advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শাহজালালে মশক নিয়ন্ত্রণে ৭ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:০৩
advertisement

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশার উৎপাত বেড়েছে। মশার কারণে ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনাও ঘটেছে। বিমানবন্দরের বাইরের এলাকা থেকে মশা আসছে এমন অভিযোগ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরে মশার প্রজনন ক্ষেত্র আছে, রয়েছে পরিচ্ছন্নতার অভাব। যে কারণেই মশার উৎপাত বাড়–ক না কেন এর সমাধানে গতকাল সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন এ কমিটিতে।

তার আগে গতকাল সকালে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের সম্মেলনকক্ষে এ নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে

মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবাইদুর রহমান ও হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগে শাহজালাল বিমানবন্দরে সন্ধ্যার পর মশা মারার জন্য ওষুধ ছিটানো হতো। বর্তমানে দুপুর থেকেই মশা নিধনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া কখনো কখনো ফ্লাইট ছাড়ার আগেও উড়োজাহাজের আশপাশে দেওয়া ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু মশা দূর হয় না। এর কারণ হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বলছে, বিমানবন্দর স্টেশনের প্ল্যাটফরমের পূর্বদিকে ৫০টি পুকুর আছে, যেগুলো মশার প্রজননক্ষেত্র। সেখানে কচুরিপানা সরিয়ে প্রয়োজনে মাছ চাষের জন্য লিজ দিতে পারে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশের ডোবাগুলোয় থাকা কচুরিপানাও মশা উৎপাদনের বড় কারণ। মোটকথা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের ঘাটতি আছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ গতকালের বৈঠকে বলেছেন, বাইরে থেকেও মশা আসছে। এ জন্য মশা নিবারণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন, সিডিসি এবং বেবিচকের সমন্বয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে তিন মাইলের অন্তর্ভুক্ত এলাকা পরিচ্ছন্ন করাসহ মশার উৎপত্তিস্থলে ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

গতকাল শাহজালাল বিমানবন্দরের মশক নিধনসংক্রান্ত বৈঠকে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মধ্যে আহ্বায়ক করা হয়েছে বিমান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে (প্রশাসন)। এ ছাড়া যুগ্ম সচিব (সিএ), পরিচালক হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কীটতত্ত্ববিদ, বেবিচকের প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সিএ-১) রয়েছেন এ কমিটিতে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ও এর পার্শ্ববর্তী স্থানে মশক প্রতিরোধ/নিয়ন্ত্রণ/নিধন কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও সমন্বয় করবেন তারা। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন, সিডিসি ও অন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন। কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে আরও রয়েছে মশার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করা এবং লার্ভা বিনষ্ট করতে প্রয়োজনীয় কাজ সমন্বয়।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবাইদুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি ভেহিকল মাউটেন্ড ফগিং মেশিন সরবরাহ করা হবে। তবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। বিমানবন্দরের পুকুর ও ডোবাসহ বিভিন্ন স্থানে মশার প্রজননকেন্দ্র রয়েছে। এগুলো মুক্ত করতে হবে তাদেরই। বিমানবন্দরের নিজস্ব মশক নিবারণী কর্মী নেই। লেবার দিয়ে কাজ সারে তারা। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত করতে সহায়তা করবে সিটি করপোরেশন। প্রয়োজনে আউটসোর্সিংয়ের সাপোর্ট দেওয়া হবে যদি তারা চায়।

এদিকে ডিএনসিসির অভিযোগ, বিমানবন্দরে ভেতর ও বাহিরের একাধিক জলাশয় থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। মশা নিধনে বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল, যন্ত্রপাতি নেই। এ কারণে ডিএনসিসি মশা নিধনে পদক্ষেপ নিলেও কমছে না মশার উৎপাত।

advertisement