advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ভার্চুয়াল সংলাপে সিপিডি
এলডিসি উত্তরণে বাজার সুবিধা সঙ্কুচিত হবে

২১ জানুয়ারি ২০২১ ০১:১৩
আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ০১:১৩
advertisement


এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ রপ্তানির ক্ষেত্রে যে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা পায়, তা সঙ্কুচিত হবে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল বুধবার সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ইবিএ এবং জিএসপির সম্ভাবনা : শ্রম আইন ও অধিকার সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংলাপে এমন মতামত তুলে ধরা হয়। সংলাপে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে শ্রম আইন ও অধিকার বিষয়ে অব্যাহত সংস্কার জরুরি বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
সংলাপে সূচনা বক্তব্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা পেতে প্রাসঙ্গিক মানদ-গুলোর পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনগত ত্রুটিগুলো পর্যালোচনা এবং শ্রমের মান সম্পর্কিত জিএসপির সব প্রয়োজনীয়তা পূরণ বিষয়ে যৌথভাবে সিপিডি ও নেটওয়ার্কস ম্যাটার
এ গবেষণা পরিচালনা করেছে।
মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধা একটি বাণিজ্য কাঠামো প্রদান করে, যা পেতে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে মানবাধিকার এবং শ্রম অধিকারের সুরক্ষা ও প্রচারের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জিএসপি + সুবিধা পেতে শ্রম আইন নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।’ এ ক্ষেত্রে শিশু শ্রম, ট্রেড ইউনিয়ন আইন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিসহ শ্রম আইন ও অধিকারের সংস্কারের উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সিপিডি বলছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ রপ্তানির ক্ষেত্রে যে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা পায়, তা সঙ্কুচিত হবে। বাংলাদেশের জন্য বৃহত্তম রপ্তানি বাজার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত হতে পারলে উত্তরণ-পরবর্তীকালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক দেওয়া থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এ সুবিধা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ২৭টি মানবাধিকার ও শ্রমমান সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক রীতি মেনে চলতে হবে। যার মধ্যে ১৫টি আইএলওর শ্রমমানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিঙ্ক ও আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পটিয়াইনন সংলাপে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিঙ্কর মতে, বাংলাদেশকে শ্রমিকবান্ধব একটি দেশ হিসেবে পরিচিত করার প্রয়োজন রয়েছে, যা শুধু জিএসপি সুবিধা পেতে নয়, বরং শ্রমিকদের সামগ্রিক উন্নয়নে সাহায্য করবে। টুওমো পটিয়াইনন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন এবং শ্রম আইন ও অধিকার বিষয়ে সংলাপ চলমান রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন।
দেশে অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের ব্যাপকতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কামরান টি রহমান বলেন, ‘এই খাতে শ্রমিক আইন বাস্তবায়ন করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জগুলোকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার দরকার আছে বলে মনে করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে শ্রম আইন ও অধিকার নিশ্চিতের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ অনেকে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

advertisement
Evaly
advertisement