advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

টিকিট কেটে কৃষ্ণগহ্বরকে চিনল চাঁপাইনবাবগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৭:৫০ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৮:৪৬
কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে বিজ্ঞান বক্তৃতা দিচ্ছেন বিজ্ঞান লেখক জাহাঙ্গীর সুর। ছবি : আফিফা খাতুন
advertisement

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে দর্শনীর বিনিময়ে কৃষ্ণগহ্বর বিষয়ে বিজ্ঞান বক্তৃতা দিয়েছেন বিজ্ঞান লেখক জাহাঙ্গীর সুর। গোমস্তাপুরের উপজেলা মিলনায়তনভর্তি দর্শক-শ্রোতার সামনে এমন একটি বিষয় নিয়ে বক্তা আলোচনা রাখেন এমনকি আলোও যেখানে পড়ে গেলে ফিরে আসতে পারে না।

৫০ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে বক্তৃতা শুনতে এসেছিলেন স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তিন শতাধিক দর্শক-শ্রোতা। আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের উদ্যোগে এ বক্তৃতার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ছড়িয়ে দাও সীমাহীন আলো’। 

বক্তা জাহাঙ্গীর সুর মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব, নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু এবং কৃষ্ণগহ্বরের সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ের সহজবোধ্য ও সরল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ নামের অবিশেষ প্রাণীরা মহাবিশ্বের নিরিবিলি এক ছায়াপথে সাদামাটা এক সূর্যের খুব সাধারণ একটা গ্রহে বসবাস করছি। বিজ্ঞানী কার্ল সেগান পৃথিবীকে একটা মলিন নীলাভ বিন্দু বলেছিলেন। আমরা যদি কৃষ্ণগহ্বরসহ মহাজগৎ সম্পর্কে জানি আর অনুধাবন করতে পারি, হিংসা-হানাহানি ভুলে ঐক্য ও ভালোবাসার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হব।’

কৃষ্ণগহ্বররা কত বড় হয়, দেখা না গেলেও কী করে আমরা জানি যে ওরা আছে, কৃষ্ণগহ্বর কি সত্যিই কালো, কৃষ্ণগহ্বরেরও কি মৃত্যু আছে, সূর্য যদি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয় তাহলে পৃথিবীর পরিণতি কী হবে-এরকম একটি প্রশ্ন উঠে আসে দর্শকসারি থেকে। ৪০ জন সেরা প্রশ্নকারীকে বই উপহার দেওয়া হয়।

রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, ‘করোনা মহামারিতে প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ও শিক্ষার্থীরা টিকিট কেটে এ বক্তৃতা শুনতে আসা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, কিশোর ও তরুণরা বিজ্ঞানে অত্যন্ত কৌতূহলী, নতুন কিছু জানবার জন্য তারা ব্যাপক আগ্রহী।’

বক্তৃতা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রহনপুরের নবনির্বাচিত পৌর মেয়র মতিউর রহমান খান। প্রসাদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার আসমা খাতুন, আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের বিজ্ঞান-প্রশিক্ষক শাহাবুদ্দীন সামি ও ইকবাল হোসেন, পূণর্ভবা মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ইয়াহিয়া খান রুবেল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান ইবনে রফিক বলেন, ‘কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে অনেক প্রাণবন্ত আলোচনা করেছেন বক্তা জাহাঙ্গীর সুর। বিজ্ঞানের আলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এরকম বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করতে চাই।’

রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী হুমাইরা বুশরা বলেন, ‘এ কেবলই বিজ্ঞানের আয়োজন নয়, ছিল সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনও। মঞ্চে আমি যেমন আবৃত্তি করেছি নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কিপ থর্নের কবিতা “দ্য ওয়ার্পড সাইড অব আওয়ার ইউনিভার্স”। জীবনাননন্দ দাশের “স্বপ্নের হাত” কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন রহনপুর পি. এম. আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রুবাইয়া রায়হান।

আলিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসমিনা খাতুন ইলা বলেন, ‘কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে আমার অনেক আগ্রহ ছিল। সুরের বক্তৃতা অসাধারণ লেগেছে। আমার মননকে পরিবর্তন ও উৎসাহী করেছে। আগামীতে আমরা এমন বক্তৃতার আয়োজন করব।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা সবার জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। স্বেচ্ছাসেবীদের মাস্ক উপহার দেওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ দিয়ে আকিমুদ্দিন গ্রন্থাগারের বিজ্ঞানকর্মী আফরোজা খাতুন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনে বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা খুবই দরকার। সহযোগিতা পেলে আমরা আরও অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগ নিতে পারব।’

advertisement