advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বাইডেনের অভিষেক আদ্যোপান্ত

অনলাইন ডেস্ক
২০ জানুয়ারি ২০২১ ১৭:০৭ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২১ ২১:১২
জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আজ  স্থানীয় সময় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টায়) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করবেন।  এই দিন একই সাথে শপথ নেবেন দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হওয়া নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

অভিষেক কী?

অভিষেক হলো সেই আনুষ্ঠানিকতা যেখান থেকে নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি হচ্ছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন আইনসভা ক্যাপিটল ভবন প্রাঙ্গনে।

এই অনুষ্ঠানের একমাত্র অবশ্য পালনীয় অনুষঙ্গ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট-ইলেক্টের শপথ গ্রহণ, যেখানে তিনি বলেন, ‘আমি একনিষ্ঠভাবে শপথ গ্রহণ করছি যে, আমি বিশ্বস্ততার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দায়িত্ব সম্পাদন করব এবং আমি আমার সামর্থের সবটুকু দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রতিপালন করব।’

প্রথমে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিস, পরে প্রেসিন্টে হিসেবে শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন বাইডেন।  তারপর হোয়াইট হাউজে চলে যাবেন তিনি, যেটা হতে যাচ্ছে তার আগামী চার বছরের কর্মস্থল ও বাসস্থান।  এই মূল আনুষ্ঠানিকতার পরই শুরু হবে উদযানপন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার হাল-চাল

প্রেসিডেন্টের অভিষেকে প্রথাগতভাবেই কড়া নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকে। আর ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব চালানোর কারণে এবার নিরাপত্তা থাকছে অনেক বেশি।

মার্কিন কর্মকর্তারা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন, শহরের বেশিরভাগ অংশেই চলাচল আটকে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার নেতৃত্বে আছে সিক্রেট সার্ভিস, যাদের সাথে যোগ হয়েছে ১৫ হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য। আর অতিরিক্ত হিসেবে হাজার হাজার পুলিশ অফিসারতো থাকছেনই।

এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে আগে থেকেই জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে, যা বলবৎ থাকবে অভিষেক শেষ হওয়া পর্যন্ত।

ট্রাম্প কি অভিষেকে থাকবেন?

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের সময় সশরীরে উপস্থিত থাকবেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রে একটা প্রথায় পরিণত হয়েছিল। যদিও এই প্রথা কখনো কখনো অপ্রস্তুত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু এই বছর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যোগ হচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। অভিষেক অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাজিরই হচ্ছেন না। গত ৮ জানুয়ারিতেই একটি টুইট করে সেটি জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘যারা যারা জানতে চেয়েছেন তাদের সবার উদ্দেশে, ২০ জানুয়ারির অভিষেকে আমি যাচ্ছি না। ’

ট্রাম্প সমর্থকদের পাল্টা অভিষেক

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু সমর্থক বলছেন, বাইডেন যে সময়ে শপথ নেবেন, ঠিক একই সময়ে তারা একটা ভার্চুয়াল দ্বিতীয় অভিষেকের পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্পের জন্য।

ফেসবুকে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ বলেছেন, তারা ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দেখাতে এই অনলাইন ইভেন্টে যোগ দেবেন।

করোনার বাগড়া

সাধারণ পরিস্থিতিতে, অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লাখো মানুষ রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এসে জড়ো হন।  কিন্তু এ বছরের উদযাপনে চরম কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাইডেন টিম। তারা আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজধানীতে না আসার জন্য। ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার মঞ্চে যে শ’দুয়েক মানুষ বসবেন, তাদের আসন সাজানো হবে সামাজিক দূরত্ব মেনে।

মঞ্চে যারা থাকবেন তাদের প্রত্যেকের মুখই থাকবে মাস্কে ঢাকা, অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগে সবারই কোভিড-১৯ আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখার কথা। অতীতে আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে দুই লাখ পর্যন্ত টিকেট ছাড়া হতো, এবার মহামারির কারণে টিকিট ছাড়া হয়েছে মাত্র এক হাজার।

কোন কোন তারকা থাকবেন?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন প্রেসিডেন্টরা অভিষেকের দিনে দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় তারকাদের হাজির করেছেন। মহামারি সত্ত্বেও এ বছরও ব্যতিক্রম হবে না।

জো বাইডেনের সক্রিয় সমর্থক লেডি গাগা উপস্থিত থাকবেন এবারের অভিষেকে। তিনি জাতীয় সঙ্গীত গাইবেন। পরে মঞ্চে গান গাইবেন জেনিফার লোপেজ।

আর শপথ গ্রহণের পর অভিনেতা টম হ্যাংকসের উপস্থাপনায় ৯০ মিনিটের একটি টেলিভিশন শো হবে। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জন বন জোভি, ডেমি লোভ্যাটো এবং জাসটিন টিম্বারলেক।  অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ টিভি নেটওয়ার্ক এবং স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলোতে সম্প্রচারিত হবে।

advertisement
Evaly
advertisement