advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঢাকা থেকে ডেকে এনে জয়পুরহাটে গণধর্ষণ

জয়পুরহাট ও ছাতক প্রতিনিধি
২৮ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৩
advertisement

মোবাইলে আলাপ-পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারী গার্মেন্টসকর্মীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এক প্রতারক। আর টাকা তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ডেকে এনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন এক ইউপি সদস্য ও তার সহযোগী। পরে থানায় মামলা হলে দুজনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে রাতেই ইউপি

সদস্য ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় আসামিদের আদালতে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে সুনামগঞ্জের ছাতকে এক এতিম শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই তালতো ভাইয়ের (বোনের দেবর) বিরুদ্ধে। প্রায় তিন মাস আগে ধর্ষণের শিকার শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক সোলেমান আলীকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ভোরে সিলেট নগরীর হজরত শাহজালালের (র) মাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ছাতক থানার পুলিশ। মাদ্রাসাশিক্ষক সোলেমান আলী উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের জাতুয়া গ্রামের কারি আপ্তাব আলীর ছেলে।

জয়পুরহাটে গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য সাহাবুল পাঁচবিবি উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের শরিফ উদ্দীনের ছেলে এবং দুদু মিয়া উত্তর বানিয়াপাড়া গ্রামের জোবায়দুর রহমানের ছেলে। সাহাবুলের সংসারে দুই স্ত্রী রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীর ১০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়। এর পর আট বছর ধরে ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এরই মধ্যে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নন্দইল গ্রামের জাহিদুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় সূত্রে এবং বিয়ের আশ্বাস পেয়ে তাকে দেড় লাখ টাকা ধার দেন; কিন্তু এর পর জাহিদুল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। উপায় না পেয়ে স্থানীয় ধরঞ্জী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাহাবুলের শরণাপন্ন হন ওই নারী। গত সোমবার তাকে পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার আশ্বাসে ঢাকা থেকে পাঁচবিবিতে ডেকে আনেন ওই মেম্বার। এর পর তার সহযোগী স্থানীয় দুদু মিয়ার বাড়িতে রেখে পালাক্রমে তাকে দুজনে ধর্ষণ করেন। নির্যাতিতা নারী মঙ্গলবার রাতে পাঁচবিবি থানায় ওই দুজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন জানান, ধর্ষণের শিকার শিশুটির ভাই বাদী হয়ে গত ২৫ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, পিতৃ-মাতৃহীন শিশুটি তার একমাত্র বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করে আসছে। ঘটনার কয়েক দিন আগে রাজমিস্ত্রীর কাজে বড় ভাই জগন্নাথপুর যাওয়ার সময় ভিকটিমকে জাতুয়া গ্রামের বোনের বাড়িতে রেখে যান। ঘটনার রাতে বড় বোনের পাশে ঘুমিয়ে থাকা ভিকটিমকে উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করেন সোলেমান আলী। এর পর থেকে নানা প্রলোভন ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় গ্রাম্য লোকজনের চাপে বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দেয় সোলেমানের পরিবার; কিন্তু নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করে এক পর্যায়ে বিয়ে করতে অসম্মতি জানায় সোলেমান।

advertisement