advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পার্বতীপুরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

পার্বতীপুর ও নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:০৩
advertisement

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হেলাল সরদার নামে এক কৃষককে জিহ্বা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাতের কোনো এক সময় তাকে হত্যা করে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। গতকাল সকালে পলাশবাড়ী ইউনিয়নের এরশাদনগর এলাকার বন বিভাগের বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বাড়ি পাশর্^বর্তী হাবড়া ইউনিয়নের দরগাপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অবিয়া খাতুন বৃহস্পতিবার পার্বতীপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের আবুল কালাম ও আবদুল কাদেরকে আটক করেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মমিনুল ইসলাম বেলা ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক থেকে গতকাল ভোরে রক্তাক্ত একটি লাশ উদ্ধার করেছে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ। সড়কের পাশে রক্তাক্ত লাশ দেখে পথচারীরা ফাঁড়িতে খবর দেয়। নিহত ব্যক্তি নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ছোট ভাকৈর গ্রামের বড় বাড়ির মরহুম আবুল কালাম আজাদের ছেলে মো. আলমগীর মিয়া। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের দাবি, আলমগীরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্কেল এএসপি

পারভেজ আলম চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

পার্বতীপুরে নিহতের স্ত্রী অবিয়া খাতুন বলেন, গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলেন তার স্বামী। সকালে বিছানায় না দেখে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। গতকাল সকাল ৭টার দিকে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী সড়কের এরশাদনগর এলাকার বন বিভাগের জঙ্গলে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে ছেলে লাল চান।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন থেকে তাদের সঙ্গে প্রতিবেশী সালাম, কালাম ও কাদেরের বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই বছর আগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তার ছেলে মাদ্রাসাছাত্র লাল চান বাদশাকে বস্তায় ভরে একই এলাকার জঙ্গলে ফেলে রাখে। তবে সে যাত্রায় বেঁচে যায় ছেলে। আজ হারাতে হলো স্বামীকে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, কৃষক হেলাল সরদার হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের মাথায়, ঘাড়ে ও গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নবীগঞ্জে নিহত মো. আলমগীর মিয়ার ভাই রুনেল জানান, তার ভাইকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সামছুউদ্দিন জানান, সম্ভবত রাতে কোনো অজ্ঞাতনামা গাড়ি আলমগীরকে চাপা দিয়ে গেছে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে সড়ক দুর্ঘটনার চিহ্ন রয়েছে। তবে নিহতের পরিবার মামলা করলে তারা তদন্ত করে দেখবেন। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকা-, নাকি সড়ক দুর্ঘটনা।

advertisement