advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাবে কে
সরকারকেই দায়িত্ব নিয়ে কঠোর হতে হবে

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২১:৫২
advertisement

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে আর্থিক খাতে বড় আকারের দুর্নীতির ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক থেকে অবৈধ পথে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তেমনি অনেক বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের বিপুল অর্থও আত্মসাৎ করেছে। এর ওপরে রয়েছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা। সর্বশেষ ইন্টারন্যাশনাল লিজিং কোম্পানি নামের একটি বেসরকারি সংস্থার দুর্নীতির তথ্য উদ্ঘাটিত হওয়ার পর এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের যেসব ব্যক্তির নাম আসছে, তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর ও একজন নির্বাহী পরিচালকের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রায় বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। তবে উচ্চআদালত ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ক্ষমতাধর বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতা ছাড়া দিনের পর দিন এ ধরনের বড় আকারের আর্থিক দুর্নীতি সম্ভব হতো না। কারণ তিন-চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি একদিনে করা সম্ভব নয় বলে নজরদারির জায়গায় হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে। অপরাধীচক্র সেদিকটি নিশ্চিত করেই নির্বিবাদে এভাবে দুর্নীতি চালিয়ে যায়।

এ যাবৎ হাজার কোটির ওপরে অর্থ আত্মসাৎ ঘটনার অনেকটিই উদ্ঘাটিত হয়েছে। তদন্তে অনেক অপরাধীর নামও এসেছে। তাদের অনেকেই ব্যাংকের কর্মকর্তা- যাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাও রয়েছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রথম দিকে এসব ঘটনায় তেমন গুরুত্ব দেননি। তবে অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার ও শাস্তির সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত ঘটনা জনসমক্ষে আসায় এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ ও অপরাধীদের হেনস্তা এবং শাস্তির দৃষ্টান্তও এ প্রবণতা থামাতে পারেনি। এতে মানুষের মনে হচ্ছে- যেসব ঘটনা গণমাধ্যমে আসছে, তা আদতে এমন অপরাধের সামান্যই। আরও অপরাধী এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে থাকছে।

এ অবস্থায় আমরা মনে করছি, আর্থিক খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য একটি কমিশন গঠন করা উচিত। এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর সংঘটিত দুর্নীতিতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, অপরাধপ্রবণ সংস্থা বা এর বিভাগ ও অপরাধে যুক্ত থাকা সম্ভব- এমন পদের তালিকা প্রকাশ করা উচিত। তার পর যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে স্থায়ীভাবে দুর্নীতি রোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। অবশ্যই অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যত নাম আসবে সাবেক বা বর্তমানে চাকরিরতও- সবাইকেই আইনের আওতায় আনতে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এর মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।

advertisement