advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
তার চিন্তা ও কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এগোতে হবে

ড. আতিউর রহমান
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২১:৫২
advertisement

গত এক বছরে আমাদের সমাজে ও সংস্কৃতিতে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখা অনেক ব্যক্তিকে হারিয়েছি। সর্বশেষ এই শোকের মিছিলে যোগ দিলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১) ভোরে আমাদের ফেলে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তিনি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই ভয়ে ছিলাম। কোভিড থেকে মুক্ত হলেও নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতা কাটছিল না। তার ছোট ভাই মোহাম্মদ খালেদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মধ্যে ছিলাম। হাসপাতাল থেকে তার ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, দেখভাল করার জন্য একজন প্রশিক্ষিত নার্সও ঠিক করা হয়েছিল। তাই খানিকটা আশার আলো দেখছিলাম। কিন্তু আমাদের হতাশ করে চলে গেলেন প্রাণপ্রিয় খালেদ ভাই। দেশের মানুষ তাকে দুর্নীতিবিরোধী আপসহীন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করবে। আমার কাছে তিনি ছিলেন ছায়াদানকারী বড় ভাইয়ের মতো। আমাদের সুসময়ে এবং দুঃসময়ে একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু আর ভরসার আশ্রয়স্থল হয়েছিলেন সব সময়। আর্থিক খাতে কাজ করলেও এ খাতের পাশাপাশি সমাজের সর্বত্রই সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক লড়াই করে গেছেন আজীবন। বঙ্গবন্ধুপ্রেমী মানুষটি বেড়ে ওঠার সময় খুব কাছে থেকে দেখেছেন বঙ্গবন্ধুকে। স্বভাবতই বঙ্গবন্ধুর স্বদেশপ্রেম ও গণমুখিতা তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাই ন্যায়ের প্রশ্নে, মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে আপসহীন থাকতে চেষ্টা করেছেন সেই অনুপ্রেরণার জায়গা থেকে। নব্বই দশকে যখন বঙ্গবন্ধুর নামটি নিতেও অনেকে ভয় পেতেন সে সময় পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মাথা উঁচু করে খালেদ ভাই দায়িত্ব পালন করেছেন মাথার ওপর বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়ে। নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি বলেই সব সময় এমন নিঃশঙ্ক চিত্তে কাজ করতে পেরেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যখন দায়িত্ব পালন করেছি তখন তিনি আমার সঙ্গে বহুবার গ্রামে গিয়েছেন কৃষকবান্ধব আর্থিক সেবা প্রসারের লক্ষ্যে। সে সময় প্রান্তিক মানুষের প্রতি তার দরদ, সামাজিক পিরামিডের পাটাতনে থাকা নাগরিকদের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে তার একনিষ্ঠতার পরিচয় নতুন করে পেয়েছি। আর্থিক খাতে পেশাদারি দায়িত্বের বাইরেও সব সময় তার চেষ্টা ছিল প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগে এবং সমাজের সুস্থ বিকাশে অবদান রাখার। ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের হয়ে চরের মানুষের কল্যাণে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। আমার অনুপস্থিতিতে আমার প্রতিষ্ঠিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয়ের গণবান্ধব গবেষণা কার্যক্রমকেও এগিয়ে নিয়েছেন মানুষের প্রতি দরদের জায়গা থেকেই। রোকনুজ্জামানের (দাদাভাই) মৃত্যুর পর কচি-কাঁচার মেলা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আজীবন কাজ করেছেন শিশু-কিশোরদের মননশীল চর্চার বিকাশ ঘটাতে। সর্বশেষ এক বছর আগে এই ফেব্রুয়ারি মাসেই বঙ্গবন্ধুর নান্দনিক ভাবনাবিষয়ক গবেষণার প্রয়োজনে তার একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। বরাবরের মতোই আমার কাজে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং তথ্য ও বিশ্লেষণ দিয়ে অমূল্য সহায়তাও করেছিলেন। তাকে হারিয়ে এ দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার চিন্তা ও কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। সুশাসন প্রশ্নে খালেদ ভাইয়ের মতো অবিচল থেকেই আমরা তার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানাব।

ড. আতিউর রহমান : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক

advertisement