advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আবেগ নয়, বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা প্রয়োজন

জাহীদ রেজা নূর
১ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২২:৩৫
advertisement

স্বাধীনতা ঘোষণার মাস এলে একই কথার পুনরাবৃত্তি শোনা যায়। সারা বছর ধরেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারত, লেখালেখি চলতে পারত, কিন্তু তা হয় কম। আমাদের গবেষণার জগৎটা এখনো এতটা পরিপক্ব নয় যে, চাইলেই সত্যিকার ইতিহাস উঠিয়ে আনা যাবে। তা হলে কি এসব ব্যাপার লোক দেখানো? মাসটা শেষ হলেই আমার কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া- শীতনিদ্রা? না। এই হঠাৎ জেগে ওঠারও একটা মানে আছে।

প্রতিবছরই নতুন নতুন মানুষ নতুনভাবে ইতিহাসসংলগ্ন হচ্ছে। যারা ইতিহাসের পথটা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা পড়াশোনার মাধ্যমে মসৃণ করে নিয়েছে, তাদেরও তো বয়স বাড়ছে। একটা প্রজন্ম পৃথিবীর সঙ্গে তাদের বন্ধন ছিন্ন করছেন। আর কিছুকাল পর মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী কিংবা সে সময় কোনো না কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় টিকে থাকা মানুষও থাকবে না। যারা সে সময়টিতে ছিলেন, তারা কি ঠিকভাবে পরের প্রজন্মের কাছে ইতিহাস পৌঁছে দিতে পারছেন? এ নিয়ে আরও অনেক কাজ বাকি আছে।

২. আমরা সবাই জানি, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসটা ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ছয় দফার মাধ্যমে যে গণজাগরণের সূচনা, তারই ফল ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন। সে নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। পাকিস্তার রাষ্ট্র পরিচালনার ভার পেতে যাচ্ছেন শেখ মুজিব। দেশের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ইতোমধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু তার পরই পাশার চাল উল্টে গেল। ইয়াহিয়া-ভুট্টোর ষড়যন্ত্রে রাজনীতিতে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলো, তাতে সময়ের চেয়ে একটু আগেই সরাসরি স্বাধীনতার প্রসঙ্গ চলে এলো। বঙ্গবন্ধু বরাবরই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি অনুসরণ করেছেন। সোহরাওয়ার্দীই তার নেতা। কিন্তু আইয়ুবী শাসন শুরু হওয়ার পর কখনো কখনো বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র আন্দোলনের কথাও ভেবেছেন। কারও কারও সঙ্গে এ ব্যাপারে পরামর্শও করেছেন। কিন্তু সেসব ছিল তার বিচ্ছিন্ন ভাবনা। এই ভাবনা তাকে গ্রাস করেনি। নির্বাচনে বিজয়ের পর নিয়মতান্ত্রিক পথে এগিয়েই তিনি পৌঁছে যাবেন কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে- এই বিশ্বাস তার ছিল।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সব দিক থেকে তৈরি হয়ে স্বাধীনতার ডাক দেবেন। স্বাধীনতাই ছিল তার লক্ষ্য। দেশে আরও নেতা ছিল, কিন্তু তাদের কারও নির্দেশেই বাংলার সব মানুষ একাট্টা হয়নি। স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে একমাত্র শেখ মুজিবই দিতে পারতেন। একমাত্র তার কথাই দেশের আপামর মানুষ মেনে নিতেন, আর কারও কথা নয়, এ কথা না বুঝলে আমাদের ইতিহাস বোঝায় শূন্যতা থেকে যাবে।

