ নম্বর ক্রমিকে স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু সাংবিধানিক পদধারী যেমন, সংসদ সদস্যরা ১৩ নম্বর ক্রমিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, অম্বুডসম্যান (ন্যায়পাল) ১৫ নম্বর ক্রমিকে এবং পিএসসির চেয়ারম্যান ১৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন।

রায়ে জেলা জজদের ১৬ নম্বরে রাখার যুক্তি হিসেবে আপিল বিভাগ বলেন, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, বর্তমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী হাইকোর্টের বিচারপতিদের রাখা হয়েছে নয় নম্বর ক্রমিকে। আর জেলা জজদের রাখা হয়েছে ২৪ নম্বরে। কিন্তু একজন জেলা জজকে যখন সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ করা হয়, তখন তার পদক্রম যায় নয় নম্বরে। এভাবে সংবিধানে উল্লেখিত জেলা জজদের রাখাটা অবমাননামূলক ও লজ্জাজনক। কেননা জেলা জজ পদটি জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ। এ রায়টি পুনর্বিবেচনা চেয়ে ২০১৭ সালের প্রথম দিকে রাষ্ট্রপক্ষ একটি রিভিউ আবেদন করে। এর পর প্রায় চার বছর পার হতে চলেছে। কিন্তু রিভিউ আবেদনটির নিষ্পত্তি হয়নি।

ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত

ওয়ান-ইলেভেনের সময় ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা তিন মাসের মধ্যে ফেরত দিতে বলা হয় ২০১৭ সালে আপিল বিভাগের রায়ে। এর পর রায়টি রিভিউ চেয়ে ওই বছরেই আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার পর রিভিউ আবেদনটির শুনানি করে আপিল পুনঃরায় শুনানির জন্য ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। এতে আটকে আছে ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরতের বিষয়টি।

২০০৭-এর এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সেনাসমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জরুরি অবস্থার সময় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা আদায় করেন। এই টাকা দুই শতাধিক পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ০৯০০ নম্বর হিসাবে জমা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নানা ধরনের আলোচনা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরত না পেয়ে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট টাকা ফেরত দেওয়ার রায় দেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক আপিল করে। ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ ওইসব আপিল খারিজ করে ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জব্দ করা টাকা ফেরতের নির্দেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

যেসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরতের নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে- এস আলম গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৬০ কোটি, দ্য কনসলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি লিমিটেড ও বারাউরা টি কোম্পানি লিমিটেডের ২৩৭ কোটি ৬৫ লাখ, মেঘনা সিমেন্টের ৫২ কোটি, বসুন্ধরা পেপার মিল ও ইস্ট-ওয়েস্ট প্রপার্টির ১৫ কোটি, ইস্ট-ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের এক পরিচালকের ১৮৯ কোটি, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডের ৯০ লাখ, ইউনিক সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের ৭০ লাখ, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের ১৭ কোটি ৫৫ লাখ, বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের ৭ কোটি ১০ লাখ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ৩৫ কোটি এবং ইউনিক ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী মো. নূর আলীর ৬৫ লাখ টাকা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনাসংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের ১১ মে হাইকোর্ট ওই রায় দেন। এর পর ১৪ মে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই রায় স্থগিত রেখেছেন। ফলে আপাতত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় এর বৈধতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

জামায়াতের নিবন্ধন

২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর ও বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সনদ দেন। দলটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টের ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিলও করা হয়। আপিলের নম্বর ৭৭৮/১৩। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পার হলেও আপিলটি নিষ্পত্তি হয়নি।

পার্বত্য শান্তিচুক্তি

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০০ সালে রাঙামাটির বাঙালি অধিবাসী মো. বদিউজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। পরে ২০০৭ সালে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম শান্তিচুক্তির বৈধতা নিয়ে অন্য একটি রিট আবেদন করেন। বদিউজ্জামানের রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে রুল জারি করেন সরকারের প্রতি। অন্যদিকে তাজুল ইসলামের রিট আবেদনে পার্বত্য শান্তিচুক্তি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে সরকারের প্রতি রুল জারি করা হয়। এ দুটি রিটের শুনানি করে ২০১০ সালের ১২ ও ১৩ এপ্রিল বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চ রায় দেন।

রায়ে শান্তিচুক্তির পর প্রণীত পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও জেলা পরিষদের আইনের কিছু ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। তবে রায়ে পার্বত্য শান্তিচুক্তিকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সেই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এর পর ২০১১ সালের মামলাটির আপিল শুনানির দিনও ধার্য হয়। কিন্তু সেই শুনানি আর হয়নি।

advertisement
Evaly
advertisement