advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কোন জেলায় ঘর পাচ্ছে কত পরিবার

আমাদের সময় ডেস্ক
২২ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:১৬
advertisement

আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার- এ সেøাগানকে প্রতিপাদ্য ধরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য সরকারি অর্থে দুই কক্ষবিশিষ্ট পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঘর উদ্বোধন এবং ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন আনুষ্ঠানিকভাবে। সরকারিভাবে প্রতিটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রতিটি পাকা ঘরে থাকছে দুটি কক্ষ, রান্নাঘর, বারান্দা, শৌচাগার। সুপেয় পানির জন্য থাকছে প্রতি দুটি পরিবারের জন্য একটি নলকূপ।

খবর পাঠিয়েছেন জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা

পটুয়াখালী : জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ২ হাজার ১৩১ পরিবারকে দুই কক্ষের একটি করে পাকা ঘর প্রদান করা হবে। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসকের দরবার হলে জমি ও গৃহ প্রদান অনুষ্ঠানবিষয়ক মতবিনিময়ে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. হুমায়ুন কবির। জেলা প্রশাসক জানান, জেলার ৮টি উপজেলায় দুই পর্যায়ে সরকার ২ হাজার ১৩১টি ঘর বরাদ্দ করবে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৩৩৮টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে।

পিরোজপুর : পিরোজপুরে প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ১৭৫ জন ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। গতকাল দুপুরে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা জানান। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকেন্দ্রে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ জানুয়ারি সারাদেশের মতো জেলার ৭টি উপজেলায় একসঙ্গে প্রথম ধাপে নির্মিত ৩৭৫টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রদান করবেন।

বাগেরহাট : জেলার ৯টি উপজেলায় ৪৩৩টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫২টি, কচুয়ায় ৩০, চিতলমারী ১৭, মোল্লাহাটে ৩৫, ফকিরহাটে ৩০, রামপালে ১০, মোংলায় ৫০, মোরেলগঞ্জে ৬ এবং শরণখোলা উপজেলায় ১৯৭টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩১৫টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ঘরগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

গাজীপুর : জেলার তিন উপজেলায় প্রথম ধাপে ১১৭টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেলায় ২৮৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায়। প্রথম পর্যায়ে শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালিয়াকৈর উপজেলার ২১০টি ঘরের মধ্যে ১১৭টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করে কবুলিয়ত এবং নামজারি সম্পন্ন করা হয়েছে।

কক্সবাজার : জেলা জেলায় জমিসহ নতুন ঘর পাচ্ছে ৮৬৫ হতদরিদ্র গৃহহীন পরিবার। এর মধ্যে আগামীকাল শনিবার ৩০৩ গৃহহীন পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এ তথ্য জানান।

নওগাঁ : জেলার ১১ উপজেলায় মাথায় গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে এক হাজার ৫৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। নির্মাণাধীন বাড়িগুলো দেখে অসহায় ভূমিহীন পরিবারগুলোর মাঝে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। ইতোমধ্যে এক হাজার বাড়ির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১০টি, আত্রাইয়ে ১৭৫, রানীনগরে ৯০, বদলগাছীতে ৪৮, সাপাহারে ১২০, পত্নীতলায় ১১৪টি, মহাদেবপুরে ৩৪টি, মান্দায় ৯০, ধামইরহাটে ১৫০, পোরশায় ৫৪ ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ৭১টি ঘর রয়েছে।

মাগুরা : মাগুরায় ১১৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে জমিসহ নতুন ঘর। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের পর নতুন ঘর ও দলিলাদি গৃহহীনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ১১৫টি পরিবারের মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলায় ১৫, মহম্মদপুরে ৩০, শ্রীপুরে ২০ ও শালিখা উপজেলায় ৫০টি পরিবার রয়েছে।

গাইবান্ধা : গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ১২০টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ‘স্বপ্ননীড়’। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণের তত্ত্বাবধানে একযোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১২০টি বাড়ির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্প্রতি রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের নাসিরাবাদ ও কাটাবাড়ি ইউনিয়নের দুধিয়া গ্রামে নির্মাণাধীন ঘরের কাজ পরিদর্শন এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

রূপগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পর্যায়ক্রমে আরও ৩৪৮ ভূমিহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫০টি গৃহনির্মাণ কাজ চলছে।

তেঁতুলিয়া : আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৪২টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সদর ইউনিয়নের ঈদগাহ, রণচ-ী, শালবাহান, মাগুরমারী, তিরনইহাট ইউনিয়নের রওশনপুর, বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের কাশিমগঞ্জ, দেবনগর ইউনিয়নের ঝালেঙ্গি ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের মনিকোসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নির্মিত হচ্ছে নতুন ঘর। আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব নির্মাণ কাজগুলো চলমান দেখতে পাওয়া যায়। ১৪২টি ঘরের মধ্যে ৩২টি ঘর নির্মাণের জায়গা দান করেছেন রণচন্ডী এলাকার আবদুল মালেক নামের এক মুক্তিযোদ্ধা।

মদন : নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ৫৬টি ঘরের নির্মাণকাজ চলছে। এর তত্ত্বাবধান করছে উপজেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ৫৬টি ঘরের প্রায় ৯৫% কাজ গুণগত মানসম্পন্ন শতভাগ ঠিক রেখে শেষ করছি।

শাহজাদপুর : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জমিসহ নতুন ঘর পাচ্ছে ১২৮ পরিবার। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে রূপবাটি ইউনিয়নে ৯২টি, গাড়াদহ ইউনিয়নে ২৭টি ও নরিনা ইউনিয়নে ৯টি পরিবারকে দুই শতাংশ জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির খোন্দকার রূপবাটি ইউনিয়নের বাঘাবাড়ির আশ্রয়ণ প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন। প্রকল্পের বাছাই কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শেরপুর : প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১৬৩টি অসহায়, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। এর মধ্যে কুসুম্বি ইউনিয়নে ২০টি, গাড়িদহ ইউনিয়নে ৬টি, খামারকান্দি ইউনিয়নে ৩টি, খানপুর ইউনিয়নে ২২টি, মির্জাপুর ইউনিয়নে ১০টি, বিলাশপুর ইউনিয়নে ২৮টি, ভবানীপুর ইউনিয়নে ৪১টি, সীমাবাড়ি ইউনিয়নে ৩৩টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

আদমদীঘি : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ১০০টি অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে পাকা ঘর। ইতোমধ্যে ঘরগুলোর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। দ্রুততার সঙ্গে এখন করা হচ্ছে দরজা-জানালার কাজ। এগুলোর মধ্যে আদমদীঘি সদর ইউনিয়নে ৯টি, সান্তাহার ইউনিয়নে ১৪টি, চাঁপাপুর ইউনিয়নে ৬০টি, কুন্দগ্রাম ইউনিয়নে ৭টি ও ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নে ১০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

রাজারহাট : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৭০টি আধাপাকা ঘরের বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে পাকা ঘরগুলির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এগুলো হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের বরাদ্দকৃত আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আগামীকাল (শনিবার) ভূমিহীন ও গৃহহীন ২৭২ পরিবার পাচ্ছে বারান্দাসহ দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা ঘর। এর মধ্যে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে ৭৩ পরিবার, সোরারায় ৯, সর্বানন্দে ৩৬, শান্তিরামে ৪২, রামজীবনে ৫৭, ধোপাডাঙ্গায় ১৮, কঞ্চিবাড়ীতে ২৭, শ্রীপুরে ৬ ও সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় ৪ পরিবার ঘর পাচ্ছে।

হিলি : দিনাজপুরের সীমান্ত ঘেঁষা হিলি হাকিমপুর উপজেলা। এই উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে গৃহ ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১৪৫টি পাকা ঘর। আর এসব ঘর মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে। উপজেলার খট্টামাধবপাড়া, আলীহাট ও বোয়ালদাড় ইউনিয়নে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

ভোলা : দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৪২টি পাকা ঘর নির্মাণ করেছে সরকার।

advertisement