advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পাথরঘাটায় নির্বাচনী সহিংসতা
পুলিশ বাদী মামলায় আসামি ৩ শতাধিক

পাথরঘাটা প্রতিনিধি
২৮ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৩
advertisement

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে পাথরঘাটা থানায় মামলা করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২১ জনের নামাল্লেখ ও ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবারের ওই সংঘর্ষে ওসিসহ ২০ পুলিশ সদস্য, দুই সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হয়েছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার জানান, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা এবং অস্ত্রের মহড়া দেখিয়ে লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানোয় এ মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনা আহতদের মধ্যে ১২ পুলিশ সদস্য প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও ওসিসহ বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল তার সমর্থকদের

নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা পৌর শহরে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করে দুদিকে সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই তালতলা এলাকা থেকে ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ ‘সাহেল ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ সেøাগান দিয়ে দেশীয় অস্ত্র রামদা, রড, জিআর পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল দিয়ে থানার দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় পুলিশ কয়েক দফা বাধা দিলেও তারা ইট-পাটকেল, গাছের গুঁড়ি, লাঠি, কাচের বোতল, জুতা নিক্ষেপ করে মিছিল নিয়ে এগিয়ে থানার সামনে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পাথরঘাটা শহরে জিরো পয়েন্টে নৌকা সমর্থকরা অবস্থান নেন। অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সমর্থনের পাঁচ শতাধিক সশস্ত্র কর্মী থানার সামনে থেকে শহরে প্রবেশ করতে চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় ২০ জন পুলিশ এবং দৈনিক আমাদের সময় ও সমকালের দুই সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হন। এর আগে তারা বিএফডিসি এলাকায় র‌্যাবের টহল টিমের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাথরঘাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই হাফিজুর রহমান সোহাগ জানান, নৌকা প্রতীকের আনোয়ার হোসেন আকনের ভাইয়ের ছেলে, নাতি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের দাপটে আমরা কোণঠাসা হয়ে আছি। তাদের হুমকি-ধমকির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না।

অন্যদিকে বর্তমান পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন জানান, ইতিপূর্বে মোস্তাফিজুর সোহেলের লোকজন আমার বেশ কয়েকজন কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে। তারা আমার প্রাণনাশের জন্য কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ একত্রে হয়ে শহরে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশের সহায়তায় আমরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।

এদিকে পাথরঘাটা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আইয়ুব আলী হাওলাদার জানান, ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সাবরিনা সুলতানা আমাদের সময়কে জানান, রাজনৈতিক মাঠ যতই উত্তপ্ত থাকুক এর প্রভাব ভোটকেন্দ্রে পড়বে না। কেননা নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণ করা হবে।

পাথরঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) সাঈদ আহমেদ জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

advertisement