advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মতলব ও লালপুরের ৯ স্থানে ১৪৪ ধারা

নাটোর ও মতলব উত্তর প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:১৬
advertisement

আওয়ামী লীগের বিবদমান গ্রুপগুলোর পাল্টাপাল্টি সভা আহ্বানে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রেক্ষিত সংঘাত এড়াতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাতটি ও নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মতলব উত্তরে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এবং বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুলের সমর্থকরা একই স্থানে একই সময়ে রাজনৈতিক সভা আহ্বান করায় মতলব উত্তর থানার ওসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাতটি পয়েন্টে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এলাকাগুলো হলো- শ্রীরায়েরচর, মোহনপুর, ফতেপুর, একলাশপুর, দশানী, আমিরাবাদ ও মতলব দক্ষিণ ব্রিজের উত্তর পাড়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ১৪৪ ধারা কার্যকর শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে তিন দিনের জন্য ওইসব এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্নেহাশীষ দাশ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উপজেলার সাতটি এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, একই সময়ে একই স্থানে দুজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার পক্ষে সভা আহ্বান করায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘœ ও সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতলব উত্তর থানার ওসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাতটি স্পটে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। এদিকে উপজেলার সাতটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি স্থানে ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের শেখচিলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি সভা আহ্বান করে। সংঘাত এড়াতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই মাঠ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকাল ৩টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় কদিমচিলান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন আহ্বান করেন। ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে এসেছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল। তিনি সভাস্থলে এসে জানতে পারেন, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরে তিনি সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন।

মাজেদুল ইসলাম জানান, তিনি ইউএনওর কাছে ওই মাঠে সম্মেলন আয়োজনের অনুমতি নিয়েছেন। সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকে সেখানে প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য মাইক, শামিয়ানা ও চেয়ার জড়ো করা হয়। দুপুরের দিকে জানতে পারেন, সেখানে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তিনি আরও জানান, একই সময়ে সম্মেলনস্থলে বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা দলের বিশেষ বর্ধিত সভা আহ্বান করেন। অথচ তাদের কোনো পূর্বঘোষণা ছিল না। পূর্বঘোষিত সম্মেলনস্থলে তারা বর্ধিত সভা আহ্বান করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা বর্তমান কমিটিতে থাকায় নতুন কমিটি গড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। তারা কাউন্সিল না করে নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মাজেদুল।

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমাকে ওয়ার্ড সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে অনুযায়ী এসেছিলাম। এসে জানতে পারি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তখন সভাস্থল ত্যাগ করে চলে এসেছি। একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে আমি আইন ভঙ্গ করতে পারি না।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, শেখচিলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাজেদুল ইসলাম ও সেলিম রেজা বিকাল ৩টায় সমাবেশ ডাকেন। এতে সংঘর্ষ এড়াতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

advertisement