advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দুই রোহিঙ্গার জন্মসনদ
সুনামগঞ্জের মেয়র ও আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:০৩
advertisement

দুই রোহিঙ্গাকে জন্মসনদ দেওয়ার মামলায় জামিন পেয়েছেন পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত ও সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য কাওসার আলম। গতকাল তারা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট সুনামগঞ্জ সদর জোনের বিচারক কুদরত-এ-ইলাহীর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক সেলিম নেওয়াজ।

প্রতারণার মাধ্যমে দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে জন্মসনদ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত মামলায় গত বুধবার সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের

কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-১) হোসেন আহমদ রাসেল, পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী পীযূষ কান্তি তালুকদার, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারি পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত, সুনামগঞ্জ বারের আইনজীবী কাওসার আলমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট সুনামগঞ্জ সদর জোনের বিচারক। তবে তারা এজাহারভুক্ত আসামি নন। পুলিশ অভিযোগপত্রে তাদের নাম যুক্ত করেছে।

মেয়র নাদের বখ্ত বলেন, যে ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছিল, সে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যখন এসব সনদপত্র দেওয়া হয়, তখন তিনি ঢাকায় ছিলেন। তখন মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র-১) হোসেন আহমদ রাসেল। তাই এই প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই তিনি যুক্ত নন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করতে আসেন দুই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চার ব্যক্তির সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে আসেন। এই চার ব্যক্তি জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ওইদিন সকালে পাসপোর্টের জন্য তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বিকালে আবার ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দিতে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে দুই রোহিঙ্গা ও তাদের সহযোগী চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেন পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

ওইদিনই প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে জামালগঞ্জ উপজেলার তেরানগর গ্রামের মো. ফরহাদ আহমদ, রামনগর গ্রামের মো. নূর হোসেন, সুজাতপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন ও আমির উদ্দিনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদার। এর আগে ওই দুই রোহিঙ্গা সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপাড়া এলাকার বর্তমান বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয় কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেলের সুপারিশে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে জন্মসনদ নিয়েছিলেন।

এই মামলায় গত ২১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এতে এজাহারভুক্ত চার আসামি ছাড়াও পাঁচজনের নাম যুক্ত করে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরসহ ওই কর্মকর্তারা যুক্ত আছেন। পরে সেটি সত্যায়ন করেন সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য কাওসার আলম।

advertisement