advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামে ‘ভালো নির্বাচন’ করার দাবি ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৩
advertisement

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া সবখানে ‘ভালো নির্বাচন’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর। বলেছেন, ‘তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই নির্বাচনে সহিংসতার কিছু ঘটনা ঘটে। সে হিসেবে আমি বলব, বরং কমই হয়েছে। মাত্র দু-তিনটি কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃৃতকারীরা মূলত এ ধরনের কাজ করে।’ গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম সিটির ভোট শেষে ঢাকায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব এ কথা বলেন। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ আর গুলিতে একজনের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে ৭৩৫টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশন

সচিব বলেন, ‘গণমাধ্যমে আমরা যে নির্বাচন দেখেছি, আমাদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে বলব- ভালো নির্বাচন হয়েছে। দুটো কেন্দ্রে শুধু কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক, যারা ইভিএমে ভোট হোক তা চায় না, তারা আক্রমণ চালিয়েছিল এবং ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভোট স্থগিত করা হয়। কিছু লোক তো থাকেই সব সময়। বাকিগুলোতে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে। ভোটার ভোট দিয়ে নিরাপদেই বাড়ি গেছেন। চট্টগ্রামে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ হাজার সদস্য নিয়োজিত ছিল। কমিশনও যত রকম ব্যবস্থা নেওয়া যায় নিয়েছিল।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘ইভিএমে ভোট হলে অনেকে মনে করেন যে, জালভোট দেওয়া যাবে না। তারাই মূলত এ ধরনের আক্রমণ করে।’ সহিংসতায় প্রাণহানি ‘ভয়ঙ্কর অবস্থা’ কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি কোথায় হলো? যেখানে ৭৩৫ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুটা কেন্দ্র স্থগিত। ইভিএম ভাঙচুর না করলে সেখানেও নির্বাচন হতো। ভোট নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে বন্ধ রাখা হয়েছে।’

সকালে ভোট শুরুর পর থেকেই বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের এজেন্টদের ‘বের করে দেওয়ার’ অভিযোগ করে আসছিলেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রিটার্নিং অফিসার দেখবেন। তারপরও যেসব অভিযোগ কমিশনে পাঠাবে, তা কমিশনে উপস্থাপন করব। কমিশন বললে তখন ব্যবস্থা নেব।’ সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ যেসব অভিযোগ ইসিতে দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘যে কোনো অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে বলা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভোটের হার প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘দুটি কেন্দ্র ছাড়া বাকিগুলোর ফল গণনা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছলে একীভূত করে তিনি খসড়া ফল জানাবেন। তার আগে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে অনুমান করে কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে উপস্থিতি তুলনামূলক একটু কম ছিল। আসলে শুধু চট্টগ্রামে নয়, যে কেনো বড় শহরে ভাসমান লোক থাকে, উপস্থিতি কম হয়। চট্টগ্রামে আমরা আরেকটু বেশি আশা করেছিলাম। তারচেয়ে একটু কমই হয়েছে।’

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘ভোটারদের অনীহা এর একটি কারণ বলে তার মনে হয়। এখনকার নাগরিকরা কেন যেন রাষ্ট্রের প্রতি যে দায়িত্ব আছে, ভোট যে তার অধিকার- এটা তারা মনে করছেন না। কষ্ট করে ভোট দেব, কেন যাব অন্যকে ভোট দিতে, এতে আমার কী লাভ... এ ধরনের একটা মনমানসিকতা হয়ে গেছে। উন্নত বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেও এমন হয়। আমেরিকার ক্ষেত্রে দেখবেন, সব দিক দিয়ে এত উন্নত তারা; কিন্তু ভোটের ক্ষেত্রে ভোট দিতে যায় না বেশিরভাগ মানুষ। তো আমাদের দেশেও অনেকটা ওই রকম; উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ লক্ষণ দেখা দিয়েছে। মানবিকতা বদল হয়েছে।’

advertisement