advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭১ কিলোমিটার রেলপথে অরক্ষিত ৭৩ ক্রসিং

শাকিল আহমেদ ঠাকুরগাঁও
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২১:৩৬
advertisement

ঠাকুরগাঁওয়ে রেলওয়ের অনেক অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে গেট নির্মাণ করা হয়নি, নেই গেটম্যানও। এসব রেলক্রসিংয়ে শুধু টাঙিয়ে রাখা হয়েছে সতর্কতামূলক নোটিশ বোর্ড। স্থানীয়রা জানায়, রেলক্রসিং অরক্ষিত ও গেটম্যান না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, অসচেতনতার কারণেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ঠাকুরগাঁও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৭১ কিলোমিটার রেলপথে ৭৩টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫টি রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান। কর্তৃপক্ষের তালিকার বাইরে রয়েছে আরও ১৮টি রেলক্রসিং। অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোয় টাঙানো আছে সতর্কতামূলক নোটিশ বোর্ড।

গত বছরের ১১ জুন মোটরসাইকেল নিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলার জগধা এলাকার অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় জেলা জজ আদালতের জারিকারক রুহুল আমিন ও আবদুস সেবাহান নিহত হন। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি একই উপজেলার সেনুয়া বাজার এলাকার অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় পথচারী মোজাফফর হোসেন ও ১২ ফেব্রুয়ারি একই স্থানে সবুজ নামে আরেকজন ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর রুহিয়া থানা এলাকার রেললাইনে রহমান আলী নামে এক ব্যক্তি কাটা পড়ে মারা যান। ওই বছরের ২৪ মার্চ রুহিয়া-কিসমত রেলস্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধ জাহেদা বেগম মারা যান।

সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর, আখানগর, রুহিয়া, শিবগঞ্জ, পীরগঞ্জসহ কয়েকটি রাস্তার রেলক্রসিংয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কোনোটিতেই গেট নেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসী ও যানবাহন যাতায়াত করছে।

স্থানীয় ট্রাকচালক নজরুল ইসলাম ও জয়নাল আবেদিন বলেন, ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেলপথের মধ্যে সদর উপজেলার আমতলীর রেলক্রসিং বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দূর থেকে বোঝার উপায় নেই ট্রেন আসছে কিনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয়। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক বলেন, অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোয় সতর্কতামূলক নোটিশ বোর্ড দিয়েই রেল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব শেষ করে দিয়েছে। প্রায়ই অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোয় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। এর পরও রেল কর্তৃপক্ষ পদক্ষেণ নিচ্ছে না।

ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, প্রতিবছরই ঠাকুরগাঁওয়ের অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ৮-১০টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক মানুষ মারা যায়। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রেল দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ আখতারুল বলেন, অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি এ সমস্যার সমাধান হবে।

advertisement