advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চার মেয়র প্রার্থীর দুইজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী

গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা
২২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:১৬
advertisement

প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচারে জমে উঠছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। দিন-রাত প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফোটাচ্ছেন প্রার্থীরা। আশ্বাস দিচ্ছেন পরিছন্ন আধুনিক পৌরসভা গড়ার। প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

মেয়র পদে প্রার্থী ৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের রুহেল আহমদ, বিএনপির গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল (জগ) ও সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু (মোবাইল ফোন)। আগামী ৩০ জানুয়ারির ভোটের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বড় প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।

প্রার্থী রুহেল আহমদ জানান, মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। পৌর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় এখনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ব্যাপক প্রয়োজন। বিশেষ করে রাস্তার সমস্যা সমাধানে বিশেষ পরিকল্পনা আছে আমার। প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন কয়েকটি গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশে নির্দিষ্ট মাঠে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা এবং ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মেধাবৃত্তির আয়োজন করা হবে। শিক্ষিত তরুণদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বয়স্ক মানুষ ও বিধবা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসা হবে। নির্বাচিত হলে গোলাপগঞ্জ পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করাসহ সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আগামীর নতুন বাংলাদেশের লক্ষ গ্রাম হবে শহর এবং ডিজিটাল পৌরসভা গঠনই হবে মূল দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন রুহেল আহমদ।

দলের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রসঙ্গে রুহেল জানান, উনারা আমার শ্রদ্ধেয় অগ্রজ। আমরা একসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি। আমার সবিনয় অনুরোধ থাকবে জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাবেন। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন বলেন, নির্বাচনে কারচুপি না হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত। বিজয় নিশ্চিত করতে দলের সকলকে সোচ্চার হয়ে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে একটিবারের মতো তাকে নির্বাচিত করার জন্য পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে প্রতিশ্রুতি তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। বিগত দিনে জনগণ যে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তার কাছে সে বৈষম্য থাকবে না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

বিদ্রোহী জাকারিয়া আহমদ পাপলু বলেন, পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র হিসেবে আমার হাত ধরেই পৌরসভার ড্রেন, লাইটিং, মসজিদ, মন্দিরসহ যাবতীয় কাজ সম্পাদিত হয়েছিল। আরও কিছু কাজ হাতে নিয়েছিলাম সেগুলো অসমাপ্ত রয়ে গেছে, নির্বাচিত হয়ে সেগুলো সমাপ্ত করতে চাই। পাশাপাশি পৌরসভার বেকারত্ব দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নতুন হাসপাতাল স্থাপন, নতুন প্রজন্মকে আরও বেশি উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে আধুনিক মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। পানি সমস্যা নিরসনে ওয়াটার সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট আরও মানসম্মত করে গড়ে তুলব।

দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এর আগেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছি। পরবর্তীতে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করি। তখন দলের ভেতরেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের নগ্ন হস্তক্ষেপে এবং কতিপয় কর্মকর্তা মিলে আমার পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছিল। এবারও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু আবারও আমাকে নিয়ে দল এবং নেত্রীর কাছে ভুল বার্তা দিয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনগণের চাপে নির্বাচন করতে বাধ্য হই। যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

আরেক বিদ্রোহী আমিনুল ইসলাম রাবেল, আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলাম। বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। ২০১৮ সালের উপনির্বাচনে মানুষের ভালোবাসায় মেয়র পদে জয় লাভ করি। আমার দায়িত্বকালীন পৌরবাসীর উন্নয়ন করেছি। করোনাকালে দুর্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছি সাধারণ মানুষের। নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে তাদের চাওয়া-পাওয়ার মূল্যায়ন করতে মেয়র পদে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী উল্লেখ করে আমিনুল বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে একটি আধুনিক পৌরসভা গড়তে চাই। নির্বাচিত হলে গোলাপগঞ্জ পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করতে চাই।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাঈদুর রহমান জানান, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সব প্রার্থীরাই আচরণবিধি মেনে প্রচার চালাচ্ছেন। পুরো পৌর এলাকায় রয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটের আমেজ বজায় রাখতে সব প্রার্থীই যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ হাজার ৯১৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৫৯৭ জন ও নারী ১১ হাজার ৩১৯ জন।

advertisement