advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ
সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে নজর দিতে হবে

১ মার্চ ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২২:৩৫
advertisement

এটা আনন্দের সংবাদ যে, বাংলাদেশ অচিরেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হতে চলেছে। জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার স্বীকৃতি তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য সব সূচকে আমরা প্রথম অর্জন করি। এই তিন বছরে আমরা সূচকের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত পাঁচ দশকে এশিয়া ও আফ্রিকার অন্য দেশের তুলনা আমাদের অর্জনটা প্রশংসনীয়। গত ছয় বছর যেমন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আগামী পাঁচ বছরও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হওয়ার পর যেসব ক্ষেত্রে চাপ থাকবে তার মধ্যে প্রথমেই বলা হচ্ছে রপ্তানি খাতের কথা। বিশ্ববাজারে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা শেষ হয়ে যাবে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ এখন রেয়াতি সুদের ঋণ পায়। এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর তা পাওয়া যাবে না। ফলে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক সুবিধা, মেধাস্বত্ব সুবিধা ইত্যাদি কমে যাবে কিংবা উঠে যাবে। ফলে বিশ্ববাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। দেখা গেছে, এ ধরনের নানা কারণে অনেক দেশ এলডিসির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সমস্যায় পড়েছে। তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে; রপ্তানি, বিদেশি সহায়তা, রেমিট্যান্সও কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হবে। এ ছাড়া গত দুই-তিন বছরে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব শুধু অর্থনীতি নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও পড়বে। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এখনই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করতে হবে, সেজন্য জ্বালানি ও অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করতে হবে। রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাকের ওপর অধিক নির্ভরতা নয়, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। মানবসম্পদের গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে সুদক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে নজর দিতে হবে।

advertisement