অনেকেই মওলানা ভাসানীর বিভিন্ন সময়ে বলা কথাকে স্বাধীনতার সূচনাবাক্য বলে আখ্যা দিতে চান। কিন্তু বিভিন্ন সময় ভাসানী চরিত্রের বিভিন্ন বিচিত্র রঙ তাকে জনগণের আস্থায় আনতে দেয়নি। বিশেষ করে আইয়ুব খানের সঙ্গে আঁতাত, ইয়াহিয়ার সঙ্গে মিলে নির্বাচন বিষয়ে টালবাহানা, মার্কসবাদ-ইসলাম বিষয়ে তার অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ইত্যাদিই বুঝিয়ে দেয়, তার মতো দোদুল্যমান চরিত্রের নেতা আসলে দেশের কাক্সিক্ষত নেতা হয়ে উঠতে পারেন না। জনগণের একটা বিরাট অংশের কাছে মওলানা ভাসানীর গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও পুরো জাতির কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা পাননি, যেটা পেয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান। দেশে শক্তিশালী বাঙালি আমলাতন্ত্র হবে, দাঁড়িয়ে যাবে বাঙালি শিল্পপতিরা, কল-কারখানা হবে এই ভূখ-ে, বাঙালি অর্থনীতিবিদরা পরিকল্পনা দেওয়ার মতো পরিপক্ব হবেন, সেনাবাহিনীতে বাঙালিরা নেতৃত্বস্থানীয় জায়গায় উঠে আসবেন, কৃষি ও শিল্পে সামঞ্জস্য আসবে, রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করবেন এবং তার পর বঙ্গবন্ধু বিদায় জানাবেন পাকিস্তানকে। ২৩ বছরের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হলে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সেটার কথা তিনি ভাবতেন। ১৯৬৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া প্রতিটি ভাষণেই এই ইঙ্গিত প্রচ্ছন্ন আছে। লাহোর প্রস্তাবের কোনো লঙ্ঘন তিনি করছেন না, সে কথা বারবার বলেছেন বক্তৃতায়। এ কারণেই তিনি উগ্র জাতীয়তাবাদীদের প্ররোচনায় ৭ মার্চ সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে প্রমাণ করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সুযোগ খুঁজছিল ইয়াহিয়া গং। বঙ্গবন্ধু কী অসাধারণ ভঙ্গিমায় ‘যদি’র আবরণে তার মনের সব কথা বলে দিলেন! জাতি পেয়ে গেল দিকনির্দেশনা, পাকিস্তান সরকার তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী অভিধা দেওয়ার সুযোগ হারাল।

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো অপারেশন সার্চলাইট নামের ভয়াবহ ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞের কারণে সে রাতেই (রাত ১২টা পেরিয়ে যাওয়ায় ২৬ মার্চ) বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন। ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। অবশ্য এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, ৭ মার্চের ভাষণেই যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, তাতে আর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার প্রয়োজন পড়ে না। সেটাই ছিল সবুজ সংকেত। শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়া আর কারও নামে সে ঘোষণা কোনো ধরনের গ্রহণযোগ্যতা পেত না। নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানই ছিলেন একমাত্র নেতা, যার কথাই তখন আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব বিবেচনায় নিতে পারে, আর কারও কোনো কথা নয়। ফলে স্বাধীনতার ঘোষণা বিষয়ে অযাচিত যেসব বিতর্কের দেখা পাওয়া যায়, অদূর না হোক, সুদূর ভবিষ্যতে সেসব বিতর্কের জায়গা হবে আঁস্তাকুড়ে।

আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বাঁক পরিবর্তনকারী দুটি তারিখ হলো ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চ। এই দুটো দিনই মূলত পাকিস্তান সরকারের অবিবেচক আচরণের ফল। তাদের হটকারী সিদ্ধান্তই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে। ছাত্রদের ওপর গুলি না চালালে ২১ ফেব্রুয়ারির ব্যাপ্তি ঢাকা ছাড়িয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ত না, ২৫ মার্চ রাতে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু না করলে ঠিক এই সময়েই স্বাধীনতার ডাক আসত না। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য আসছে সেটা বঙ্গবন্ধু জানতেন। ইয়াহিয়া-ভুট্টোর ষড়যন্ত্রও আঁচ করতে পারছেন। আর তাই থমথমে পরিস্থিতিতে তিনি তখন স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই দুটি দিনই আমাদের জাতীয় পরিচয়কে সুসংহত করেছে। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছে, তা বাঙালির বীরত্বপূর্ণ অঙ্গীকারকে সফল করার পথে পা বাড়িয়েছে। এই পুরো সময়টির ইতিহাস তথ্য-উপাত্তসহ ধরে রাখা প্রয়োজন। মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত খারিজ করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

