advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জমজমাট সিনেমাপাড়া

ফয়সাল আহমেদ
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৯:০৭
আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সিনেমাপাড়া
advertisement

হতাশার চিত্রটা এবার মন থেকে শেষ হচ্ছে। সিনেমাপাড়ায় এখন প্রায় সবাই ব্যস্ত। অনেক দিন ধরেই যারা বেকার হয়ে বসে আছেন, তাদের হাতেও রয়েছে ছবি। কথাটা অভিনয়শিল্পী থেকে পরিচালক সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ঘুমিয়ে পড়া চলচ্চিত্রকে জাগাতে একশ সিনেমার ঘোষণা দিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা শাপলা মিডিয়া। আগামী এপ্রিলের মধ্যে এই সিনেমাগুলো নির্মিত হবে বলে জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

আবার নতুন নায়িকা নিয়ে আসছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। চলতি বছর তিনটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে জাজ। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই ‘নতুন মুখ’ সঙ্গে নিয়ে তিনটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে জাজ। চলচ্চিত্রের নাম, নায়ক ও পরিচালক ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে, যা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। এসব কারণেই জমজমাট সিনেমাপাড়া।

এদিকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এফডিসিতে প্রযোজনা সংস্থা শাপলা মিডিয়ার পক্ষ থেকে একটি মহরত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে লটারির মাধ্যমে একশ সিনেমার পরিচালক নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার সেলিম খান বলেন, ‘আমরা একশটি সিনেমা নির্মাণ করার বিশাল একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ঘুমিয়ে পড়া বিএফডিসি এবার জেগে উঠবে, চলচ্চিত্রের সবার মুখে আবার হাসি ফুটবে- স্লোগান নিয়ে এই ঐতিহাসিক মিশন শুরু করেছি আমরা। সবার সহযোগিতা চাই।’

নির্মাতা শাহীন সুমন ও কাবিরুল ইসলাম রানার তত্ত্বাবধানে প্রথম ৩০ সিনেমার পরিচালক হিসেবে লটারিতে নাম এসেছে- পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, রাজু চৌধুরী, এমএ রহিম, এফআই মানিক, দেবাশীষ বিশ্বাস, গাজী মাহাবুব, রফিক শিকদার, মনতাজুর রহমান আকবর, উত্তম আকাশ, রিয়াজুল মাওলা রিজু, আনোয়ার সিরাজী, কমল সরকার, এজে রানা, সাইমন তারেকের মতো নির্মাতার। প্রথম কিস্তিতে ৩০টি সিনেমার জন্য চূড়ান্ত পরিচালকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০টি সিনেমার শুটিং কক্সবাজারে শুরু হয়েছে। বাকি ২০টির শুটিং শুরু হবে মার্চে।

যদিও এ নিয়ে আছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশি বেশি ছবি তৈরি হওয়া ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক। তবে মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এদিকে একশ ছবির এই ঘোষণাকে ইঙ্গিত দিয়ে শীর্ষনায়ক শাকিব খান প্রযোজককে ‘স্টুপিড’ বলে আখ্যায়িত করেন এক সংবাদ সম্মেলনে। শাকিবের এমন মন্তব্যে চটেছেন ঢাকাই সিনেমার অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা। নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বর্তমান যে অবস্থা, তা সবারই জানা। সেই মুহূর্তে সেলিম খান এগিয়ে এসেছেন, তা আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য সৌভাগ্যের।

