advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নির্বাচনী মঞ্চে সরকারি কলেজ উপাধ্যক্ষ
পংকজকে মনোনয়ন না দিলে আ.লীগই ক্ষমতায় আসবে না

আল মামুন, বরিশাল
২৮ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২১ ২৩:৩৩
advertisement

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ বনাম জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের মুখোমুখি অবস্থান নতুন নয়। সম্প্রতি পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সপ্তাহ দু-এক ধরে চলছে

সংঘর্ষ ও পাল্টাসংঘর্ষ। এতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এসব নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাংসদ পংকজ গ্রুপ মারমুখি অবস্থানে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকালে সেই আগুনে ঘি ঢালেন মেহেন্দিগঞ্জ সরকারি রশিকচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের (আরসি কলেজ) উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও তিনি ওই দিন অংশ নেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আওলাদার হোসেন আমুর উঠান বৈঠকে। সেখানে উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এমপি পংকজ দেবনাথের নমিনেশন শেখ হাসিনার হাতে নয়, বরং পংকজকে নমিনেশন না দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাবে না।’ একটি সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষের এমন বক্তব্য নিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ আওয়ামী লীগে চলছে তোলপাড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে ভিডিওটি।

কাউন্সিলর প্রার্থী আওলাদার হোসেন আমু নিজেও তার এই বক্তব্যে বিব্রত, যিনি সাংসদ পংকজ অনুসারী নেতা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (শহিদুল ইসলাম) দাওয়াত দেইনি। তিনি নিজে থেকেই সভায় এলে সামাজিকভাবে দুই-একটি কথা বলার জন্য বলি। কিন্তু নির্বাচনী সভায় যে তিনি এমন কথা বলবেন, তা আমার জানা ছিল না।’

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো. চান বলেন, ‘এক রাজ্যের এক রাজার নিয়মেই যদি মেহেন্দিগঞ্জ আওয়ামী লীগ চলতে থাকে, তা হলে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাবে ত্যাগী নেতাকর্মীরা। আর এভাবেই দেশরত্নকে (শেখ হাসিনা) হেয় করে স্থানীয় ক্ষমতার দাপুটে ব্যক্তিকে উচ্চপর্যায়ে নিয়ে দলকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলবে।’ পৌর নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামালউদ্দিন খান বলেন, ‘একজন এমপিকে খুশি করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খাটো করে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক।’

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনসুর আহমেদ বলেন, ‘একটি সরকারি কলেজ উপাধ্যক্ষ কোনোভাবেই কারও নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে পারেন না। তার পরও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করে একজন এমপিকে রাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার কঠোর বিচার হওয়া উচিত।’

উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম অবশ্য বলেন, ‘আমি তো কারও বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেইনি। যেটা সত্য কথা তা-ই বলেছি।’ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়েও নির্বাচনী মঞ্চে বক্তব্য রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে অনেক নিয়ম-কানুনই মানা সম্ভব হয় না।’

সাংসদ পংকজ দেবনাথ আমাদের সময়কে বলেন, ‘নির্বাচনে আমার ব্যক্তিগত পছন্দের কোনো প্রার্থী নেই। যে নির্বাচিত হবে তাকেই মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নে আমি সহযোগিতা করব।’ তবে কলেজ উপাধ্যক্ষের বক্তব্য শোনেননি বলে সে বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি স্থানীয় এই সাংসদ।

advertisement