advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দুদকের ভুল তদন্তে উদ্বিগ্ন টিআইবি
কারাদণ্ড প্রাপ্ত কামরুলের বিষয়ে রায় আজ

২৮ জানুয়ারি ২০২১ ০২:০০
আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ১১:১৫
advertisement

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় ঠিকানার ভুলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নিরপরাধ মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের বিষয়ে আজ রায় দেবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি শেষ করেন হাইকোর্ট। শুনানিকালে এ কাণ্ডের জন্য ভুল স্বীকার করেছে দুদক। সরল বিশ্বাসে এই ভুল হয়েছে- জানিয়েছে দুদক।এদিকে তদন্তের ভুলে ফের নির্দোষ ব্যক্তির সাজা খাটার ঘটনা ‘সরল বিশ্বাসে’ হয়েছে বলে দুদকের করা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উদ্বেগের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করে টিআইবি বলেছে, এ ঘটনা উদ্ঘাটনের পর দুদকের ‘সরল বিশ্বাসের’ ব্যাখ্যা দায় এড়ানোর অর্থহীন প্রয়াস। সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতের মাধ্যমে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, জাহালমের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে একদিকে যেমন এ জাতীয় অগ্রহণযোগ্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতো, অপরদিকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাও পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ হতো না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভুল তদন্তের মাধ্যমে জালিয়াতি মামলায় মোহাম্মাদ কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল ও সাজার ঘটনায় উচ্চ আদালতে দুদকের ভুল স্বীকার এবং ‘মামলার এজাহার থেকে তদন্তের সব পর্যায়ে ভুল হয়েছে’ মর্মে দুদকের আইনজীবীর স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের পেশাদারিত্ব কতটা দুর্বল ও অদক্ষতায় ভরা। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী আইন ও বিচারসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন হওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট করার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে। তিনি যদি জাহালমের ন্যায় একজন সাধারণ নাগরিক হতেন, তার পক্ষে কি বিচারিক আদালতে ১৫ বছরের জেল ও জরিমানা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো বিকল্প ছিল? নাকি এই দীর্ঘ জেলজীবন অতিবাহিত করতেন? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা অপরিহার্য।’

জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার জাল সনদ নিয়ে এইচএসসিতে ভর্তি হন নোয়াখালীর কামরুল ইমলাম নামে এক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় দুদকের করা মামলায় প্রকৃত আসামি কামরুলের পরিবর্তে আরেক কামরুলকে পাঁচ বছরের জেল দেন নোয়াখালীর বিশেষ আদালত।

নিরপরাধ মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িতে প্রথমে পুলিশ আসে। পরে থানায় গিয়ে আমার বাবা জানতে পারেন, এক মামলায় আমার নামে সাজা আছে। এর পর বাবা মামলার নম্বর সংগ্রহ করে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আমার ও আমার বাবার নামের সঙ্গে আসামি ও তার বাবার নামের অনেকটা মিল আছে। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামির প্রকৃত ঠিকানা পশ্চিম রাজারামপুর। এ অবস্থায় হয়রানি এড়াতে রিট করেন তিনি।

রিটের নথি ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রসিকিউটিং পরিদর্শক মো. শহীদুল আলম একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, নোয়াখালী সদর থানার পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে কামরুল ইসলাম নোয়াখালী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৫৭৬ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাসের জাল/ভুয়া মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র সৃজন/সংগ্রহ করে ১৯৮৯-৯৯ সেশনে মাইজদী পাবলিক কলেজে ভর্তি হন। মামলাটির তদন্ত করেন দুর্নীতি দমন কমিশন নোয়াখালীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল। পরে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। মামলার বিচার শেষে নোয়াখালীর বিশেষ জজ শিরীন কবিতা আখতার ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর রায় দেন। রায়ে কামরুল ইসলামকে পেনাল কোডের তিনটি ধারায় ৫ বছর করে জেল এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদ-ে দ-িত করা হয়।

রিটে ভুক্তভোগী কামরুল উল্লেখ করেন, ১৯৯০ সালের ১৫ জানুয়ারি তার জন্ম। ২০০৬ সালে হরিনারায়ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। দারিদ্র্যের কারণে এইচএসসিতে ভর্তি হতে পারেননি। ২০০৮ সালের ৮ জুলাই এমএলএসএস হিসেবে লক্ষ্মীপুর আদালতে যোগ দেন। পরে নোয়াখালীতে বদলি হন। ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে তিনি নোয়াখালী আদালতের অফিস সহকারী পদে কর্মরত। রিটে আরও বলা হয়, মামলায় ১৯৯৮ সালের ঘটনার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু আবেদনকারীর দাবিÑ তখন তার বয়স আট বছর। আর যে কামরুলের কথা মামলায় বলা হয়েছে, সে কামরুলের বাড়িও একই উপজেলায়। কাকতলীয়ভাবে তার বাবার নাম এবং আবেদনকারীর বাবার নামও একই। তবে গ্রামের নামের প্রথম অংশ ভিন্ন ভিন্ন। আবেদনকারীর গ্রামের নাম হচ্ছে পূর্ব রাজারামপুর। আর দ-িত কামরুলের গ্রামের নাম হচ্ছে পশ্চিম রাজারামপুর। সুতরাং রিট আবেদনকারী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আসামি নন, দ-িতও নন।

এ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে হাইকোর্ট গত বছরের ৫ নভেম্বর রুল জারি করেন এবং দুদকের কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চান। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রুলের জবাব দিয়ে দুদক ভুল স্বীকার করে। মঙ্গলবার দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, গ্রামের নামে ভুলের যে বিষয়টি এসেছে, এটি আমাদের বোনাফাইড মিসটেক। আমরা তার রিটের সঙ্গে একমত। এখানে একটা বিষয় যে, কামরুল কিন্তু একদিনও জেল খাটেননি। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি জেল খাটুক। আদালত শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করেছেন।

advertisement
Evaly
advertisement