৩. মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩টি। ৩০০টি সাধারণ আসন আর বাকিগুলো সাধারণ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত ১৩টি মহিলা আসন। বাংলাদেশে ছিল ১৬২টি সাধারণ আসন ও ৭টি মহিলা আসন। ৭ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের ১৫৩টি আসনে নির্বাচন হয়। দক্ষিণ বাংলার উপদ্রুত উপকূলের ৯টি আসনে নির্বাচন স্থগিত ছিল। ১৫৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৫১টি আসন লাভ করে। কিছুদিন পর স্থগিত ৯টি আসনে আওয়ামী লীগই নির্বাচিত হয়। ফলে নারী আসনসহ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা ছিল ১৬৭টি।

পশ্চিম পাকিস্তানের ১৪৪টি আসনের মধ্যে মহিলা আসনসহ জুলফিকার আলী ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন। এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, পূর্ব পাকিস্তানে যেমন পিপিপি কোনো আসন পায়নি, তেমনি পশ্চিম পাকিস্তানেও আওয়ামী লীগ কোনো আসন পায়নি। পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষের মনস্তত্ত্বের বিষয়টি কিন্তু এই ব্যাপার থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৪. নির্বাচনের পর ১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ছয় দফাভিত্তিক শাসনতন্ত্র পাকিস্তানের অঞ্চলে অঞ্চলে ও মানুষে মানুষে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেবে। সেদিন পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনার জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট শাসনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। তা থেকেই স্পষ্ট হয়, পশ্চিম পাকিস্তানি নেতারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবে না।

১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা জনগণের সামনে শপথ নেন। ১১ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন ইয়াহিয়া, দুদফা বৈঠক করেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে, ১৪ জানুয়ারি ঢাকা ত্যাগের আগে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী নামে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু সেটা যে কথার কথা ছিল, সেটা আমরা পরে বুঝতে পারি, যখন জানতে পারি যে, ঢাকা ত্যাগ করে পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে প্রথমেই তিনি লারকানায় দেখা করেন ভুট্টোর সঙ্গে। এর পর ইয়াহিয়া-ভুট্টোর পথ ছিল ষড়যন্ত্রের।

৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে বলা হয়েছিল। কিন্তু ১ মার্চ ১১টা ৫ মিনিটে ইয়াহিয়ার বিবৃতি পাঠ করেছিলেন একজন বেতার ঘোষক। জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা হলো।

এই বিষয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের ভাবনা ও সত্যিকার ইতিহাসের তুলনামূলক আলোচনা করে একটি বিশ্লেষণী বিবরণ তৈরি করা যায়। তাতে বাঙালি সম্পর্কে পশ্চিম পাকিস্তানিদের ধারণা ষ্পষ্ট হবে এবং আমরা যে ঠিক পথেই চলেছিলাম, সেটা নিশ্চিত করা যাবে। এর পরের ইতিহাস সবার জানা। বাংলাদেশ সম্পৃক্ত যে কোনো ইতিহাসের বই খুললেই এর পরের ঘটনা পড়ে নেওয়া যাবে। আমরা শুধু কয়েকটি কথা বলে আজকের আলোচনার ইতি টানব।

