advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢাকায় এলো ভারতের উপহারের ২০ লাখ ডোজ
টিকা প্রয়োগ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
২২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ২২:২০
advertisement

উপহার হলেও করোনা ভাইরাসের বহু কাক্সিক্ষত টিকা এলো বাংলাদেশে। ভারত সরকারের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে দেশটির টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকা প্রয়োগ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন।

এদিন টিকার চালান নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট বেলা ১১টা ৪০ মিনিট হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কাস্টমস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে দুটি ফ্রিজার ভ্যানে করে পুলিশ প্রহরায় টিকার বাক্স নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার ঢাকা জেলা ইপিআই স্টোরেজে। ‘ভ্যাকসিনমৈত্রীর’ আকাশি রঙের ব্যানারে ঢাকা ওই ফ্রিজার ভ্যানের গায়ে আঁকা ছিল দুই দেশের পতাকা। লেখা ছিল- ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহারস্বরূপ ভারতে উৎপাদিত ২০ লাখ ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন।’ দুপুর ১টার দিকে স্টোরেজে ইপিআইয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাওলা বক্স, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম, তেজগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুলসহ কর্মকর্তারা টিকা বুঝে নেন।

স্টোরেজে টিকা রাখার পর এর কিছু নেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। সেখানে উপহার হিসেবে ২০ লাখ ডোজ

করোনার টিকা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে ভারত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে পৃথকভাবে করোনার টিকার দুটি বক্স তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। সে সময় বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাসের ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার দেওয়াটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তারই পরিচয় বহন করে। আজ একটি ঐতিহাসিক দিন, ভারত সরকার আমাদের ২০ লাখ টিকা উপহার হিসেবে দিচ্ছে। আমাদের কোম্পানিগুলো যে চুক্তি করেছে তার ৩ কোটি ডোজ আসবে। আমরা এ জন্য ভারত সরকার ও ভারতের জনগণকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিন থেকে বলে আসছেন, সব দেশকে সহযোগিতার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে হবে। এ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের বড় নমুনা আজকে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্জন। আমরা মনে করি, প্রত্যেক দেশেরই এ সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। অনেক উন্নত দেশ এখনো ভ্যাকসিন পায়নি। গুটিকয়েক উন্নত দেশ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছে। আর আমরা প্রথম সারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। শুরুতে ভ্যাকসিন পাওয়ার কারণে আমরা ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘ভারত সরকার আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে, সেভাবে আজকে তারা মহামারীর সময়েও সাহায্য করল ভ্যাকসিন দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির যে বন্ধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের বনধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের জনগণের যে বন্ধুত্ব, যে সহানুভূতি-সহমর্মিতা- তার প্রমাণ এ ভ্যাকসিন। আমরা যে কোনো দুর্যোগ একসঙ্গে মোকাবিলা করব।’

বাংলাদেশ সরকারিভাবেও সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে কোভিশিল্ড টিকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে। যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে টিকা নিয়ে যে চুক্তি তা যেভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে। আমি ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, এ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটাও যেন তারা দেখেন। যাতে আমরা ভ্যাকসিনটি পাই, সময়মতো।’ সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, আগামী ছয় মাসে ৫০ লাখ করে ভ্যাকসিন আসার কথা। এ মাসে আরও ৫০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। যদি আমরা পেয়ে যাই, তা হলে ৭০ লাখ ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকবে। ৩৫ লাখ লোককে এ ভ্যাকসিন আমরা দিতে পারব।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ভারত সরকারের যে প্রতিবেশী প্রথম নীতি, সেটা গত এক বছর ধরে মহামারীর সময়ে আমরা দেখেছি। এখন ভ্যাকসিন আসার মাধ্যমে তাদের সে নীতি আবারও প্রমাণিত হয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকার সাফল্য অর্জন করেছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্লুমবার্গের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়াতে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ এক নম্বরে এবং বিশ্বের মধ্যে ২০ নম্বরে রয়েছে। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তৃণমূলের সব স্বাস্থ্যকর্মীকে ধন্যবাদ জানাই। সামনের দিনে এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী অনুষ্ঠানে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই ২০ লাখ ডোজ টিকা এলো। ভারতে টিকা কার্যক্রম শুরুর চার দিনের মাথায় বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। যাতে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রও একই সময়ে জনগণের ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে পারে। প্রতিবেশী প্রথমে নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতি ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ উপহার আসলে ভারতের প্রতিবেশী কোনো দেশকে দেওয়া সবচেয়ে বড় পরিমাণ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাইকমিশন জানিয়েছে, উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য ভারত সরকার এসব টিকা তার নিজস্ব কোটা থেকে কিনেছে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর করোনার টিকা বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর টুইট করেছেন। টুইটে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় ভারত। ভ্যাকসিন মৈত্রী তারই নজির।’ ওই টুইটে দুটি ছবি যুক্ত করে টিকা বহনকারী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজের ঢাকায় অবতরণের খবরও দেন জয়শঙ্কর।

advertisement
Evaly
advertisement