advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

‘যেন জেলখানায় আছি’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২২:১৪
advertisement

নিউজিল্যান্ডে এখন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। তাদের ঘরবন্দি থাকতে হচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছানোর পর প্রথম দুই দিন তো ঘরের বাইরে বেরই হতে পারেননি তারা। প্রথম দফা করোনা পরীক্ষা দিয়ে রিপোর্ট নেগেটিভ এলে প্রথমবার তারা কিছু সময়ের জন্য মুক্ত বাতাসে বের হওয়ার সুযোগ পান। টাইগাররা এর পর থেকে প্রতিদিন ৩০ মিনিটের জন্য বের হওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। প্রথম তিন দিন হোটেলে তাদের একা থাকতে হয়েছে। ঘরবন্দি থাকার এ সময়টা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জীবনকে তিক্ত করে তুলেছে! মেহেদী হাসান মিরাজ তো একে জেলখানায় থাকার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এক ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘প্রথম তিন দিন রুমের ভিতরেই ছিলাম। তার পর সবাই আধাঘণ্টা করে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। গতকাল আমি যখন প্রথম বের হলাম, শুরুর দিকে মাথা একটু ঘোরাচ্ছিল, তার পর আস্তে আস্তে ১০-১৫ মিনিট পর ঠিক হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিন দিন যে ঘরের ভেতর বন্দি ছিলাম, আমার মনে হয়েছে যেন জেলখানায় আছি। পরে যখন বাইরে বেরিয়ে এলাম, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিলাম, তখন একটু ভালো অনুভব করলাম। যখন রুমে গেছি, তখন নিজেকে একটু ফ্রেশ মনে হয়েছে।’

করোনা-পরবর্তী প্রথমবার বিদেশ সফরে গেছে বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবেন তামিম, মাহমুদউল্লাহরা। আগামী ২০ মার্চ প্রথম ওয়ানডে দিয়ে মাঠে গড়াবে নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যেকার সিরিজ। তবে কোয়ারেন্টিন ঝামেলার কারণে এক মাস আগেই নিউজিল্যান্ড গেছে টাইগাররা। কোয়ারেন্টিন শেষে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ক্যাম্পও করবেন তারা। সফরে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফসহ প্রায় ৩৫ সদস্যের বহর গেছে নিউজিল্যান্ড। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ছাড়েন তারা। ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছেছেন ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে। এর পর থেকেই সেখানে কোয়ারেন্টিনে আছেন তামিমরা। কোয়ারেন্টিনের সাত দিন শেষ হলে সীমিত পরিসরে অনুশীলনের সুযোগ পাবেন তারা। মিরাজরা এখন জিম ও অনুশীলন করতে মুখিয়ে আছেন। কোয়ারেন্টিনের সময়টা কেমন কাটছে- তা জানাতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘এই প্রথম হোটেলের ভেতর এরকম পাঁচটা দিন কাটিয়েছি। প্রথম দিকে সময় কাটছিল না। প্রথম তিন দিন তো কারও সঙ্গে দেখাই হয়নি। সবার সঙ্গে ফোনে ফোনে কথা হয়েছে। আমরা সবাই রুম টু রুম ভিডিও কলে কথা বলেছি। প্রথমদিকে বোরিং লাগছিল, সময় কাটছিল না। এখন যেহেতু পাঁচদিন কেটে গেছে, আশা করি আরও তিনদিন কেটে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমরা জিম ও মাঠে যেতে পারব, তখন আমাদের ভালো লাগবে। এখন হয়তো সময়টা কাটছে না। জিম যদি ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে আমাদের জন্য সহজ হতো, সময়টা কেটে যেত, বডি ফিটনেস ভালো হতো।’

এর আগে তাসকিন আহমেদ বলেছিলেন, এমন অভিজ্ঞতা থেকে দ্রুত মুক্তি চান তারা। জাতীয় দলের এই পেসার বলেন, ‘এরকম আইসোলেশন ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। এর আগে কখনই এরকম সময় কাটানো হয়নি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর আমরা ৩০-৪০ মিনিটের জন্য ২ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটার সুযোগ পেয়েছি। এখন আবার রুমে এসেছি। তা-ও ভালো লাগছে যে, টানা দুদিন প্রায় রুমে বন্দি অবস্থা থেকে বের হতে পেরেছি। প্রথম করোনা পরীক্ষার ফল সবার নেগেটিভ এসেছে, এর পর হাঁটতে দিয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা বাকি আছে। এর পর আমরা প্রস্তুতি শুরু করতে পারব। সবকিছু মিলিয়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। যত দ্রুত এই অভিজ্ঞতা শেষ হবে, ততই ভালো।’

advertisement