৫. এতক্ষণ যা বলা হলো, তা একজন জাতীয় নেতা হয়ে ওঠার গল্পের কিয়দংশ। সে সময়ের পত্রপত্রিকার দিকে চোখ রাখলেই সে সময় কী ঘটেছিল, তা জানা যাবে। আমি আরেকদিকে দৃষ্টি ফেরাতে চাই। আমাদের দেশে গবেষণার কাজ খুব কম হয়। একটি ঘটনার পেছনের ঘটনাগুলো তাতে বাদ পড়ে যায়। আমার মনে হয়, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে আমাদের সে দিকটায় চোখ রাখা দরকার। কয়েকটি ব্যাপার লিখে রাখছি। এ ছাড়া আরও অনেক সূক্ষ্ম ব্যাপার রয়েছে, যা হয়তো অনুসন্ধিৎসু মানুষ সবার নজরে আনবে।

ক. বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন আইসবার্গের ওপরের অংশ। আরও অনেক মানুষের সঙ্গে তার যুক্ততাই তাকে জাতীয় বীরে পরিণত করেছিল। আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনীতির কথা আলোচনায় এলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, আবুল হাশিম, শামসুল হকসহ অনেকের কথাই বলতে হবে। সেই সঙ্গে মণি সিংহ, কামরুদ্দিন আহমদ, মোজাফফর আহমদ, অলি আহাদদের কথাও থাকতে হবে। পরবর্তীকালে ছয় দফা দেওয়ার পর থেকে তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কামারুজ্জামানদের কথা বলতে হবে। আমেনা খাতুনের নাম আলাদা করে বলতে হবে (পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিলেও ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুসহ আওয়ামী লীগের জাতীয় পর্যায়ের নেতারা গ্রেপ্তার হয়ে গেলে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমেনা বেগমের ভূমিকা ছিল বিশাল)।

ছাত্রলীগের নেতাদের কথাও অনুল্লেখ্য রাখলে চলবে না। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সিরাজুল আলম খান, নূরে আলম সিদ্দিকী. তোফায়েল আহমেদ, আবদুল কুদ্দুস মাখনদের কথা আসতে হবে।

সাংবাদিকদের মধ্যে মূলত তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এবং সিরাজুদ্দীন হোসেনের কথা আলাদাভাবে আসতে হবে। উপসম্পাদকীয় লিখে ইত্তেফাকের মানিক মিয়া এবং সংবাদকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করে ওই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেন আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। এ ছাড়া জহুর হোসেন চৌধুরী, আবদুস সালাম, কেজি মুস্তাফা, এবিএম মূসা, আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরী প্রমুখের কথাও আলোচনায় আসতে হবে। সিএসপি অফিসার রুহুল কুদ্দুস, অর্থনীতিবিদ নূরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, রেহমান সোবহান প্রমুখের কথাও আলোচনায় আনতে হবে। তাদের প্রায় প্রত্যেকেই ছয় দফা নিয়ে বই লিখেছেন। ফলে সে লেখাগুলোর মূল্যায়ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আর হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হলে ছাত্রলীগের ইতিহাস জানাটাও প্রয়োজন। কারণ ১৯৪৮ সালে জন্মলাভের পর থেকেই ছাত্রলীগই আওয়ামী লীগকে পরিপুষ্ট করেছে এবং ১৯৬৬ সালের পর থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলনে ছাত্রলীগের ছিল অসাধারণ ভূমিকা।

এই গবেষণাগুলো শুরু হোক। ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করে না রাখলে (সেটা ডিজিটালাইজডও হতে হবে) জাতি এক সময় ভুল ব্যাখ্যার কাছে হেরে যাবে। আমরা চাই বা না চাই, গোয়েবলসীয় প্রচারণা এখনো বুক ফুলিয়েই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশে দেশে। মিথ্যা প্রচারণাকে হারিয়ে দেওয়ার একটাই পথ- তথ্যপ্রমাণসহ সত্যকে সামনে নিয়ে আসা। আবেগ নয়, তথ্যপ্রমাণই সত্যকে ঋজু রাখতে পারবে।

জাহীদ রেজা নূর : কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক

advertisement