তার কারণে অনেক পরিচালক, শিল্পী কলাকুশলী কাজে নেমে পড়তে পেরেছেন।’ ‘জীবন সংসার’খ্যাত নির্মাতা জাকির হোসেন রাজু বলেন, ‘নিজেরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সিনেমার দিকে মন দিই। আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে কথা বলা নিয়ে যে সমস্যার তৈরি করছি, তা আমাদের বোঝা দরকার। কারণ আমরা কথা যে যা-ই বলি না কেন, সেটা কিন্তু সবার কাঁধেই চলে আসে।’ ছবির মান নিয়ে শাকিব খান মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এত ছবি একসঙ্গে করলে সেগুলো হবে নিম্নমানের।’ শাকিবের এমন মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শাপলা মিডিয়ার প্রযোজক সেলিম খান। তিনি বলেন, ‘আমার সিনেমার বাজেট কত সে বিষয়ে আমরা কোনো কথা বলিনি। আমার সিনেমায় ওপার বাংলার প্রসেনজিৎ, দেব, ঋতুপর্ণা, রজতাভ দত্তসহ আরও অনেকে কাজ করবেন। তা ছাড়া আমাদের দেশের সাইমন, মাহি, নিরব থেকে শুরু করে অনেকেই কাজ করবেন।

আবার এই সিনেমাগুলো যারা নির্মাণ করবেন, তারা কিন্তু এ দেশের গুণী নির্মাতা।’ সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘আমি মনে করি সিনেমার বাজেট নির্ভর করে সিনেমার গল্পের ওপর। এখনো সিনেমা মুক্তিই পেল না, তা হলে কীভাবে শাকিব বলতে পারে যে সিনেমা নিম্নমানের হচ্ছে।’ জাকির হোসেন রাজু বলেন, ‘কখনো কোনো দেশে সব সিনেমায় অনেক বেশি বাজেটের হয় না। ১০টি ভালো বাজেটের মধ্যে ১০টি কম বাজেটের সিনেমাও থাকে। সব মিলেই কিন্তু সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি টিকে যায়।’

এই একশ ছবি ছাড়াও ঢালিউডে এই মুহূর্তে ‘যাও পাখি বলো তারে’, ‘বীরত্ব’, ‘লাইভ’, ‘কসাই’, ‘গ্যাংস্টার’ ‘ছায়াবৃক্ষ’, ‘কানামাছি’, ‘চোখ’সহ প্রায় এক ডজন ছবির শুটিং চলছে। চলতি মাস ও আগামী মাসে ‘লিডার, আমিই বাংলাদেশ’, ‘অন্তরাত্মা’, ‘মাসুদ রানা’, ‘ঈশা খাঁ’, ‘রিভেঞ্জ’সহ বড় বাজেটের প্রায় এক ডজন ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে।

এসব ছবি ছাড়াও বাংলাদেশ ও তুর্কির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘নেত্রী : দ্য লিডার’। প্রযোজনার পাশাপাশি এতে অভিনয় করবেন অভিনেতা ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। সঙ্গে থাকবেন বর্ষা। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার বাংলাদেশি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা কবীর দোহান সিং, রবি কিষান ও প্রদীপ রাওয়াত। এটি পরিচালনার কথা ছিল চিত্রপরিচালক ইফতেখার চৌধুরীর। কিন্তু তিনিও ব্যস্ত ‘মুক্তি’ নামের একটি ছবি নিয়ে। এই ছবির কাজ শেষে তিনি নির্মাণ করবেন ‘লন্ডন লাভ’ নামের আর একটি ছবি।

চলতি বছর মুক্তির তালিকায় আছে সানি সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের ‘মিশন এক্সট্রিম’, শামীম আহমেদের ‘বিক্ষোভ’, এমএ রাহিমের ‘শান’, রবিন খানের ‘মন দেব মন নেব’, শাহিন সুমনের ‘বিদ্রোহী’, ‘ক্রিমিনাল’, দীপংকর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’, ফয়সাল আহমেদের ‘মিশন সিক্সটিন’, সৈকত নাসিরের ‘ক্যাসিনো’, অঞ্জন আইচের ‘আগামীকাল’, সাইফ চন্দনের ‘ওস্তাদ’, অনন্য মামুনের ‘মেকআপ’, রায়হান রাফির ‘পরাণ’, আবু রায়হান জুয়েলের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, সোয়াইবুর রহমানের ‘নন্দিনী’, দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’, নাদের চৌধুরীর ‘জ্বীন’সহ ৩০টির বেশি ছবি।

advertisement