advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দেশে এক সপ্তাহে মৃত্যু কমেছে ২৩ শতাংশের বেশি

২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩

দুলাল হোসেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০০:১৮
advertisement

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ৪০০ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪০৭ জন। সারাদেশে গতকাল করোনার টিকা নিয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ জন। এখন পর্যন্ত টিকা নিতে নিবন্ধন করেছে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৮৩৫ জন। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৯৬ হাজার ৯৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ২ হাজার ৮০৭ জন রোগী শনাক্ত হয় এবং মারা গেছে ৫৮ জন। এর আগে গত ১৪ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৯৮ হাজার ৪২১টি নমুনা পরীক্ষা করে ২ হাজার ৭৫৮ জন রোগী শনাক্ত হয় এবং মারা গেছে ৭৬ জন। সাপ্তাহিক সংক্রমণ পরিস্থিতির তুলনা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে নমুনা সংগ্রহ ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নতুন শনাক্ত ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়লেও মৃত্যু কমেছে ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে সুস্থতা বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৩৪৮টি নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪০৭ জন। ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ ৩০ হাজার ৬১৬টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩১ জন। মোট নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৫ জন। এর মধ্যে ৪ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছে। মৃতদের অঞ্চল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৪ জন, চট্টগ্রামে ১ জন রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৬০৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৪, খুলনায় ৩, বরিশালে ৩, রাজশাহীতে ২৯, সিলেটে ১৯ জন রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছে ৪৬ জন এবং ছাড়া পেয়েছে ১৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে ৯ হাজার ৭৫৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২০৪ জনকে এবং ছাড়া পেয়েছে ৩৫২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছে ৩১ হাজার ৫০৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে গত বছরের ৮ মার্চ ৩ জন করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। এর পর যতদিন যেতে থাকে ততই করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে এবং মে-জুন মাসে করোনার সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়। ওই সময়ে (পিকটাইম) একদিনে ৪ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং মারা গিয়েছিল ৫০ জনের বেশি। তখন রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ। করোনার সংক্রমণের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। কিছুদিন সংক্রমণ কমলেও নভেম্বর মাসে আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। এরপর কিছুদিন সংক্রমণ বেড়ে ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে আবার সংক্রমণ কমতে শুরু করে। বর্তমানে করোনার সংক্রমণের হার ২ থেকে ৩ শতাংশে ওঠানামা করছে।

জানা গেছে, দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর সপ্তাহখানেক পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়। দেশের মানুষকে টিকা প্রদানের জন্য ৭ হাজার ৩৪৪টি টিমকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪০০ টিম দিয়ে দেশের ১ হাজার ৫টি হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব টিকাদান কেন্দ্রে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টিকা নিয়েছে ৮০ হাজার ৭৬১ জন পুরুষ এবং ৫৩ হাজার ৭২ জন নারীসহ মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে ১৫ জনের শরীরে মৃদু পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগভিত্তিক বলছে, গতকাল যারা টিকা নিয়েছে তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫০ হাজার ৩৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ হাজার ৩৭৮, চট্টগ্রামে ২৫ হাজার ৯৭৬, রাজশাহীতে ১৪ হাজার ৫৩, রংপুরে ১০ হাজার ৫১০, খুলনায় ১৭ হাজার ৬২৩, বরিশালে ৫ হাজার ৯৫ এবং সিলেটে ৫ হাজার ৮০৭ জন রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছে ২৯ লাখ ৮৪ হাজার ৭৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৬ এবং নারী ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৭ জন রয়েছে। যারা টিকা নিয়েছে তাদের মধ্যে ৭১১ জনের শরীরে মৃদু পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগে টিকা নিয়েছে মোট ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৭০, রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৩১, রংপুরে বিভাগে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৩, খুলনা বিভাগে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০০, বরিশাল বিভাগে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৫১ এবং সিলেট বিভাগে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯ জন রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে গত ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পরই সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মে টিকার নিবন্ধন শুরু করা হয়। ওইদিন থেকে গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৮৩৫ জন।

advertisement